|

করোনাকালীন দ্বিতীয় হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

Published: Sun, 18 Jul 2021 | Updated: Sun, 18 Jul 2021

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে শনিবার (১৭ জুলাই) সীমিত পরিসরেই শুরু হয়েছে দ্বিতীয় হজের আনুষ্ঠানিকতা। মুসলমানদের সর্ববৃহৎ বার্ষিক মিলনমেলায় অংশ নিতে শনিবার থেকে মক্কায় পৌঁছতে শুরু করেছেন হাজীরা। এ বছরের হজে অংশ নিচ্ছেন সৌদি নাগরিক, অভিবাসীসহ শুধু সৌদি আরবে বসবাসরত ৬০ হাজার মানুষ। গত বছর এ সংখ্যা ছিল মাত্র ১০ হাজার।

হজ পালনের উদ্দেশ্যে পবিত্র মক্কা নগরীদের আসতে শুরু করেছেন হজযাত্রীরা। ফলে তাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে চারদিক। এবারও লোকজনকে মাস্ক পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই হজ পালন করতে হচ্ছে।

শনিবার সকাল থেকেই হাজীদের মক্কা নগরীতে স্বাগত জানাতে শুরু করে মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ কর্তৃপক্ষ। এদিন সকাল থেকেই মূলত প্রাথমিক “তাওয়াফ” সম্পাদন শুরু হয়েছে এবং চলবে রাত পর্যন্ত। পরদিন ৮ জিলহজ অর্থাৎ আজ (১৮ জুলাই) মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন হাজিরা। এদিন দিবাগত রাতে শুরু হবে হজের মূল কার্যক্রম। আগামীকাল (১৯ জুলাই) আরাফার দিনেই পালিত হবে পবিত্র হজ। পরদিন পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে মূল কার্যক্রম।

এই বছর পুরোপুরি ভ্যাকসিনযুক্ত দুই ডোজ টিকা গ্রহণের শর্তে হজের অনুমতি পেয়েছেন হাজীরা। বয়স সীমিত করে দেয়া হয়েছে ১৮ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে, যাদের কারোরই থাকতে পারবে না কোনও গুরুতর অসুস্থতা বা রোগের ইতিহাস।

শর্তপূরণ সাপেক্ষে অনলাইনে এ বছর হজের জন্য আবেদন করেছিলেন পাঁচ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি মানুষ। তার মধ্য থেকে ৬০ হাজার বাসিন্দাকে লটারির মাধ্যমে অংশ নেয়ার অনুমতি দিয়েছে সৌদি হজ মন্ত্রণালয়। 

এই বছরের হজ গত বছরের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি। ২০২০ সালের পাঁচ দিনের অনুষ্ঠানের সময় কোনও ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছিল না। যার কারণে সংক্রমণ এড়াতে হাজীদের ২০ জনের ছোট ছোট দলে ভাগ করে দেয়া হবে। কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে এ সিদ্ধান্ত। কোনো দলের কেউ অসুস্থ হলে ২০ জনের মধ্যেই ভাইরাস বিস্তারের শঙ্কা সীমিত থাকবে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এছাড়াও করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের অংশ হিসেবে হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনের সময় ফেস মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ন্যাপকিন ও নিজ নিজ জায়নামাজ সঙ্গে রাখতে হাজীদের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

মহামারিপূর্ব স্বাভাবিক সময়ে প্রতি বছর হজে অংশ নেন সারা বিশ্বের ২০ লাখের বেশি মুসলিম। ২০১৯ সালে হজ করেছেন রেকর্ড ২৫ লাখের বেশি মানুষ। যা এই দুই বছরে কমে এসেছে মাত্র ১০ ও ৬০ হাজারে।

আইআর /