|

ই-স্কুল অব লাইফ শিশু কিশোরদের জন্য শুরু করলো কোডিং শিক্ষার কোর্স

Published: Sun, 04 Jul 2021 | Updated: Sun, 04 Jul 2021

ই-স্কুল অব লাইফ (eSchool of Life), গ্লোবাল লার্নিং ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের একটি ই-লার্ণিং প্ল্যাটফর্ম শিশু কিশোরদেরকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অভিঘাত মোকাবেলায় উপযোগী করে গড়ার লক্ষ্যে গত ১ জুলাই, ২০২১ থেকে কোডিং শিক্ষার অনলাইন কোর্স শুরু করেছে। ঢাকা এবং চট্রগ্রামের বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের নামকরা প্রায় ৩৫টি স্কুল ও কলেজ থেকে ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সী মোট ৯০ জন শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করে। 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে শহিদ বীর-উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ, সানিডেল, সানবিমস, ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুল, এসএফএক্স গ্রিন হেরাল্ড স্কুল, ভিকারুননিসা নুন স্কুল এ্যান্ড কলেজ, গভ. ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, ওয়ার্ডব্রিজ স্কুল, বিআইটি, স্যার জনসন উইলসন স্কুল, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার, সেন্ট জোসেফ,গ্রিন ডেল, সাউথ ব্রিজ, এ্যাপল ট্রি ইন্টা. স্কুল, উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, মনিপুর স্কুল এ্যান্ড কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মিরপুর বাংলা উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল, চিটাগং গ্রামার স্কুল, আদমজি ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল, সাউথ পয়েন্ট স্কুল এ্যান্ড কলেজ, আইডিয়াল স্কুল, এক্সসেল একাডেমি, প্লে প্যান স্কুল, বিয়াম মডেল স্কুল, তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মাইলস্টোন স্কুল, কর্ডোভা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজ, বনশ্রী আদর্শ বিদ্যানিকেতন এবং ইন্ডিয়ান স্কুল সালালাহ, ওমান ইত্যাদি। 

ই-স্কুল অব লাইফের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফ্রেন্ডস এ্যালায়েন্স (DUFA) এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু সালেহ বন্ধু সংগঠন ও এলামনাই সংগঠন হিসেবে DUFA-এর পরবর্তী প্রজন্মকে ভবিষ্যৎমুখী কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য ডুফা পরিবারের জন্য বিশেষ অফারে এই কোর্স চালু করে। DUFA পরিবার ছাড়াও শহিদ বীর-উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজসহ অন্যান্য স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীরা এই কোডিং ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছে। 

কোডিং বিষয়ে জানার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দেয়। তাই প্রথম সেশানে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনেক অভিভাবকও অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন। অভিভাবকদের মধ্যে ডুফার প্রাক্তন মহাসচিব ড. সৈয়দ নেয়ামুল ইসলাম এবং ডুফা সদস্য সৈয়দা তাসলিমা তুহিন তাঁদের শুভেচ্ছা বক্তব্যে ই-স্কুল অব লাইফকে এ ধরনের যুগোপযোগী স্কিল শিক্ষার আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানান। আরও সংযুক্ত ছিলেন ই-স্কুল অব লাইফ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আতিক উল্লাহ মাসুদ এবং অভিভাবকদের মধ্যে আফজাল হোসেন সারোয়ার, মাহমুদুর রহমান মঞ্জু, রফিকউল্লাহ সানা রোমেল, ড. সুস্মিতা দাস, লুনা খান, ইশরাত জাহান শাহানা, জেসমিন আরা ভূঁইয়া জুঁথি, ব্যারিস্টার আফরোজা, ব্যারিস্টার কামরুন মাহমুদ, সহযোগী অধ্যাপক মাহবুব কায়সার, শরীফ বাচ্চু, তারেক শমি, ইয়াসিন আহমেদ ও আমেনা জাহেদ বাণীসহ আরও অনেক ডুফা সদস্য সংযুক্ত ছিলেন। 

