|

স্কুলের বন্ধু

Published: Thu, 19 Sep 2019 | Updated: Thu, 19 Sep 2019

জারিন যখন স্কুলে ঢোকে তখন রোজ রোজ কুকুরটা এসে ওর গা ঘেঁষে দাঁড়াতে চায়। সকলের মতো জারিনও ভয় পায়। সত্যি তো, এতো ছাত্র-ছাত্রী স্কুলে ঢোকে তবে কুকুরটা কেন শুধু ওর গা ঘেঁষে থাকতে চায়? জারিন অবশ্য তখনি এসব ভাবার সময় পায় না। কেননা স্কুল গেটের দারোয়ান কাকা তাড়িয়ে দেয়- কেবল শুধু ওর কাজটুকু করে পালাবার জন্য। 

স্কুলে অবশ্য কোনো বন্ধুর সঙ্গেই এ বিষয়ে আলোচনা করেনি জারিন। জারিন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে প্রথমে আগে মাকে সে বলে ফেলল। স্কুল গেটের ওই যে কুকুরটার কথা। মার কপালটায় ভাঁজ পড়ে। মা অমনি বলে উঠলো, কামড়ালে? নখ, দাঁত যেন লেগে না যায়। কুকুর বলে কথা, তারমধ্যে আবার রাস্তার কুকুর তো। জারিন অবশ্য তার মায়ের কথায় ভয় পায়নি। কেননা কুকুরটা তো জারিনকে দেখে কখনো লাফালাফি করেনি। কেবল ওকে পছন্দ করে, ওর সঙ্গে সময় কাটাতে হয়তো খুব বেশি ভালো লাগে কুকুরটার, কে জানে।

তা করুক পছন্দ কাটাক সময়। কেবল শুধু স্কুলে ঢোকার সময়েই তো। তাছাড়া ওতো কোনো ঝামেলা করেনা। কেবল ওকে খুব ভালোবাসে। এমনটাই তো মনে হয়। তাছাড়া গেটে তো দারোয়ান কাকা থাকেই। খুব সমস্যা হলে তো কাকাই সব সামলে দিবে। জারিন অবশ্য আজকাল কুকুরটার জন্য দুএকটা বিস্কুটও নিয়ে যায়। এখন গা ঘেঁষে দাঁড়ালেই বিস্কুটটা দিয়ে দেয়।

বিস্কুট পেলে সে এক দৃষ্টে তাকিয়ে থাকে যতক্ষণ না জারিন স্কুল গেট পেরিয়ে ভিতরে প্রবেশ না করছে। গেটে প্রবেশ করলেই কুকুরটা বিস্কুট খায়। 

একদিন স্কুল ছুটির পর জারিন দেখে কুকুরটা লেজ নাড়ছে। সেদিন অবশ্য জারিনের পিছন পিছন অনেকটা পথ গেল। জারিন যেতে যেতে পিছনে তাকিয়ে হঠাৎ দেখে কুকুরটার গলায় একটা রশি মোড়ানো। এ দেখে জারিন অনুমান করল যে, আশপাশের কোনো ব্যক্তির পোষা কুকুর হবে এটা নিশ্চিত।

জারিন আজ স্কুল থেকে এসে কুকুরটার কথা ভেবে বেশ চিন্তায় মগ্ন। ইতিমধ্যে তার এক সহপাঠী বাড়িতে এসে জারিনের মাকে বলে গেল যে, জারিন রোজ রাস্তার কুকুরকে বিস্কুট
খেতে দেয়। মা তো আচ্ছা মতো বকল জারিনকে যে, কেন সে রাস্তার কুকুরকে বিস্কুট খাওয়ায়? যদি কামড় দেয়? বাবাও একই কথাই বলছে, কামড় দিতেই পারে।

দেখতে দেখতে অনেক মাস পেরিয়ে গেল। ইতিমধ্যে কুকুরটা মা হলো। ওর ফোলা পেটটা অনেকটা চুপসে আগের মতো হলো। ওর চারটা ছোট বাচ্চা নিয়ে জারিনের সঙ্গে দেখা করতে আসে। বাচ্চারা পেট পুরে মায়ের দুধ খায়। জারিনের খুব ভালো লাগে দেখতে।

হঠাৎ করে জারিনের বাবা অফিস থেকে এসে জানালেন যে, চাকরিতে তার বদলি হয়েছে। এখন পুরো পরিবার নিয়ে নতুন স্থানে যোগদান করতে হবে। জারিনের জন্য নতুন জায়গায়

নতুন স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থাও হয়ে গেছে। বাবার কথা শুনে জারিন আনন্দিত নয়, বিষাদ কেমন যেন উতালপাতাল করছে জারিনের বুকের ভিতরটা। নতুন জায়গায় স্কুল গেটে অন্য কোনো বন্ধু বসে থাকবে তো ওর জন্য? জারিনের চোখে জল আসে। বুকটা মোচড় দিয়ে উঠে। মনটা খুব খারাপ হয়।

লেখক: আরিফ আনজুম, বাংলা বিভাগ, শিবগঞ্জ সরকারি এম এইচ কলেজ, বগুড়া।

অআই