|

এইডসঃ ঝুঁকিতে হিলি স্থলবন্দর

Published: Tue, 01 Dec 2020 | Updated: Tue, 01 Dec 2020

মোঃ আব্দুল আজিজ, হিলি : দিনাজপুর জেলার সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা। ভারত সীমান্তের সাথে অবস্থিত এই উপজেলাটি। 

এশিয়া মহাদেশের মধ্যে এইচআইভি-এইডসে আক্রান্তের দিক থেকে ভারতের অবস্থান প্রথম। আর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে গড়ে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াইশ’ পণ্যবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশ করে। এর মধ্য দিয়ে চার থেকে পাঁচশ’ চালক ও সহকারী দেশে প্রবেশ করছেন। 

একইভাবে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে সাত থেকে আটশ’ যাত্রী যাতায়াত করে থাকে। যদিও করোনার কারণে যাত্রী আসা-যাওয়া বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। কিন্তু দেশে প্রবেশের সময় ট্রাকের চালক, হেলপার ও পাসপোর্ট যাত্রীদের কোনও স্বাস্থ্য ও রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। এদিকে এইচআইভি এইডসের সংক্রমণরোধে কয়েকটি এনজিও কাজ করলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র দুটি এনজিও তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ অবস্থায় এইচআইভি এইডস আক্রান্তের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে হিলি স্থলবন্দরসহ সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ। 
 
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে এইচআইভিতে আক্রান্তের সংখ্য দাড়িয়েছে সাত হাজার ৩৭৪ জন। শুধুমাত্র ২০১৯ সালেই এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯১৯জন। আর এখন পর্যন্ত এইডসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এক হাজার ২৪২ জন। এর মধ্যে ২০১৯ সালেই মারা গেছেন ১৭০ জন।  

হিলির এনজিওগুলোর সূত্রে মতে, হিলিতে ১৪ থেকে ১৫ জনের মতো এইচআইভিতে আক্রান্ত রোগী রয়েছেন, যার মধ্যে 
২০১৯ সালেই তিন জন মারা গিয়েছেন। তারা তিন জনই হিজড়া। বাকিদের চিকিৎসা চলছে। 
 
কথা হয় হিলির স্থানীয় কয়েক জনের সাথে। তারা আরটিভি নিউজকে জানান, আমরা যতটুকু জানি, তাতে করে এইচআইভি এইডসে আক্রান্তের দিক থেকে ভারতের অবস্থান প্রথম। আর আমরা হিলিতে যারা বসবাস করি তারা বাংলাদেশ ও ভারতের নিকটতম সীমান্তবর্তী এলাকায় রয়েছি। প্রতিদিন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চার থেকে পাঁচশ’ চালক ও হেলপার দেশে প্রবেশ করে। তারা এখানে অনেক সময় রাত্রিযাপন করে। একইসঙ্গে ভাসমান যৌনকর্মী ও হিজড়াদের সঙ্গে মেলামেশা করে। এতে করে তাদের মাধ্যমেও এইচআইভি এইডস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আমাদের দাবি দুই দেশের পণ্য পরিবহনে জড়িত পরিবহন শ্রমিকদের যেন রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। 
 
কথা হয় হিলি স্থলবন্দরের কয়েকজন ভাসমান যৌনকর্মীর সাথে। তারা আরটিভি নিউজকে জানান, আমরা পেটের দায়ে টাকার বিনিময়ে কাজ করি। অনেক সময় কিছুটা বাড়তি টাকার লোভে ভারতীয় ট্রাকের চালক ও হেলপারদের সঙ্গে সময় কাটাই। একইসঙ্গে হিলিতে বাইরেথেকে আসা লোকদের সঙ্গেও আমরা সময় কাটাই। আমাদের এইচাইভি এইডস রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারপরেও আমরা সতর্ক থেকে তাদের সাথে মিলামেশা করি।  
 
হিলিতে এইচআইভি এইডস প্রতিরোধে কর্মরত লাইট হাউজ হিলির দুটি সাব ডিআইসি সেন্টারের কো অর্ডিনেটর মেস্তাাফিজুর রহমান ও আরিফুর রহমান আরটিভি নিউজকে জানান, হিলি একটি সীমান্ত এলাকা। দুই দেশের অনেকেই এখানে রাত্রিযাপনসহ যৌনকর্মীদের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। 

এতে করে এইচআইভি এইডসে আক্রান্তের মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। হিলিতে লাইট হাউজের দুটি ইউনিট এইচআইভি এইডস প্রতিরোধে কাজ করছে। এর মধ্যে একটি হিজড়া ও পুরুষ সমকামি জনগোষ্ঠিকে নিয়ে, অপরটি কাজ করছে যৌনকর্মীদের নিয়ে।  

/এসিএন