|

সেনবাগে ইভটিজিংয়ে বাধা পেয়ে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা

Published: Wed, 11 May 2022 | Updated: Wed, 11 May 2022

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সেনবাগের নবীপুর ইউপির গোলালপুর গ্রামে ইভটিজিংয়ে বাধা পেয়ে কিশোর গ্যাং সদস্যরা দফায় দফায় হামলা চালিয়ে বাড়িঘরে ভাংচুর, ব্যাপক বোমাবাজি ও গাড়ি ভাংচুর করেছে।

খবর পেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় শিকার হয়েছে স্থানীয় নবীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বেলায়েত হোসেন সোহেলসহ (৪৮) ও তার সহযোগী নজরুল ইসলাম (৩৫)। এসময় কিশোর গ্যাং সদস্যরা চেয়ারম্যানের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার ভাংচুর করে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী চার হামলাকারীকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করে উত্তম মধ্যম দিয়ে সেনবাগ পুলিশে সোপর্দ করেছে। 

মঙ্গলবার (১০ মে) রাতে নবীপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালপুর গ্রামের নূরানী মাদ্রাসা সংলগ্ন কালামিয়ার টেক এলাকায় ওই হামলা ও ভাংচুরের ঘটনাটি ঘটেছে।

আটককৃতরা হচ্ছে - নবীপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের অন্তর (১৯), বেগমগঞ্জ উপজেলার রফিকপুর গ্রামের টিপু (২৪), আবদুল গনি পারভেজ (২৫) ও ইমরান হোসেন শান্ত (২০)। তাদের কাছ থেকে ছোরাসহ বেশ কিছু ছোরা, রড়, লাঠি, দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। তাদেরকে বুধবার নোয়াখালীর নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

নবীপুর ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন সোহেল জানান, ‘মঙ্গলবার (১০ মে) দুপুরে নবীপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালপুর গ্রামের জসিম মেস্তুরীর নতুন বাড়িতে তাদের কিশোরী মেয়েরা পুকুরে গোসল করার সময় একই গ্রামের হারিস মোল্লা বাড়ির আবুল বাশারের ছেলে রবি (২৩) ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা ইভটিজিং করে। ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি বিকেলে তাকে জানায়। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কেন অবহিত করলো এ ক্ষোভে বিকেলের দিকে রবি ও কিশোর গ্যাংয়ের বহিরাগত সদস্যরা ফের ইভটিজিংয়ের শিকার কিশোরীদের বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালায় ও ব্যাপক বোমাবাজি করে এবং পরিবারের লোকজনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বারকে ওই বাড়িতে পাঠান। মেম্বার ঘটনাস্থলে পৌঁছলে হামলাকারীদের পরিবারের সদস্যরা তাদের ওপর চড়াও হয়। তিনি বিষয়টি জানার পর সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে যান। এসময় ইভটিজিং ও হামলায় অভিযুক্ত রবিকে ধরে আমার গাড়িতে তুলে নিলে রবি’র সহযোগিরা গাড়িতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে তাকে ও গাড়িচালক ভাগ্নে নজরুল ইসলামকে (৩৫)  পিটিয়ে আহত করে। তাদেরকে উদ্ধার করে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী জানান, ভুক্তোভোগী কিশোরীর বাবা মোঃ জসিম উদ্দিন বাদি হয়ে থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ্য সহ অজ্ঞাত আরো ৭/৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে। ওই মামলায় এজাহারভূক্ত চার আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে বুধবার বিকেলে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

 

ডব্লিউইউ