কোডিং কোর্সটির প্রশিক্ষক হিসেবে রয়েছেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (আইইউবি)র কম্পিউটার সাইন্স এ্যান্ড ইন্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের প্রভাষক রোমাসা কাসেম। তিনি কৃতিত্বের সাথে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইন্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ পাস করেন এবং স্বর্ণপদক (গোল্ড মেডেল) অর্জন করেন। এক মাস ব্যাপী এই স্ক্র্যাচ কোর্সের পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে মেসাচুয়েটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)র সম্পূর্ণ নির্দেশনা অনুসরণে। ১২টি লাইভ অনলাইন ইন্টারেক্টিভ (সরাসরি অনলাইন মিথস্ক্রিয়ামূলক) ক্লাসে কোডিংয়ের এই মৌলিক কোর্সটি আগামী ২ আগস্ট ২০২১ তারিখে সম্পন্ন হবে। কোর্স শেষে প্রতিটি প্রশিক্ষণার্থীকে সনদ প্রদান করা হবে। তাছাড়া প্রতিটি অংশগ্রহণকারীকে বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ে প্রজেক্ট দেওয়া হবে যার মাধ্যমে তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতার মূল্যায়ন করা হবে। 

ই-স্কুল অব লাইফের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আতিক উল্লাহ মাসুদ বলেন, এই কোর্স নিয়ে তাঁদের একটি রিসার্চ পেপার (গবেষণা পত্র) তৈরি করার ইচ্ছা আছে। প্রথম সেশানে স্বাগত ভাষণে ই-স্কুল অব লাইফের সহপ্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আবু সালেহ বলেন, উন্নত দেশে কোডিং তাদের পাঠ্যক্রমের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কিন্তু আমাদের যেহেতু এখনও শিক্ষাক্রমের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তাই আমাদেরকে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগেই কোডিং শিখতে হবে। হতাশা ও আশাবাদের সংমিশ্রণে তিনি আরও বলেন, একদিকে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার রেজিস্টার্ড ফ্রিল্যান্সার বছরে ১০০ মিলিয়ন ডলার আয় করছে-এটি যেমন আশার দিক; অপরপক্ষে, হতাশার দিক হচ্ছে - বিআইডিএস-এর ২০২০ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে দেশে ৩৪% শিক্ষিত বেকার। এছাড়া আমাদের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পে অটোমেশনের ফলে লক্ষ লক্ষ লোক বেকার হয়ে পড়বে পর্যায়ক্রমে। তাই আমাদের আগামী প্রজন্মকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অভিঘাত সামাল দিতে ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের উপযোগী আইসিটি স্কিলস শেখাতে শিশু কিশোরদের জন্য ই-স্কুল অব লাইফ পর্যায়ক্রমে নিয়ে আসবে ডেটা সায়েন্স, ডেটা এনালাইসিস, মেশিন লার্নিং, বিগ ডেটা, প্রোগ্রামিং, ফ্রিল্যান্সিং, ফিনটেক, আইওটি, রোবোটিকস, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, অগমেন্টেড রিয়্যালিটিভিত্তিক কোর্স। 

ই-স্কুল অব লাইফ একটি ব্লেন্ডেড লার্নিং (অনলাইন এবং অফলাইন) প্ল্যাটফর্ম যা ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে প্রধানত পেশাগত দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়ে কর্পোরেট ট্রেনিং দিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি বহু বহুজাতিক, সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এই প্রথম শিক্ষা প্রযুক্তি (Edtech) স্টার্টআপ হিসেবে এ প্রতিষ্ঠানটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অংশীদার হতে শিশু কিশোরদের জন্য নিয়ে এলো কোডিং শিক্ষার কোর্স। আগ্রহীরা ই-স্কুল অব লাইফ-এর নিচে উল্লেখিত ওয়েবসাইট থেকে সব তথ্য পাবেন :
https://www.e-schooloflife.com
 

ডব্লিউইউ