|

কৃষি অফিস থেকে মাঠের দূরত্ব কত?

Published: Tue, 20 Oct 2020 | Updated: Tue, 20 Oct 2020

সজিব আহমেদ : কৃষিকে এগিয়ে নিতে সরকারের উদ্যোগের শেষ নেই। নতুন নতুন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে সেখানে আধুনিক কৃষি শিক্ষা প্রদান, নতুন ফসলের জাত, উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবন, বিভিন্ন পর্যায়ে কর্তৃপক্ষ সৃষ্টি করে নতুন নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন , সার্বিক তদারকি ও সম্প্রসারণ করতে জাতীয় পর্যায় থেকে বিভাগ, জেলা, উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ, কৃষি অগ্রগতিকে আরো বেগবান করতে সরকারি ঋণ, ভর্তুকি, অধিক ফলনশীল বীজ সার প্রদান করা হচ্ছে। কিন্তু যাদের জন্য এতো আয়োজন সেই কৃষকের কাছে এসব কতটা কার্যকরী ও অর্থবহ তা আজ ভাববার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

কৃষি বিষয়ের শিক্ষার্থীকে একেকটা ফসল, মাছ, অর্থনৈতিক প্রাণীর অগুনতি জাত, নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তির নাম মুখস্থ করতে করতে হাফিয়ে উঠতে হয়। অথচ যাদের জন্য এতো কিছু সেই কৃষকের অধিকাংশই এখনো আদি প্রযুক্তিতে ভর করে পড়ে  আছে একটাই জাত নিয়ে যদিও তাদের ব্যবহৃত প্রযুক্তি, জাতের চেয়ে অধিক ভালো অনেক জাত ও প্রযুক্তিই এখন বাজারে এসে গেছে। যদি কৃষকের কাছে না-ই পৌঁছায়, নাই গ্রহণ করে তাহলে এতো এতো টাকা খরচ করে নতুন জাত, উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দরকার কী? সময়ের সাথে, দেশের অগ্রগতির সাথে পাল্লা দিয়ে এসব উদ্ভাবন আদৌ কি কৃষি ও কৃষকের জন্য মঙ্গল বয়ে আনছে নাকি সেটা থাকছে শুধু জার্নাল, ওয়েবসাইট, আর্টিকেল আর বইয়ের পাতায়? 

কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি নতুন জাত, প্রযুক্তি উদ্ভাবন করলে শুধু বাহবা দিয়ে কৃষির অগ্রগতি সম্ভব নয়। কৃষি আধুনিকায়নে ও অগ্রগতির জন্য  উদ্ভাবনের চেয়ে বেশি জরুরি সম্প্রসারণ। কিন্তু দুঃখের কথা হলো ব্যর্থতার পাল্লা এখানেই বেশি। গাদা গাদা নয়; গ্রহণ উপযোগী, আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্মত, কৃষক ও পরিবেশবান্ধব দুই চারটে জাত, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণই কৃষিতে বিপ্লব আনতে পারে।  

কৃষি সম্প্রসারণ করতে সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায়ে যে লোক নিয়োজিত করে রেখেছে তাদের সাথে কৃষকদের সম্পর্ক কেমন? লাভজনক জাত,  প্রযুক্তি যে বাজারে এসেছে কয়জন কৃষক জানে? সরকার থেকে তাদের জন্য যে অধিক উৎপাদনশীল ফসলের জাত, সার, প্রযুক্তি আসে সেটা হয়তো গুটিকয়েক কৃষক ছাড়া কেউ জানেই না। 

কৃষকের সাথে তাদের কেন এতো দূরত্ব এই প্রশ্নের অনেক উত্তর আছে তাদের কাছে। ‘কৃষক শুধু নগদ ছাড়া কিছু বুঝে না, গাড়ি নাই যাতায়াতে সমস্যা, অফিসের কাজ সামলে মাঠে আসা কঠিন, নতুনে আগ্রহ কম, নেতা-জনপ্রতিনিধি সমস্যা করে ইত্যাদি ইত্যাদি’। মাঠপর্যায়ে এই মুখস্ত সমস্যাগুলো নেই তা বলবো না কিন্তু যে মাত্রায় আছে তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব শুধু দরকার আগ্রহের। 

একজন মাঠকর্মীর সপ্তাহে ৪ দিন মাঠে আসার কথা, একজন সম্প্রসারণ অফিসারের অন্তত ১ দিন মাঠে আসার কথা কিন্তু হারিকেন জ্বালিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সরকারি সহযোগীতা,উদ্ভাবন সব হচ্ছে, শুধু হচ্ছেনা সম্প্রসারণ। এভাবে তৈরি দূরত্বের ফলেই নতুন জাত, উন্নত প্রযুক্তি মাঠে না পৌঁছে থেকে যাচ্ছে অফিসের ফাইলে। প্রশ্ন হলো কৃষি অফিস থেকে এই কৃষি মাঠের দূরত্ব কত? 

লেখক: শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

/এসিএন