|

মাটির উর্বরতা ফেরাতে প্রয়োজন জৈব সার

Published: Tue, 27 Oct 2020 | Updated: Tue, 27 Oct 2020

সজিব আহমেদ : ৫% জৈব পদার্থ আদর্শ মাটির অন্যতম উপাদান। মাটির উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে মাটির ৩-৫% জৈব পদার্থ অবশ্যই থাকতে হবে। মাটির বুনট ঠিক রাখতে, পানি ধারণ ক্ষমতা ও মাটিতে বায়ু চলাচল বৃদ্ধি করতে, মাটি ক্ষয়রোধ করতে,মাটির তাপমাত্রা শিকরের জন্য সহনীয় ও উপযুক্ত পর্যায়ে রাখতে, দীর্ঘ সময় যাবত গাছের জন্য পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করতে, মাটির বিষাক্ততা কমাতে, মাটিতে উপকারী অনুজীবের কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে মোটকথা  দীর্ঘস্থায়ীভাবে মাটির উর্বরতা ও উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে জৈব পদার্থের বিকল্প নেই। তাছাড়া ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সাথে ফসলের গুণগত মান বৃদ্ধি, গুদামজাতকরণ ও সংরক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও জৈব পদার্থের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। জৈব পদার্থ প্রয়োগ শুধু মাটির স্বাস্থ্যই ঠিক রাখেনা রাসায়নিক সারের প্রয়োজনও অনেক কমিয়ে দেয়। 

মানুষ যেমন যৌবন হারালে বেরঙ্গিন, রসহীন হয়ে যায় তেমনি এদেশের মাটিও  জৈব পদার্থের অভাবে প্রায় যৌবন হারিয়ে অন্তঃসারশূন্য, রসহীন পাথরসদৃশ হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ কমে গড়ে ২% এর নিচে চলে এসেছে, কোথাও তা ১% এরও নিচে গিয়ে ঠেকেছে।  আগের মতো এখন আর এদেশের মাটিতে সহজেই ফসল ফলেনা।  অধিক ফসল ফলাতে অনেকেই জৈব সার বাদ দিয়ে শুধু রাসায়নিক সারের পিছনে ছুটছে। ফলে মাটিতে সৃষ্টি হচ্ছে বিষাক্ততা আবার জৈব পদার্থের অভাবে মাটির আয়ন আদান-প্রদান ক্ষমতা হারিয়ে এ রাসায়নিক সারের কার্যকারিতাও কমে আসছে। জৈব সার প্রয়োগে এ অনীহা দেশের কৃষিতে অশনিসংকেত। বন্যার পলি না পড়লে হয়তো এখনই অনেক অঞ্চলের মাটি থেকে ফসল ফলানো দুরূহ হয়ে পড়তো। বিজ্ঞানীরাও আশংকা করছে দুই-তিন দশক পর হয়তো এ মাটি তার উর্বরাশক্তি একেবারেই হারিয়ে ফেলবে।

এ আশংকাজনক অবস্থায়  কৃষিসংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন হয়ে কৃষকদের শুধু রাসায়নিক সারের উপর নির্ভর না হয়ে জৈব সার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মাটির উর্বরা শক্তি হ্রাসের এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হবে। এজন্য কৃষকদের জমিতে খামারজাত সার, গোবর সার, কেঁচো সার, কচুরিপানা সার, আবর্জনা পঁচা সার, সবুজ সার, খৈল, ছাই, হাড়ের গুড়া, হাঁস- মুরগির বিষ্ঠা প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাছাড়াও  ধৈঞ্চা, শনপাট, শিম, ডালজাতীয় শস্য চাষ করে সবুজ অবস্থায় মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া, ফসলের অবশিষ্টাংশ জমিতেই ফেলা রাখা, মালচিং পদার্থ  হিসেবে জাবরা প্রয়োগ এবং মাটিতে মিশিয়ে দেওয়াসহ মাটিতে জৈব পদার্থ বৃদ্ধি ও সংরক্ষণে কার্যকরী ও বাস্তবসম্মত পরামর্শ দিতে হবে। মনে রাখতে হবে সুষম মাত্রায় রাসায়নিক ও জৈব সার প্রয়োগ করে মাটির উর্বরতা ও উৎপাদনশীলতা ফেরাতে না পারলে আগামীতে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বাধার সম্মুখীন হবে। 


লেখক: শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

 

/এসিএন