|

শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যা : চাচাতো ভাইয়ের স্বীকারোক্তি

Published: Mon, 04 Apr 2022 | Updated: Mon, 04 Apr 2022

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম শায়েস্তানগরী, নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সেই শিশু আছমা আক্তারকে (৫) ধর্ষণের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ দেখে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা এবং হত্যার পরও শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেপ্তার নিহত শিশু আছমা আক্তারের চাচাতো ভাই শাহাদাত হোসেন।

গত রোববার (৩ এপ্রিল) দুপুর দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামি শাহাদাত হোসেনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নবনীতা গুহ আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালতের নির্দেশে আসামি শাহাদাত হোসেনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চাটখিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ গিয়াস উদ্দিন আসামি শাহাদাত হোসেনের আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করে বলেন, আসামি শাহাদাত হোসেন শিশুটিকে মুখ ও হাত-পা চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ দেখা দেয়। তখন আছমা চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করলে তার নাক-মুখ চেপে ধরে তাকে মেরে ফেলেছেন। এরপর লাশ বস্তায় ভরে বস্তাটি নিজের কক্ষের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখেন। পরে সন্ধ্যার দিকে পাশের বাড়ির নুর নবীর ঘরের পশ্চিম পাশের সৌচাগারের ময়লার ট্যাংকের ঢাকনা খুলে সেখানে লুকিয়ে রাখেন।

পুলিশ জানায়, নিখোঁজের ঘটনার ১০ দিনের মাথায় সন্দেহভাজন হিসেবে শাহাদাত হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি আছমাকে অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা ও লাশ গুম করার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেখানো মতে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাশের বাড়ির একটি সৌচাগারের ময়লার ট্যাংক থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত আছমা আক্তার চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির মো. শাহজাহানের মেয়ে। পাঁচ বোনের মধ্যে আছমা ছিল সবার ছোট। ময়নাতদন্তের পর রোববার বিকেলে জানাজা শেষে লাশ পারিবারিক কবরস্থানে আছমার লাশ দাফন করা হয়।

নিহত আছমার বাবা মোঃ শাহজাহান স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম। তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে কারো কোন শত্রুতা কিংবা বিরোধ নেই। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারী শাহাদাতের ফাঁসি চাই। আইনের ফাঁক-ফোঁকরে যাতে সে কয়দিন পর ছাড়া পেয়ে না যায়। সে ছাড়া পেলে এভাবে আরও ঘটনা ঘটাবে। কারণ সে এমনিতে খারাপ প্রকৃতির।’

এদিকে নিখোঁজ শিশু আছমা আক্তারের লাশ উদ্ধারের পর থেকে চাটখিলের বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। আছমার চার বোন ও মা-বাবার আহাজারি থামাতে পারছেন না আশপাশের বাড়ির বাসিন্দা ও আত্মীয়-স্বজনেরাও।

চাটখিল থানার ওসি গিয়াস উদ্দিন জানান, শিশু আছমাকে অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা ও লাশগুমের অপরাধে গ্রেপ্তার শাহাদাতের বিরুদ্ধে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ওই মামলাটি দায়ের করেছেন।


ডব্লিউইউ