|

রুহিয়ায় খোলা আকাশের নিচে বেদে শিশুদের পাঠশালা

Published: Sun, 20 Jun 2021 | Updated: Sun, 20 Jun 2021

গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁও : সারা বছর দল বেঁধে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়ায় বেদেরা। তাদের নিদিষ্ট কোন স্থান থাকার স্থান নাই তাই এদের বলা যাযাবর। কোথাও সুবিধা মতো থাকার একটু জায়গা পেলে পলিথিনের তাবু খাটিয়ে সেখানে থেকে যান কিছু দিনের জন্য। 

ভাসমান এই মানুষদের যেমন নেই কোন ঠিকানা তেমনি হয়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়ার সুযোগ। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়ানো মানুষ গুলো এমন জীবন- যাপনে অভ্যস্ত হলেও স্বপ্ন দেখেন একদিন না একদিন পরিবর্তন আসবে তাদের সন্তানের জীবনে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় , ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া মধুপুর গ্রামে আশ্রয় নেওয়া বেদে সম্প্রাদয়ের একদল শিশুর ভবিষ্যৎর কথা চিন্তা করে ও শত প্রতিকূলতার মাঝেও সন্তানদের সামান্য অক্ষর জ্ঞান দানের জন্য চেয়ার টেবিল ছাড়াই খোলা আকাশের নিচেই  পড়াচ্ছে এক যুবক। 

ভোরের  সকাল ফর্সা হতে না হতেই বই খাতা হাতে তাবু ছেড়ে পাঠশালার পাটিতে বসে পরে শিশুরা। চোখেমুখে উপচে পরে উচ্ছ্বাস আর জানার আগ্রহ।শিক্ষার্থীরা জানায়, আমাদের পাঠশালায় অ, আ, ১,২ গুনতে শিখেছি, ছড়াও শিখেছি। ছড়া শুনতেও অনেক ভালো লাগে। 

অভিভাবকেরা জানান, আমাদের বেদে সম্প্রদায় একটি যাযাবর জনগোষ্ঠী। আমাদের নিদিষ্ট কোন স্থান নেই। আজ এখানে তো কাল ওখানে। দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে আমাদের অস্থায়ী ভাবে বসবাস। আমরা পড়া শুনার সুযোগ পাইনি। আমাদের সন্তানেরা পাঠশালার শিক্ষক নুরুল ইসলামের সহযোগিতায় পড়ালেখা করতেছে এতে অনেক ভালো লাগতেছে।

পাঠশালার শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, আমাদের বেদে বহর নিয়ে যেখানেই যাই প্রতিদিন কাজের ফাঁকে যে সময় পাই ওই সময় থেকে কিছুটা সময় বাচ্চাদের লেখাপড়া শেখায় এই পাঠশালা আমার গন্তব্যহীন যাত্রা সাথী।

শিক্ষার্থী হিম জানান, আমার চোখে দেখা এই প্রথম একটি ব্যতিক্রমী পাঠশালা। পাঠশালায় রয়েছে  উদ্যমী শিক্ষক আর উচ্ছাসি একদল শিক্ষার্থী। আমি বেদে সম্প্রদায়ের পড়াশোনার ব্যবস্থা দেখে অনেক আনন্দিত।

আরেক শিক্ষার্থী সঞ্জয় জানায়, অক্ষর জ্ঞানহীন মানুষ পৃথিবীতে অচল। বেদে সম্পাদয়ের সন্তানদের একটু হাতে কলমে শিখিয়ে দিলেই তারা চলে ফিরে খেতে পারবে। কিন্তু তারা নিরুপায়।

আইআর /