|

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী

Published: Sun, 26 Sep 2021 | Updated: Sun, 26 Sep 2021
(ফাইল ছবি)

কিংবদন্তি সুরস্রষ্টা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপমহাদেশের বাংলা সঙ্গীত জগতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এক কালজয়ী নাম। অসাধারণ সুর আর স্নিগ্ধ ও মোহনীয় কণ্ঠের ছোঁয়ায় তিনি বাংলা সঙ্গীতভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন, হয়ে উঠেন সঙ্গীতের বরপুত্র, হয়ে আছেন সুরের জাদুকর।

১৯৮৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এই মহান শিল্পী মৃত্যুবরণ করেন। কালজয়ী এই সঙ্গীতব্যক্তিত্ব সঙ্গীতশিল্পী ও সঙ্গীতানুরাগীদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে চিরভাস্বর হয়ে আছেন। শিল্পীসত্তাকে অক্ষুণ্ণ রেখে কি করে একজন ভালো মানুষ হওয়া যায়, সত্যিকারের মানুষ হয়ে ওঠা যায়- হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের জীবনজুড়েই তার উদাহরণ রয়েছে। আজও তিনি সুরের জাদুকর হয়েই বেঁচে আছেন বাঙালির মানবস্রোতে।

ভারতের কাশীর বেনারসে ১৯২০ সালের ১৬ জুন মামাবাড়িতে জন্মেছিলেন বাংলা গানের এই প্রথিতযশা শিল্পী। তার সুরেলা কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত আর আধুনিক গান আজও গেঁথে আছে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে। তিনি হিন্দি সঙ্গীত জগতে হেমন্ত কুমার নামে প্রসিদ্ধ। পঞ্চাশ-ষাটের দশককে আধুনিক বাংলা গানের স্বর্ণযুগ মনে করা হয়। আর হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে বলা হয় আধুনিক গানের প্রবাদ পুরুষ।

তার আদি নিবাস ছিল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার জয়নগরে। তার ছেলেবেলা কেটেছে জয়নগরের বহেডু গ্রামে তিন ভাই আর একমাত্র বোন নীলিমার সাথে। বাবা ছোট চাকরি করতেন। মা হাসিমুখে চার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে সামলাতেন সংসার। চব্বিশ পরগনা থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে‌ তার পরিবার কলকাতায় চলে যায়। বড় ভাই তারাজ্যোতি ছোটগল্প লিখতেন। হেমন্ত মেজো। হেমন্তের ছোটভাই অমল মুখোপাধ্যায় গান করতেন। কিছু বাংলা ছায়াছবিতে সঙ্গীত পরিচালনাও করেছিলেন এবং ১৯৬০-এর দশকে কিছু গানও গেয়েছিলেন।

ছয় ফুট দেড়ইঞ্চি লম্বা হেমন্ত কখনও ওস্তাদের কাছে গান শিখেননি। লোকমুখে শুনে শুনে গান তুলে নিতেন গলায়। টিফিন পিরিয়ডে স্কুলের ক্লাসরুমে বসে গান গাইতেন। একবার সেই গান শুনে ফেলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার। স্কুল থেকে প্রায় বিতাড়িত করে দিয়েছিলেন। পরে বাবা গিয়ে অনেক অনুরোধ করে সামাল দেন।

শিক্ষাজীবনে হেমন্ত ভবানীপুরের মিত্র ইন্সটিটিউশনে ছিলেন। সেখানেই তার সঙ্গে পরিচয় হয় কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের। হেমন্তকে রেডিওতে নিয়ে গিয়েছিলেন সুভাষ মুখোপাধ্যায়। শৈলেশ দাসগুপ্তর সহায়তায় ১৯৩৫ সালে ১৪ বছর বয়সে রেডিওতে প্রথম গান গাইলেন হেমন্ত। সুভাষ মুখোপাধ্যায় লেখা ও কমল দাশগুপ্তর সুরে গানটি ছিল ‘আমার গানেতে এলে, নবরূপ চিরন্তনী’।

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ‘পথের ক্লান্তি ভুলে স্নেহ ভরা কোলে তব মাগো, বলো কবে শীতল হবো’, ‘ও নদীরে, একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে’, ‘আয় খুকু আয়, আয় খুকু আয়’, ‘মুছে যাওয়া দিনগুলি আমায় যে পিছু ডাকে’, ‘ও আকাশ প্রদীপ জ্বেলোনা, ও বাতাস আঁখি মেলোনা’, ‘আমি দূর হতে তোমারেই দেখেছি, আর মুগ্ধ এ চোখে চেয়ে থেকেছি’, ‘এই রাত তোমার আমার, ঐ চাঁদ তোমার আমার…শুধু দুজনে’, ‘মেঘ কালো, আঁধার কালো, আর কলঙ্ক যে কালো’ এবং ‘রানার ছুটেছে তাই ঝুমঝুম ঘণ্টা বাজছে রাতে’।

-এমজে