|

ফরিদপুরে সিজারকালে শিশুর হাত ভাঙার অভিযোগ ডাক্তারের বিরুদ্ধে

Published: Thu, 20 Jan 2022 | Updated: Thu, 20 Jan 2022

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুর শহরের খাবাসপুর বেসরকারি আরামবাগ হাসপাতালে সিজার করার সময় শিশুর হাত ভেঙে ফেলার অভিযোগ তুলেছেন এক অভিভাবক। এ বিষয়ে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ বুধবার দুপুরে ওই হাসপাতালে অভিযান চালায়।  

অভিযোগকারী শিশুটির পিতা আরিফুল আলম সজলের অভিযোগ, ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর স্ত্রী মৌসুমী আক্তার মুক্তাকে ওই হাসপাতালে সিজার করলে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। শিশুটির জন্মের পর তার হাতে সমস্যা আছে জানিয়ে ম্যাসেজ করতে বলেন চিকিৎসক। এরপর ১৫ ডিসেম্বর সুস্থ অবস্থায় ছাড়পত্র দেয়ার পর শিশুটিকে বাসায় নিয়ে যায়। কয়েক দিন পর শিশুটির ব্যথা অনুভব হলে স্থানীয় শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নেয়া হয়। এসময় ওই শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শে এক্সরে করানো হলে হাতে সমস্যা দেখা যায়। 

অভিযোগকারী বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবগত করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সহিত বিষয়টি আমলে নেয়। হাসপাতালে ভর্তিকালীন সময়ে চিকিৎসক শারমীন সুলতানা জুইকে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ডেকে বিষয়টি জানানো হয়।  এ সময় ডাক্তার বলেন, হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় বা চিকিৎসাকালীন সময়ে এবং ছাড়পত্র দেওয়ার আগ পর্যন্ত কোন অভিযোগই শিশুটির পরিবার থেকে আমাকে করে নাই। এ ছাড়াও আমিও শিশুটির হাত ভাঙার মত ঘটনা ঘটেনি বা আমি পাইনি। তবে ঐ শিশুটির অভিভাবক সজল সাহেব বহিরাগত প্রায় ১৫/২০ জন লোক নিয়ে আমাকে চাপ প্রয়োগ করে বলে আপনি কত টাকা দিবেন? যেহেতু আমি কোন অন্যায় করিনি, তাই আমি তাদেরকে টাকা দিতে অস্বীকার করি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ জানুয়ারি সকালে আরামবাক হাসপাতালে আমাকে ফরিদপুর সিভিল সার্জন স্যার আসতে বলে,তবে আমি এসে হতবাক, পূর্বে যারা টাকা দাবি করে ছিলো তাদেরকে আমি দেখতে পাই অর্থ আদায় করার জন্য সাজানো একটি নাটক শুধুমাত্র, আমাকে সামাজিক ভাবে হেও পতিপন্ন করা হয়েছে ষড়যন্ত্রকারী সজলসহ বহিরাগত ১৫/২০ জন তার সংগে থাকা সকলের দৃষ্টন্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। 

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে জানা যায়, এই শিশুর বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অযৌতিক দাবি পূরণ না করায় ডাক্তার এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে শিশুটির পিতা। চিকিৎসক শারমীন সুলতানা জুই এর ভাষ্যমতে, ফরিদপুর সিভিল সার্জন মহোদয়ের নিকট আনিত অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তবে আমাদের হাসপাতালের কাগজপত্রের ত্রুটি থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ এসে বন্ধ করে দিয়েছে। কাগজ-পত্র সঠিক হলে আবার হাসপাতালটি খুলে দেবে বলে জানা যায়।


ডব্লিউইউ