|

সোলার প্যানেলে পাল্টে গেছে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি

Published: Wed, 07 Apr 2021 | Updated: Wed, 07 Apr 2021

গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁও: সোলার প্যানেলের মাধ্যমে করা সেচ প্রকল্পে পাল্টে গেছে ঠাকুরগাঁওয়ের বোরো ধানের চিত্র। এই প্যানেল পাম্পের মাধ্যমে স্বল্প খরচে কৃষক বোরো চাষ করছেন। কৃষকেরা বলছেন, সৌরবিদ্যুত চালিত সেচ পাম্পে চাষাবাদ করে খরচ ও সময় দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে। হয়রানি থেকেও মিলেছে মুক্তি। 

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আবু হোসনে বলেন, ‘বোরো মৌসুমে সোলার প্যানেলের সাহায্যে জমিতে সেচ কাজ করছেন কৃষকেরা। সোলার প্যানেল ব্যবহারে কৃষকের খরচ এক তৃতীয়াংশ কমে গেছে। এজন্য কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমে এসেছে।’ 

সোলার প্যানেলের কর্মকর্তারা বলছেন, ‘আমন, বোরো ও রবি তিন ফসলেই সৌরশক্তি ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ পানি ওঠানো হচ্ছে। তবে কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন বোরো মৌসুমে। এ সময় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে চাপ থাকে। ফলে লোডশেডিং হওয়ায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। আবার বোরো মৌসুমে সেচযন্ত্র চালাতে গিয়ে ডিজেলের সংকটেও পড়তে হয় কৃষকদের। সোলার প্যানেলের সেচ কার্যক্রমে এসব ভোগান্তির বালাই নেই। ডিজেলচালিত পাম্পে সেচ খরচ গুণতে হয় কৃষকদের প্রতি বিঘায় গড়ে চার হাজার টাকা। আর সৌরবিদ্যুত চালিত পাম্পে সেচ খরচ হয় বিঘায় গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা।’ 

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিজেল চালিত শ্যালোমেশিনে সেচ দেওয়ার জন্য মেশিনের মালিকদের কাছে ধরনা দিতে হয়। সঠিক সময়ে পানি মেলে না। সোলার প্যানেলে পাম্পে এসব সমস্যা নেই। 

চাষি লোলিত, মিজ্জাত, দুলাল, ইউনুসসহ আরো কয়েকজন জানান, সোলারের কারণে বর্তমানে অল্প খরচে বোরো ধান রোপণ করা যাচ্ছে। এক সময় বোরো ধান ক্ষেতে পানি নিতে সিরিয়াল দিতো হতো। এখন ইচ্ছে মতো পানি নেওয়া যাচ্ছে। শ্যালো মেশিনে তেল, মেশিন চুরি ও নষ্টের ভয় ছিল। সোলারের কারণে এখন আর এসব নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় এবার বোরো মৌসুমে ৫৯ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। আর ৪০টির বেশি ভ্রাম্যমাণ সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সেচ সুবিধা গ্রহণ করছেন এ অঞ্চলের কৃষক।

-এমজে