|

হামরা এত্তি থাকমো, খালি তোমরা অ্যাকনা ভাঙ্গনটা ঠ্যাকাও বাবা!

Published: Sat, 15 Aug 2020 | Updated: Sat, 15 Aug 2020

মো. আশরাফুল আলম, গাইবান্ধা (বিশেষ সংবাদদাতা) : ‘‘হামরা এত্তি থাকমো, খালি তোমরা অ্যাকনা ভাঙ্গনটা ঠ্যাকাও বাবা’’ এমনিভাবে আকুতি বিলাপ করছিলেন গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গো-ঘাট গ্রামের মাঝিপাড়া গ্রামের রোববাড়ি বালা। তিনি প্রায় ৫০ বছর বাস করছেন এই গ্রামে। বাবা, দাদা, নাতী, নাতনীর সময় পার করে এখন ব্রম্মপুত্র নদীর ভাঙ্গনের কবলে পরে কষ্টের কথা জানাচ্ছিলেন। 

গতকাল ১৪ আগষ্ট সরেজমিনে নদী ভাঙ্গনকৃত এলাকা ঘুরে দেখা যায় এমনচিত্র। জুলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারনে বিশ্ববায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় অত্যাধিক বরফগলা, অধিক পরিমানে বৃষ্টি আর নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সৃষ্টি হয় অতিমাত্রার বন্যা। গাইবান্ধা অঞ্চল এরমধ্যে অন্যতম। 

বলা যায় প্রতিবছরই বন্যা আর ব্যাপক নদী ভাঙ্গনের সাথে লড়াই করে এই অঞ্চলের মানুষের বাসবাস। নদী ভাঙ্গনের চিত্র বন্যার আগে এবং পরে স্বল্প মাত্রায় দেখাগেলেও মাঝে মাঝে এর ভয়াল থাবায় অনেক পরিবারকে নিঃশ্ব হয়ে পথে বসতে হয়। 

কামারজানির গো-ঘাট গ্রামের বাসনা রাণী জানায়, ‘‘প্রায় ১০০ বছরের পুরনো এই গ্রাম। এখানে প্রায় ৭ শতাধিক পরিবার বাস করত, প্রায় বেশিরভাগই নদীতে মাছ শিকার করে জীবন যাপন করে। গত প্রায় ১৫ দিনে  শতাধিক পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে হারিয়েছে ঘরবাড়ি গাছপালা সহায়সম্পদ। যাদের বাড়ি ঘর ভেঙ্গে গেছে তাদের কেউ অন্যের ঘরে, কেউ পার্শ্ববর্তী জমিতে অস্থায়ীভাবে টিনের সেড তুলে, কেউ কেউ আবার পাশের কোন স্কুল অথবা ক্লাব ঘরে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়ে কোন রকমে দিন পার করছে।’’

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড এর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মাজিবর রহমান জানালেন- ‘‘ভাঙ্গনকৃত এলাকা ইতিমধ্যেই জরিপ করে জিও ব্যাগ ফেলানো শুরু করা হয়েছে, নদীর গভীরতা বেশি হওয়ায় কাজের অগ্রগতিতে বেশ সময়ক্ষেপণ হচ্ছে,  গত ২ দিনে প্রায় ১০ হাজার  জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় সুত্রে প্রয়োজনীয় সবকিছু করার জন্য নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে, আরও প্রায় ৩০ হাজার ব্যাগ ফেলের লক্ষমাত্রা নিয়ে ভাঙ্গন রোধের কাজ চলমান রয়েছে’’। 

তিনি আরও জানান ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মতিন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এর উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী (রংপুর বিভাগ) জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ, সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে সবরকম নির্দেশনাও দিয়েছেন।  
নদী ভাঙ্গনরোধের চেষ্টা চলেেছ তবে ইতিমধ্যেই সহায়সম্বল হারানো পরিবারগুলি পরেছে বিপাকে। নলকুপ, ল্যাট্রিনসহ বিভিন্ন ব্যবহারযোগ্য উপকরণ নষ্ট হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। প্রসঙ্গক্রমে এমনি আকুতি জানালেন ভাঙ্গনকৃত এলাকার বাসনা রাণী। 

তিনি বল্লেন ‘‘বহু গুলা ঘর বাড়ি নদীতে গেইছে, কেও কেও ঘর ভাঙ্গি নিয়্যা মানুষের জাগাৎ আচে, তাগোরের ঘর ম্যারামোত করান্নাগবে,তারা অ্যালা ট্যাকা কোটে পায় বাবা, তোমরা অ্যালা একনা চেয়ারম্যানোক মেম্বরোক কন বাবা, জ্যানো হামার ঘরোক অ্যানা সাহায্য সহযোগিতা করে’’। 

বিষয়টি প্রাশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি গোঁচর হলেই এবং যাথাযথ পরিকল্পনা গ্রহন করার মাধ্যমেই নদী ভাঙ্গনের শিকার পরিবারগুলিও কষ্ট ভূলে নিজ ভূমিতেই সাধারণ মানুষের মতই স্বাভাবিক জীবন যাপনে আবার ফিরতে পারবে বলে স্থানীয়  এলাকাবাসী মনে করে।

আইআর /