|

‘কুবি প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাবেই স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট বাস্তবায়ন হয়নি’

Published: Tue, 09 Feb 2021 | Updated: Tue, 09 Feb 2021

মাহমুদুল হাসান, কুবি : গত বছরের নভেম্বরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় দুইটি মোবাইল কোম্পানি থেকে একটিকে বেছে নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের। কিন্তু এরপর প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এ নিয়ে আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী তাসফিক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘অনলাইন ক্লাসের জন্য এখনো আমাদের স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট সেবাটি প্রশাসন দিতে পারলো না, তাহলে কবে দিবে? বিশ্ববিদ্যালয় খুললে দিবে? প্রথমে স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট সেবা পাবো জেনে আনন্দিত হয়েছিলাম বটে, কিন্তু এখন দেখছি বাস্তবায়ন হচ্ছে না।’

বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১০ নভেম্বর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আবু তাহের জানান, ‘আমাদের কাছে গ্রামীণফোন ও রবি তাদের অফার নিয়ে এসেছিলো। নভেম্বরের ২২ তারিখের ফিন্যান্স কমিটির মিটিংয়ে এই দুই কোম্পানির মধ্যে একটিকে চূড়ান্ত করবো।’

এরপর চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

পরবর্তীতে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় আমরা জানতে পেরেছি, শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাস করার পাশাপাশি অন্যান্য যে সকল সাইট (ফেইসবুক, ইউটিউব, ম্যাসেঞ্জার, ভিডিও কলিং)  ব্যবহার করে থাকে, সে সুযোগগুলোও ইন্টারনেট প্যাকেজে চায়। কিন্তু রবি বা গ্রামীণফোন তাদের প্যাকেজে সে সুযোগগুলো দিচ্ছে না। তারা লিমিটেড অফার দিচ্ছে যা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা দিয়েছে। তবে আমরা (প্রশাসন) রবি অপারেটরের সাথে কয়েক দফা আলোচনা করেছি। কিন্তু রবির হায়ার অথরিটি জানিয়েছে, তাদের প্যাকেজ পরিবর্তন করার সুযোগ নাই।’

ট্রেজারার আরও বলেন, ‘ছাত্ররা যদি বলে যে প্যাকেজ আছে সেটাই আমাদেরকে দেন। আমরা দিয়ে দিতে পারব। এক্ষেত্রে কেবল আমরা সিম অপারেটরদের ডেকে সাইন করালেই হবে। তবে আমরা ছাত্রদের নির্দিষ্ট প্যাকেজ চাপিয়ে দিতে চাই নাই যে এই প্যাকেজ নিতেই হবে। আমরা ছাত্ররা যা চায় তাই দিতে চাই।’

ট্রেজারারের বক্তব্যকে “তথ্য বিভ্রাট” উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘দুইটা কোম্পানিই সকল সুবিধা সম্বলিত একটি প্যাকেজ এবং কেবল জুমে ক্লাসের জন্য একটি প্যাকেজ সহ দুইটি প্যাকেজ সর্বনিম্ন দামে চূড়ান্ত করেছিলো। যেখানে রবি ও গ্রামীণফোনের ম্যানেজার সহ শিক্ষক প্রতিনিধি, ছাত্র প্রতিনিধি, ট্রেজারার সহ সবাই উপস্থিত ছিলেন৷ কিন্তু পরবর্তীতে কেন এফসিতে (ফিন্যান্সিয়াল কমিটি) অনুমোদন করা হয়নি আমার জানা নাই। আমি মনে করি প্রশাসনের গাফিলতির কারনেই পিছিয়ে আছে স্বল্পমূল্যের ইন্টারনেট ব্যবস্থা।’

এছাড়া তিনি বলেন, ‘রবি ও গ্রামীণফোনের সাথে কথা বলে প্রশাসন তিন থেকে চার দিনের ভিতরে ফাইনাল করবে জানিয়েছিল, কিন্তু তিনমাস হয়ে গেলেও তারা পারে নাই৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাব্যক্তিদের শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতার অভাবের কারনেই এটা বাস্তবায়ন হয়নি। আর উপাচার্যের গাফিলতির কারণেই স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেটের মুখ দেখেনি শিক্ষার্থীরা যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

তবে এ বিষয়ে ট্রেজারার বলেন, ‘স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট সরবরাহে ইউজিসির সাথে সিম কোম্পানিগুলোর একটা চুক্তি রয়েছে। ঐ চুক্তির আওতায় তারা ইন্টারনেট সরবরাহ করবে৷ এ হিসেবে আলাদা প্যাকেজ নিতে হলে অন্য সিম নিতে হবে৷ তাই আমাদেরকে সিম কোম্পানিগুলো জানিয়েছিলো ইউজিসির সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে তার বাইরে কোম্পানিগুলো যেতে পারবে না৷ এমন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে বিষয়টি দেরি হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ‘এ বিষয় যাতে সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয় তাই আমি একটি কমিটি করে দিয়েছি। এ কাজে আমার কোনো গাফিলতি নেই। এখন এ কাজটা কেনো দেড়ি হচ্ছে তা আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো।’

ও/এসএ/