|

ইউপি সদস্য কর্মযোদ্ধা এক ববিতার গল্প

Published: Thu, 27 Jan 2022 | Updated: Thu, 27 Jan 2022

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি: জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকতে হলে কর্মের বিকল্প নেই। তাই জীবনকে সুন্দরভাবে সাজাতে আমরা সবাই কর্ম করে থাকি বা শ্রম বিক্রি করি। কেউ উচ্চাভিলাসী স্বপ্ন পূরণে শ্রম দেই, আবার কেউ ক্ষুধার জ্বালায় দু'বেলা দু'মুঠো ভাতের জন্য শ্রম দিই। জীবন সংসারে নানা ঘাত-প্রতিঘাতে একজন মানুষ পার করে তার জীবনের প্রতিটি ক্ষণ।

এমনি জীবন যুদ্ধের সাহসী যোদ্ধা পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য ববিতা খাতুন। সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে গত ২৮ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ববিতা খাতুন নামের এক শ্রমজীবি নারী বিপুল ভোটে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি মূলগ্রাম ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের জায়দুল ইসলামের স্ত্রী। নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিমধ্যে তিনি শপথ গ্রহণ শেষে পরিষদের দায়িত্বও গ্রহণ করেছেন।

তিনি এখন পর্যন্ত প্রতিদিন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলীর অধীন পল্লী কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ (আরইআর এম পি-৩) মাটি কাটা কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ এ কাজ করে আসছেন।

সংসার জীবনে বেশ কয়েক বছর আগেই তার স্বামী তাকে ত্যাগ করে অন্যত্র বিয়ে করে আলাদা সংসার পেতেছেন। পরিবারে তার ১৮ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে সন্তান আর এক ছোট বোন রয়েছে। ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার পরে সেও পৃথক হয়ে গেছে। তিনি ইউপি সদস্য হয়েও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ২৫০ টাকা পারিশ্রমিকে ৩ বছরের চুক্তিতে শ্রম বিক্রি করে চলেছেন। 

ইউপি সদস্য ববিতা খাতুন বলেন, আমার মা একবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দাঁড়িয়ে হেরে যান। পরের বার নির্বাচনে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা
করে হেরে যাই। এবার আবার নির্বাচনে দাঁড়িয়ে জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেন। নির্বাচনে আমি কোন টাকা পয়সা খরচ করতে পারিনি। গ্রামের মানুষের সহযোগীতায় সবাই এক জোট হয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আমি ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছি বলে অনেক বড় কিছু হয়ে গেছি সেটা আমি মনে করি না। জীবিকার জন্য আমাকে কাজ করতেই হবে।

তিনি আরো বলেন, এলাকার মানুষের প্রয়োজন হলে এবং পরিষদ থেকে চেয়ারম্যান সাহেব খবর দিলে তখন আমি পরিষদে যাই। কাজ শেষ হলে আবার এসে কাজে যোগদান করি। আমি গরিব, অসহায় ও নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ হামজু বলেন, মেয়েটা আমাদের এলাকার একজন পরিশ্রমী নারী। সে গ্রামেই একটি স্টল দিয়ে চা বিক্রি করতো। দরিদ্রতার কারণে সে এখনও মাটি কাটার কাজ করে। আমরাও পরিষদের পক্ষ থেকে বলেছি তুমি তোমার কাজ করো ।

নারী সদস্য ববিতা প্রসঙ্গে মূলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাশেদুল ইসলাম বকুল বলেন, বর্তমানে আমার পরিষদের সে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তাকে ব্যক্তিগত ভাবে আমি বলেছিলাম মাটি কাটার কাজ না করতে। সে জবাবে বলেছে, যতদিন পর্যন্ত আমি পরিষদ থেকে কোন বেতন/ভাতা না পাবো ততদিন পর্যন্ত আমি এই কাজ করবো। যেহেতু সে একজন হতদরিদ্র কর্মঠ মেয়ে তাই আমি তাকে বলেছি তোমার যেকোন ধরনের সাহায্য সহযোগীতার প্রয়োজন হলে আমি ব্যক্তিগত ভাবে এবং পরিষদের পক্ষ থেকে সাধ্য অনুযায়ী সহযোগীতা করবো।

 

ডব্লিউইউ