|

জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন, কাদেরই চেয়ারম্যান

Published: Sat, 28 Dec 2019 | Updated: Sat, 28 Dec 2019

অভিযাত্রা ডেস্ক : জাতীয় পার্টিতে (জাপা) নতুন সৃষ্টি করা প্রধান পৃষ্ঠপোষক পদে রওশন এরশাদকে নির্বাচিত করা হয়েছে। আর চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন জিএম কাদের। দলটির নবম সম্মেলনে আগামী তিন বছরের জন্য তারা পদ দুটিতে নির্বাচিত হন।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে প্রধান নির্বাচন কমিশন অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম তাদের নাম ঘোষণা করেন। এ সময় সম্মেলনে উপস্থিত কাউন্সিলররা কণ্ঠভোটে তা পাস করেন।

এরপর জাতীয় পার্টির মহাসচিব হিসেবে মসিউর রহমান রাঙ্গাকে নির্বাচন করেন দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

সম্মেলনে আসা কাউন্সিলররা পার্টির চেয়ারম্যানকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের ক্ষমতা দেন। পরবর্তীতে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করবেন।
 

এর আগে স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল মানুষ ভোগ করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন জাতীয় পার্টি (জাপা)-এর নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের। তিনি বলেন, ‘দেশের রাজনীতিতে শূন্যতা বিরাজ করছে। সহমর্মিতা ও সহনশীলতার রাজনৈতিক প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসছে। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদক এখনও সমাজ জীবনকে বিপর্যস্ত করে রেখেছে। ’

সম্মেলনে কাউন্সিলরদের কণ্ঠভোটে দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধন করে জাপার প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদকে দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক করা হয়। তবে, সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না রওশন এরশাদ। তিনি কেন আসেননি, তা নিয়ে জাপার চেয়ারম্যান, মহাসচিব বা প্রেসিডিয়াম সদস্যদের কেউ কিছু বলেননি। তবে, সম্মেলনে একপর্যায়ে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তার বক্তব্যে জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান ঘোষণা দেন। তখন উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাকে দালাল-দালাল বলে সম্বোধন করেন।

এ সময় আনিসুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের নির্দেশে জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করছি।’

জাপার সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে একমাত্র উপস্থিত ছিলেন দলটির জোটসঙ্গী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি এখনও আসেনি অভিযোগ করে জিএম কাদের বলেন, ‘আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণে এখনও অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে।’

জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ছাড়াই সম্মেলন হচ্ছে উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, ‘তাকে ছাড়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই শূন্যতা শুধু এই সম্মেলনেই বিরাজ করছে না, গোটা দেশ ও জাঁতি তার অভাব অনুভব করছে। এরশাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।’

বক্তব্যের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে জিএম কাদের বলেন, ‘তিনি এই বাংলাদেশ সৃষ্টি করে আমাদের একটি স্বাধীন জাঁতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করেছেন। আমি স্মরণ করছি গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানিকেও।’

ঐতিহাসিক প্রয়োজনে জাপার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল উল্লেখ করে দলটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সে পরিপ্রেক্ষিতে এই মুহূর্তে দেশের জন্য ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে প্রত্যেক নেতা-কর্মী-সমর্থককে প্রস্তুত হতে হবে। সেই পথ চলার একপর্যায়ে অনুষ্ঠিত হলো এই সম্মেলন। এখান থেকে অঙ্গীকার নিয়ে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়তে হবে। গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।’

জাপা গতানুগতিক ধারার নেতিবাচক রাজনীতি করে না বলে উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, ‘আমাদের অতীতের সফলতা এখনও জাঁতি স্মরণ করে। জাঁতি হতাশা থেকে মুক্তি চায়, জাঁতি স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সুস্থ-স্বাভাবিক সামাজিক পরিস্থিতি চায়। দেশবাসী মনে করে, তাদের এই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে জাপা। অতীতের ৯ বছরে আমরা তার প্রমাণ দিয়েছি।’

এ সময় জিএম কাদের ১৮ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা/ বিকেন্দ্রীয়করণ, ধর্মীয় মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়া, কৃষকের কল্যাণ সাধন, সন্ত্রাস দমনে কঠোর ব্যবস্থা, সারা দেশে পর্যায়ক্রমে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, ফসলি জমি সংরক্ষণ, খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা পদ্ধতির সংশোধন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সড়ক নিরাপত্তা, গুচ্ছগ্রাম পথকলি ট্রাস্ট পুনঃপ্রতিষ্ঠা, পল্লি রেশনিং চালু করা, শিল্প ও অর্থনীতির অগ্রগতি সাধন ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা।

সম্মেলনে দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছাড়াও গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ৭টি কো-চেয়ারম্যান, ৮টি অতিরিক্ত মহাসচিবের পদ সৃষ্টি করা হয়। এ ছাড়া তরুণ পার্টি, মোটর শ্রমিক পার্টি ও হকার্স পার্টিকে দলের অঙ্গ সংগঠনের মর্যাদা দেওয়া হয়। তবে, জাপার কেন্দ্রীয় কমিটি কত সদস্যবিশিষ্ট হবে, তা জানানো হয়নি।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, গোলাম কিবরিয়া টিপু, অ্যাডভোকেট শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, ফখরুল ইমাম, কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু, মো. আবুল কাশেম, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সাহিদুর রহমান, মুজিবুল হক চুন্নু, সালমা ইসলাম, সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, মীর আবদুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, এ টি ইউ তাজ রহমান, সোলায়মান আলম শেঠ, নাসরিন জাহান রত্না, আবদুর রশীদ সরকার, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, মুজিবর রহমান সেন্টু, সফিকুল ইসলাম সেন্টু, লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, মো. মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, সৈয়দ দিদার বখত, নাজমা আখতার, আবদুস সাত্তার মিয়া, এমরান হোসেন মিয়া, মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল, লিয়াকত হোসেন খোকা, সেলিম ওসমান প্রমুখ।

এসএ/