|

পঞ্চগড় পল্লী বিদ্যুতের বিল শাখায় সিন্ডিকেটে জর্জরিত গ্রাহকরা

Published: Sat, 14 May 2022 | Updated: Sat, 14 May 2022

সাইদুজ্জামান রেজা, পঞ্চগড়: পঞ্চগড় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ভৌতিক বিল, বিদ্যুৎ সংযোগ, গ্রাহকদের হয়রানি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সামান্য বকেয়া বিলের জন্য বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করাসহ বিভিন্ন অনিয়মে জর্জরিত হয়ে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। 

এবিষয়ে উপজেলার হাড়িভাসা বাজার মহিলা মার্কেটের ব্যবসায়ী ও বোয়ালমারী এলাকার আনোয়ার হোসেন পৃথক পৃথক ভাবে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে হাড়িভাসা বাজার মহিলা মার্কেট স্থাপন করার সময় পল্লী বিদ্যুৎ এর বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়। তার পরেই এলটিসি-১ ক্ষুদ্র শিল্প বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসে। কিন্তু নভেম্বর-২০২১ সালে বিদ্যুৎ বিলের কাগজে এলটিসি-১ ক্ষুদ্র শিল্প থেকে বাণিজ্যিকে রূপান্তরিত করা হয়। এলটিই বাণিজ্যিক বিল পরিশোধ করে। জানুয়ারি-২০২২ সালে বিদ্যুৎ বিলের সাথে বিলম্ব ফিসহ ৩ হাজার ২২০ টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গেলে কর্তৃপক্ষ বিল না নিয়ে টালবাহানা করে। পরবর্তীতে ২৯ ফেব্রুয়ারি বিলের কাগজে দেখা যায় গত মাসের ৩ হাজার ২২০ টাকা, ফেব্রুয়ারি মাসের ২ হাজার ৬৩০ টাকা ও সমন্বয় বকেয়া ৮৭ হাজার ১১৮ টাকা মোট ৯৭ হাজার ৫৯৮ টাকা বিল করা হয়েছে। পরে দুই মাসের মোট ৫ হাজার ৯৯২ টাকা অনলাইনে পরিশোধ করা হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ বিল দেওয়া হয়েছে ৯৫ হাজার ২০৫ টাকা। 

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি পঞ্চগড় শাখার বিলিং সুপারভাইজার নাসিমা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, যদি সুবিধা চান তাহলে আমার কথা শুনতে হবে। আমি স্যারকে ম্যানেজ করব।

হাড়িভাসা বাজার মহিলা মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছি, কিন্তু এতোদিন পরে কেন বিদ্যুৎ অফিস জরিমানা করেছে। এটাকি আমাদের ভুল। এতো টাকা আমরা এখন কোথায় পাবো। অনেক দোকানদার পরিবর্তন হয়েছে। কে নিবে কার টাকার দায়।

আরেকটি অভিযোগে আনোয়ার হোসেন জানান, সেচ পাম্পের ব্যবহারের সময় ভুলবশত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পারলে, সেচ পাম্পের সংযোগ বিছিন্ন করে দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে বিল পরিশোধ করলে উৎকোচ না দেয়ায় ২০ দিন পরে সংযোগ দেয়। 

তিনি আরো জানান, বিল শাখার নাছিমা খাতুন ও অফিসের ডিজিএম আমাকে অফিসে ডেকে জানান, ছয় বছর ধরে আমি অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছি, মোট জরিমানা হয়েছে ৩৭ হাজার টাকা। ৭ হাজার টাকা পর্যায়ক্রমে নেয়া হয়েছে, ৩০ হাজার টাকা এক সাথেই দিতে হবে। 

স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে নাসিমা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করলে ফি ছাড়াই আমাকে পুরনায় বিদ্যুত সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া এলাকার রুবেল জানান, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছি, কিন্তু আবার সেই টাকা যোগ হয়ে পরের মাসে আসছে।বকেয়া দেখিয়ে সংযোগ বিছিন্ন করে দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু পুনরায় সংযোগ নিতে ১ হাজার ৬০০ টাকা বেশি নিয়েছেন বিদ্যুৎ অফিসের বিল শাখার নাছিমা খাতুন।

পঞ্চগড় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মেহেদী হাসান ৯৫ হাজার টাকা বিলের বিষয়ে বলেন, অডিট আপত্তিতে এ জরিমানা করা হয়েছে।  

অর্থ আদায়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, অফিসের কেউ জড়িত আছে কি না তা জানা নেই। 

তবে অভিযুক্ত বিল শাখার নাছিমা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি নিষেধ করেন। পরে বিল শাখার সুপার ভাইজার নাসিমা খাতুনের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি অফিস হতে পালিয়ে যান। 

বিল শাখার সুপার ভাইজার নাসিমা খাতুন দীর্ঘদিন যাবত পঞ্চগড়ে একই অফিসে চাকরি করার কারণে ডিজিএম এর সহযোগিতায় স্থানীয় দালাল ও লাইনম্যানদের সাথে সিন্ডিকেট তৈরি করে গ্রাহকদের নিকট হতে অবৈধ ভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। 

ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম আবু আশরাফ মোহাম্মদ সালেহ জানান, অভিযোগ পাইনি, যদি পাই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ডব্লিউইউ