|

রুহিয়ায় ‘রেড স্পাইডারের’ কবলে চা বাগান 

Published: Wed, 22 Apr 2020 | Updated: Wed, 22 Apr 2020

গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানাধীন চা বাগানে রেড স্পাইডার রোগের কবলে পড়ে সাধারণ চা উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। গত কয়েক দিনের প্রচণ্ড খরায় শত শত একরজুড়ে এ ভাইরাসজনিত রোগে চা গাছ আক্রান্ত হয়ে উৎপাদনে মারাত্মক ধস নেমেছে। এ কারণে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে চা বাগান সংশ্লিষ্টরা সংশয়ে রয়েছেন। 

রাজাগাঁও ইউনিয়নের চা বাগানের মালিক সরকার মো. খাদেমুল ইসলাম জানান, তীব্র রোদে চা গাছের কচি পাতা গজাচ্ছে না। যেটুকু কুঁড়ি পাতা গজাচ্ছে লাল মাকড়সা তা চুষে খেয়ে ফেলছে। এছাড়া রোদে সহজে মাটি গরম হয়ে চা গাছ লালচে বর্ণ ধারণ করেছে। লাল মাকড়সা রোগ প্রতিরোধে কীটনাশক ব্যবহার করেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। চা বোর্ড ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরেরের কোন নজরদারী নেই। তাই চোখের সামনে চা গাছ মরে যাওয়া দেখা ছাড়া কিছু করার নাই। 

একই অবস্থা দেখা দিয়েছে সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নের চা বাগান, আখানগরের চা বাগান, ঢোলারহাট চা বাগান ও ২০ নং রুহিয়া ইউনিয়নের চা বাগানে। প্রথমে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এখন তা সারা বাগানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। গত বছর এ সময় যে পরিমাণ কচি পাতা উৎপাদন হয়েছিল এ বছর তা অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে। 

রুহিয়ার চা বাগানের মালিক আবু শাহিন জানান, গত কয়েক দিনের তীব্র রোদে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা চা গাছ ও কচি পাতার জন্য সহনশীল নয়। এ কারণে ৩টি চা বাগান রেড স্পাইডারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নকল ওষুধ হওয়ায়, ওষুধ ব্যবহারে কোন কাজ হচ্ছে না।

ঢোলারহাটের চা বাগানের জুয়েল রানা জানান, গত বছর এ সময়ে যে পরিমাণ চা উৎপাদিত হয়েছিল এ বছর বিভিন্ন রোগ-বালাইয়ের কারণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। দেশ-বিদেশ থেকে চা আমদানির কারণে চা শিল্প এমনিতে হুমকির মুখে রয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিলে চা শিল্প আরো গভীর সংকটে পড়বে। 

চা বোর্ড ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরেরের কোন নজরদারী নেই কেন এ প্রশ্নের উত্তরে অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আফতাব হোসেন বলেন, চা বোর্ড এই বিষয়গুলো দেখেন, আমরা খুব একটা দেখি না। রেড স্পাইডারকে আমরা বলি রেড মাইক বা লাল মাকর। লোক পাঠিয়ে প্রায়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ও/ডব্লিউইউ