|

আদিপুরুষের পেশা ধরে রেখেছেন রাণীশংকৈলের মৃৎশিল্পীরা 

Published: Sun, 09 May 2021 | Updated: Sun, 09 May 2021

গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁও : আধুনিকতার ছোঁয়ায় বর্তমানে প্রায় বিলীনের পথে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। নানা প্রতিকূলতাকে জয় করে দেশের অনেক অঞ্চলে এ শিল্প এখনো টিকে রয়েছে। তবে এসব কাজে জড়িত পরিবারগুলো তাদের পূর্বপুরুষদের আদিপেশা ভেবে এখনো ধরে রেখেছেন কেউ কেউ।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার পৌরশহরের ভান্ডারা গ্রামের একাংশে প্রায় অর্ধশতাধিক হিন্দু পরিবার মিলে গড়ে তুলেছিলেন যুগিপাড়া। আর সেই পাড়ার পুরুষ মহিলা কারিগরদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হত প্রাচীন শিল্প মাটির ঘটি, টেপা পুতুল, ধুপতি, বড় ধুপতি, মাটির ঘোড়া, সৈলতা জ্বালানোর প্রদীপ, মাটির ব্যাংক, ছোট ছোট খেলনার মাটির হাড়ি-পাতিলসহ নানারকম পণ্য। বেশ কয়েক বছর আগে এসব জিনিসের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে নানা রকম পণ্যের মাঝে এসব মাটির পণ্য খুঁজে পাওয়া অসম্ভব হয়ে ওঠেছে। প্লাস্টিকসহ নান রকম পণ্যের কারণে এখন এসব মাটির পণ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।

সম্প্রতি এ পাড়া ঘুরে জানা গেছে, প্রায় ২০টি পরিবার জীবন-জীবিকার তাগিদে বাপ-শ্বশুরদের রেখে যাওয়া হাতের এই কাজকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। কথা হয় সেই পাড়ার সমলা দেবী, বন্যা, ননী বালা, ভারতী রাণী, মীনা দেবী এবং সুরুবালা দেবীসহ কয়েকজন নারী শিল্পীর সঙ্গে।

নবকুমার জানান, এ পেশার সাথে জড়িত আমাদের পূর্বপুরুষরা কেউ কেউ চলে গেছেন ওপার বাংলা ভারতে। আবার কেউ কেউ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের কারণে এ পেশা ছেড়ে অন্যান্য পেশা গ্রহণ করেছেন।

পঞ্চম (৬১) নামের এক জনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বাপ-দাদাদের রেখে যাওয়া এই ক্ষুদ্র পেশাটাকে গ্রহণ করি। কারণ, সে সময়ে এই পেশার অনেক কদর ছিল। ক্ষুদ্র এই মৃৎশিল্পের জিনিসগুলো আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য অনেক প্রয়োজনীয়। নানা রকমের পূজা, এমনকি বিয়ে বাড়িতে সৈলতা প্রদীপ জ্বালানোর জন্য আমাদের এই মাটির প্রদীপ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এখন দেখছি আমাদের এই মাটির জিনিসের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে।

-এমজে