|

ভারতের মনিপুরে ভূমিধসে ৬২ জনের মৃত্যু

Published: Fri, 01 Jul 2022 | Updated: Fri, 01 Jul 2022

ভারতের মনিপুর রাজ্যের নোনি জেলায় প্রবল বর্ষণ ও তার ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) স্থানীয় প্রশাসন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

জেলা প্রশাসন জানায়, নোনি থানার প্রায় ১৪ কিমি উত্তর-পূর্বে মাখুয়াম এলাকার কাছে অবস্থিত টুপুল ইয়ার্ড রেলওয়ে নির্মাণ ক্যাম্পের কাছে স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাতের দিকে এই ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। 

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, প্রবল বর্ষণ ও তার ফলে সৃষ্ট ভূমিধসে ইতোমধ্যে ৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও অর্ধশতের মত লোক নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে তাদের সবাই মারা গেছে। ধ্বংসস্তুপের মধ্যে চাপা পড়া বাকিদের মৃতদেহ উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

প্রত্যন্ত পাহাড়ি এই এলাকায় ভূমিধসের পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হলেও প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে তাদের পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে ১৯ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন বলেও রয়টার্সকে জানিয়েছে।

এ নিয়ে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং জরুরি বৈঠক করেছেন। এক টুইট বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী বীরেণ সিং লেখেন, ‘আজ টুপুলে ভূমিধসের পরিস্থিতি মূল্যায়নে জরুরি বৈঠক ডেকেছি। ইতিমধ্যেই তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে। আসুন আজ তাদের জন্য প্রার্থনা করি। অপারেশনে সহায়তার জন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সও পাঠানো হয়েছে।’

তিনি জানিয়েছেন, ‘যখন ভূমিধস ঘটে, সে সময় সেখানে ৮১ জন ছিল। এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে জীবিত ও ৭ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি যে ৫৫ জন রয়েছে, তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।’

চলতি মাসে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ৭ প্রদেশ (সেভেন সিস্টার্স) ও বাংলাদেশে অস্বাভাবিক পর্যায়ের বর্ষণ হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ২০২২ সালের জুন মাসে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে বিগত কোনো বছরের এই মাসে এত বৃষ্টিপাত দেখা যায়নি।

ইতোমধ্যে প্রবল বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধসে সেভেন সিস্টার্স ও বাংলাদেশে দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। হতাহতদের লোকালয়ে আনতে সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। 

এদিকে, ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শাখা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নোনি জেলার ওই এলাকায় আরও ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দিয়েছে।

আইআর /