|

কুবির বর্ধিত ক্যাম্পাসের গাছ-বাঁশ কেটে নেয়ার অভিযোগ

Published: Mon, 22 Feb 2021 | Updated: Mon, 22 Feb 2021

কুবি প্রতিনিধি : কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের রাজারখলা ও চৌধুরীখলা এলাকায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বর্ধিত ক্যাম্পাসের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

নতুন ক্যাম্পাসের জন্য নির্ধারিত এসব এলাকার আবার  বেশিরভাগই কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বাগান ও বাঁশঝাড় দিয়ে ঘেরা। জমি অধিগ্রহণের দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার অভাবে অধিগ্রহণের আওতায় থাকা এসব জায়গায় রাত হলেই শুরু হয় গাছ ও বাঁশ চুরির মহোৎসব।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন সময় নোটিশ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গা থেকে গাছ-বাঁশ কাটতে নিষেধ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়। কিন্তু রাতের অন্ধকারে এসব জায়গা থেকেই কেটে নেওয়া হচ্ছে গাছ-বাঁশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জায়গার মালিক যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি বিক্রি করেছেন তারা এই প্রতিবেদককে বলেন, গাছ-বাঁশ কাটতে যারা আসে তারা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাদের পরিচয় দেয়।

এক জমির মালিক বলেন, ‘দেড় বছর হচ্ছে আমার জমি অধিগ্রহণে পড়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটি টাকাও পাইনি আমি। আবার আমরা জমির কোনো গাছ-বাঁশ আনতে পারি না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতাদের নাম বলে ঠিকই একের পর এক গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এখানে মূলত জোর যার মুল্লুক তার।’

এ অভিযোগের প্রসঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী, তার ভাই সরওয়ার সাহেব এবং আমার নাম ব্যবহার করে কিছু স্বার্থান্বেষী প্রতারক চক্র এসব কাজ করছে। আমরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনকে জানাবো।'

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার জামাল হোসেন বলেন, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলেই প্রশাসনকে সাথে নিয়ে ব্যবস্থা নেব। তবে অল্প বিস্তর কিছু অভিযোগ পেয়েছি, যার সাথে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকজনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, ‘গাছ কেটে নিচ্ছে এটা আমরা জানি। কিন্তু এখানে আমাদের কিছু করার নেই। কারণ ডিসি অফিস জমি অধিগ্রহণ করে আমাদেরকে না দেওয়া পর্যন্ত এ জমির মালিক আমরা না। এছাড়া জনবল কম থাকায় পাহারাও বসাতে পারছি না৷ আমরা ডিসি অফিসকে জানিয়ে রাখছি। ডিসি অফিসও কোনও দায়িত্ব নিচ্ছে না।'

ও/এসএ/