|

২৮ মার্চ অর্ধদিবস হরতালে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের সমর্থন

Published: Sun, 20 Mar 2022 | Updated: Sun, 20 Mar 2022

দ্রব্যমূল্যের ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধ ও মানুষকে বাঁচানোর দাবিতে ২৮ মার্চ বাম গণতান্ত্রিক জোট দেশব্যাপী অর্ধদিবস হরতালের সমর্থনে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের তাদের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

২০ মার্চ (রবিবার) বেলা ১২ ঘটিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

প্রগতিশীল ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ ফয়েজ উল্লাহ্‌র সভাপতিত্বে ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী), কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ারের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সভাপতি মুক্তা বারৈ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) জয়দ্বীপ ভট্টাচার্জ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সাধারণ সম্পাদক শোভন রহমান প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ ফয়েজ উল্লাহ্‌ লিখিত বক্তব্য পাঠকালে বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য যেমন চাল-ডাল-তেল-গ্যাস সহ অন্যান্য পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে আজ দেশের খেটে খাওয়া জনগণের নাজেহাল অবস্থা। মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রমজীবী পরিবারের জীবন ধারণ করাই হয়ে উঠেছে দুরূহ। বর্তমান সরকার তার পুরো শাসনামল জুরেই নানান অজুহাতে এই মূল্যবৃদ্ধির আয়োজন করে তাকে জায়েজ করার চেষ্টা করেছে। কখনও তারা বিশ্ববাজারের অজুহাত দেয়, কখনওবা বিরোধী দলের, কখনও নির্লজ্জের মত স্বীকার করে নেয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে তাদের কিছু করার নেই। এখন তারা দায় চাপাতে চাইছে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের ওপর। কিন্তু সত্যি কথা হল যুদ্ধ শুরুর বহু আগে থেকেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জাঁতাকলে মানুষ পিষ্ট হয়ে জীবন যাপন করছিল।

করোনার সময় বহু মানুষ কাজ হারিয়ে সঞ্চয় খুইয়ে নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)’র ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ‘বৈশ্বিক মজুরি প্রতিবেদন: ২০২০-২০২১ এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যেখানে নিম্নতম মজুরি আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমার নিচে। মানুষের আয় কমার সাথেই যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। আমদানিকারক, মিলার, চাতালের মালিক, আড়তদার, মজুতদার, ফড়িয়া মধ্যস্বত্ত্বভোগী সিণ্ডিকেটসমূহের সাথে সরকারের অশুভ আতাতের কারণে প্রায় প্রতিটি খাদ্যপণ্যের দাম আজ আকাশচুম্বি। খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে কেবল গত ১০ বছরে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ৯০%, গ্যাসের দাম বেড়েছে ১৪৪%, ডিজেলের দাম বেড়েছে ৮২%, আর পানির দাম বেড়েছে ২৬৪%। এর মধ্যে আবার চরম স্বেচ্ছাচারী পন্থায় পানির দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে ৬০%, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবনা রয়েছে ১১৭% আর তেলের দাম বৃদ্ধির কোন সীমারেখা নেই। এই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি শিক্ষার্থীদের জীবনকেও করে তুলেছে দুর্বিসহ। 

একদিকে কমছে অভিভাবকদের আয়, অন্যদিকে বাড়ছে ডাইনিং, ক্যান্টিন, হোটেল-মুদি দোকানে খাবারের দাম। ফলে বহু শিক্ষার্থীরা এটাকে সমন্বয় করছেন খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে। এই বয়সে যখন একজন শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মিত পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার প্রয়োজন, সেই সময়ে একরকম নীরব দুর্ভিক্ষের নিপতিত হয়েছেন তারা। এমতবস্থায় ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা প্রগতিশীল ছাত্র জোটের পক্ষ থেকে সারাদেশের সকল শিক্ষার্থীকে আহ্বান জানাচ্ছি, বাম গণতান্ত্রিক জোট আহুত গণমানুষের দাবির এই হরতালের সমর্থনে সরব হোন এবং হরতাল সফল করতে ভূমিকা গ্রহণ করুন। প্রগতিশীল ছাত্র জোটভুক্ত সংগঠনগুলো এই হরতাল সফল করতে নিম্নোক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে থাকবে:
প্রচারপত্র বিলি ও গণসংযোগ:
১. ২১ মার্চ বেলা ১২ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
২. ২২ মার্চ বেলা ১১:৩০ টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে
৩. ২৪ মার্চ বেলা ১১ টায় বুয়েট পলাশী
মশাল মিছিল:
২৭ মার্চ সন্ধ্যা ৬ টা, শাহবাগ।

 

ডব্লিউইউ