হল ছাড়তে নারাজ জাবি শিক্ষার্থীরা

Published: Mon, 22 Feb 2021 | Updated: Mon, 22 Feb 2021

অভিযাত্রা ডেস্ক : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানালেও আবাসিক হল ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ফেসবুক লাইভে এসে জানান, ১৭ মে থেকে হল খুলে দেওয়া হবে। আর ২৪ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুরু হবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের (৪৬তম ব্যাচ) শারমীন আক্তার সাথী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে সাধুবাদ জানাই। তবে জাহাঙ্গীরনগরের পরিস্থিতি অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো না। এখানকার অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন, যা মোটেই নিরাপদ না। এই ভিন্ন পরিস্থিতি বুঝতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা হলে অবস্থানের সিদ্ধান্তে এখনও অটল আছি এবং আজকেই পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ছাত্রী হলে শিক্ষার্থীরা উঠবেন।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বৈঠকে বসেছে। তবে বৈঠকের কোনও সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। এদিকে শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া হল ত্যাগের নির্দেশনা তারা মানবেন না। ১২ ঘণ্টার মধ্যে এমন নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

পাশাপাশি তারা জানান, কোনোভাবে আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীদের বের করার চেষ্টা করা যাবে না। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেরুয়ার সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে ও ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করে সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের হামলার ঘটনায় কতিপয় ছাত্র শিক্ষক-কর্মচারী ও কর্মকর্তার জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিচারে আওতায় আনতে হবে। এর জন্য দ্রুত তম সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠনে দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে, চিহ্নিত ব্যক্তিদের নামে মামলা করার দাবি জানান তারা। দাবি মানা না হলে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়ন দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে, নিরাপত্তাহীনতায় থাকা শিক্ষার্থীদের হল থেকে বিতাড়নের পাঁয়তারা বন্ধ এবং বিশ্ববিদ্যালয় সচল করার খসড়া রোডম্যাপ তৈরির দাবি জানিয়েছে।

যুক্ত বিবৃতিতে জাবি সংসদের সভাপতি মিখা পিরেগু ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল রনি বলেন, গেরুয়া গ্রামে বসবাসরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধানতো দূরের কথা, বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কাজটিও প্রশাসন করেনি। কোনো উপায় না পেয়ে নিজেদের জীবন বাঁচাতে শিক্ষার্থীরা যখন হল খুলে দেওয়ার আহ্বান জানায়, সেটিও তারা করতে রাজি হননি। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা হলে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের বিপদের সাথী না হয়ে উল্টো দমন-পীড়নের হুমকি দেওয়ার মধ্য দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুনরায় প্রমাণ করলো যে তারা শিক্ষার্থীবান্ধব নয়।

ও/এসএ/