|

মিঠামইনে এখনও বন্যার পানিতে ভাসছে ৩০ গ্রাম

Published: Wed, 29 Jun 2022 | Updated: Wed, 29 Jun 2022

বিজয়কর রতন,মিঠামইন, (কিশোরগঞ্জ): মিঠামইন উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বুধবার (২৯ জুন) পর্যন্ত  এখনো হাওরে বিভিন্ন ইউনিয়নের নির্মিত নীচু জায়গায় ৩০টি গ্রাম এখনো পানিতে ভাসছে। হাওরে এসকল গ্রাম বিগত ৫-১০ বছরের মধ্যে ফসলী জমিতে নতুন করে মাটি ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি ছোট গ্রামের ৫/৭ টি করে পরিবার রয়েছে। 

কোনো কোনো গ্রামে আরও বেশী পরিবার বসবাস করছে। এ বারের বন্যায় এসকল গ্রাম পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। পানি কমলেও  এ সকল গ্রামের চারপাশে বাঁশের পাইলিংয়ের মাটি সরে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি  হচ্ছে। এসকল পরিবার এখনো পানি বন্দি। 

অনেকই বাড়ী ঘর ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে ও আতœীয় স্বজনদের বাড়িতে ও উঠেছে।এসকল বাড়িতে পরিতাক্ত ঘর গুলি পানির উপর দাড়িয়ে রয়েছে। এসকল বাড়ি পূর্ণ নির্মাণ করতে আরও সময় লাগবে। টেউয়ের আঘাতে এখন পাইলিং ও বালির বস্তা বেষ্টনি নষ্ট হয়ে গেছে। 

মিঠামইন সদরের খিলা পাড়া, নতুন ৩টি গ্রাম রয়েছে। ঢাকী ইউনিয়নের মডেল চরপাড়া,পশ্চিম হাটী, আলগা বাড়ি। গোপদীঘি ইউনিয়নের শরীফ পুরের নিকটে হাওরে নতুন শরীফ,এককোষা সহ আরও তিনটি গ্রাম। 

সোনাপুর, আতপাশা,নতুন পাড়া নামে আরও ৩ টি গ্রাম। ঘাগড়া ইউনিয়নের ওয়ারিশপুর, সাবাশপুর, শরীফপুর, হাবীব পুর, সুলতানপুর, নামা হাটী, খলাপাড়ার দক্ষিণে নতুন খলাপাড়া, বিন্না হাটী, নতুন সাজী বাড়ি সহ আরও ৫ টি গ্রাম রয়েছে। 

হোসেন পুর ঘাগড়া সড়কের পাশে নতুন হোসেন নামে ৪ টি গ্রাম রয়েছে। কেওজোড় ইউনিয়নের নাসির পুর,মফিজ নগর, হেমন্তগঞ্জ নতুন পাড়া,রানীগঞ্জ নতুন হাটী এসকল গ্রাম এখনও পানিতে ভাসছে।পানি কমলেও এসকল পরিবার যারা বাড়ি ঘর ছেড়ে অন্যএ চলে গেছে তারা নীচ বাড়িতে ফিরতে আরও সময় লাগবে। ঘাগড়া ইউনিয়নের হোসেন পুরের নিকটে নতুন পাড়ার ওয়ারিশ পুরের ৬ টি পরিবার পানিতে ভাসছে। 

এ গ্রামের ফরিদ মিয়া, সিরাজ মিয়া, মধু মিয়া,ধদু মিয়া, ইসলাম মিয়া পরিবার পরিজন নিয়ে এখনও অন্যএ বাস করছে। অন্য দিকে হাবীব পুরের মুকুল মিয়া,বকুল মিয়া,পাভেল মিয়া,জয়নাল মিয়া,মজিবুর মিয়া এ ৪ টি পরিবার অন্যএ চলে গেছে। তাদের বাড়ি ঘরে এখনও পানি। নতুন গ্রামে পানি বন্দি মানুষ পানি কমলেও তারা বাড়ি ফিরতে পারছে না। 

অন্য দিকে সরকারি তথ্য অনুযায়ী উপজেলার ২৪০ টি নলকূপ, ৩৭০টয়লেট ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে। বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। বন্যার পানি পান করে অনেক এলাকার পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।

মিঠামইন উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আকাশ বসাক জানান, বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে উপজেলায় ২৪০ টি নলকূপ ও ৩৭০ টয়লেট  পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে পানি কমার সাথে সাথে ৪৫ টি নলকূপ উঁচু করা হয়েছে। নলকূপ মেরামত করা হয়েছে ১০ টি। নতুন করে ১৫ টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় নলকূপ মেরামত করা অব্যাহত রয়েছে। ২৯ শে জুন পর্যন্ত ৩০ হাজার পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট ও ৩০ কেজি বেøসিং পাউডার বন্টন করা হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বিভিন্ন ইউনিয়নে কাঁচা রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। নতুন করে হাওরে বাড়ি নির্মাণ করেছে, যেসকল পরিবার এগুলো নীচু হওয়ার পানিতে ভাসছে। মিঠামইনের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতি গ্রস্থ রাস্তা ও সরকারি স্হাপনার ক্ষতি হওয়ায় শুকনো মৌসুমে বিভিন্ন প্রকল্প দিয়ে এগুলো সংস্কার করা হবে। অন্য দিকে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতি গ্রস্থের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। 

আইআর /