|

রিয়া-টিয়ার বন্ধুত্ব

Published: Thu, 26 Sep 2019 | Updated: Thu, 26 Sep 2019

রিয়া ছোট মেয়ে, সবে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তার বন্ধু বলতে শুধু বনের নিরীহ পশু-পাখি। পাখি পালন আরো বড্ড বেশি সখ তার। কোথাও কোনো পাখি দেখলে ধরার চেষ্টা করে, অমনি ধরে কোলে করে বাড়িতে নিয়ে আসে। তারপর শুরু হয় পাখির আদর আর যত্ম। 

কত সুন্দর করে খড়কুটো দিয়ে বাসা বানায়, ছোট্ট বাটিতে করে দানা খাবার খেতে দেয়। একদিন হলো কী, একটা পাখির ছানা ওদের বাড়ীর আঙ্গিনায় অসহায়ভাবে পরে থাকতে দেখে রিয়া দৌড়ে পাখিটার কাছে যায়। মাকে চেচিয়ে বলল, মা। মা। তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বাহিরে এসো, দেখো একটা পাখির ছানা কীভাবে বসে আছে। নড়তে পারছে না, ওর বোধ হয় খুব ক্ষুধা পেয়েছে, এসো না গো মা প্লিজ!

মা বললেন, যাচ্ছি তো রে বাবা। রিয়া তড়িঘড়ি করে রান্না ঘরে গিয়ে কিছু দানা খাবার নিয়ে মাকে সঙ্গে করে পাখি ছানার কাছে গিয়ে ওর শরীরে হাত বুলিয়ে দিল। কিন্তু পাখি ছানা একটুও নড়ল না। এরপর খাবার দানা ওর মুখের সামনে ধরল কিন্তু কিছুতেই অন্তত ঠোট দিয়েও একটু খাবার নাড়ল না। রিয়ার মাও পাখিটার গায়ে, মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। তবুও ছানাটি মাথা উঠালো না। শুধু একটা অব্যক্ত যন্ত্রণায় ছটফট করছিল পাখিটা।

রিয়া ওর মাকে বললেন, মা কী হবে এখন? রিয়ার মা বলল, তাই তো, বড্ড মায়া হচ্ছে রে। আচ্ছা রিয়া, তুই একটা কাজ কর। রিয়া প্রবল বিস্ময়ে সঙ্গে বলল, কী কাজ মা? 

রিয়ার মা বললেন, তুই তাড়াতাড়ি তোর বাবাকে ফোন কর যা। আজ বৃহস্পতিবার। রিয়ার বাবা একজন প্রাইমারি শিক্ষক। আজ অবশ্য আধাবেলা স্কুলের অফিস টাইম, তাই রিয়ার বাবা-মেয়ে ও
মায়ের প্রবল আর্জিতে তাড়াতাড়ি স্কুল থেকে বাড়ি চলে এলেন।

বাবা মেয়েকে নিয়ে বাইকে করে রওনা হলেন উপজেলা পশু হাসপাতালে। রিয়া একটা রুমালে ছানাকে জড়িয়ে আলতো করে কোলে নিয়ে বসা। ডাক্তারের কাছে পৌছানো মাত্রই ডাক্তার ছানাটিকে
দেখে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা দিতে শুরু করলেন। অমনি ছানাটি কিছুক্ষণ পর সামান্য সুস্থ হয়ে উঠলো। এদিকে রিয়ার ততক্ষণে পাখির নামটা রাখা নিয়ে বড্ড টেনশনে পড়ে গেছেন।

তড়িঘড়ি করে পাখিটির নাম রাখল টিয়া। পাখিটি ছিল শালিক পাখি। বেশ আনন্দিত হয়ে রিয়া বাড়ি ফিরল। টিয়াকে কোলে করে নিয়ে মার কাছে সব কিছু জানাল এবং সেই সঙ্গে টিয়ার নামের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল। মা রিয়ার কথা শুনে টিয়ার জন্য খুব সুন্দর একটা বাসা তৈরি করল। শোয়ানো হলো টিয়াকে খুব আদর যত্ম করে। রিয়া সারাদিন টিয়ার গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।

টিয়ার যত্ম করতে করতে মা-মেয়ের দিন বেশ ভালোই কাটছিল। বাবা, মা, রিয়ার সেবা যত্মে পুরো সুস্থ হয়ে উঠলো টিয়া। মাঝে মাঝে রিয়ার ভীষণ দুঃচিন্তা হয়, এই নিরীহ জীবগুলো কত কষ্ট  করে বাঁচে, আর কত অল্পতেই এরা কতই না খুশি হয়। এই এতো বাড়ি পৃথিবীতে, এরা কী একটু শান্তিতে বাস করতে পারে না? কেন প্রতিনিয়ত বিনা কারণে এদের শিকার করা হয়? এদের অপরাধটা কী?

 

আরিফ আনজুম
বাংলা বিভাগ
শিবগঞ্জ সরকারি এম এইচ কলেজ
শিবগঞ্জ, বগুড়া

অআই