|

নান্দাইলকে বাল্যবিবাহমুক্ত করতে উদ্যোগী ইউএনও

Published: Tue, 25 Aug 2020 | Updated: Tue, 25 Aug 2020

মোহাম্মদ আমিনুল হক বুুলবুল, নান্দাইল (ময়মনসিংহ) :  বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি, বাল্যবিবাহের কবলে পড়ে একটি ফুট ফুটে কিশোরীর জীবনে নেমে আসে অন্ধকারের কালো ছায়া। থমকে যায় আলোকিত জীবন, নেমে আসে অন্ধকার। থেমে যায় সুন্দর জীবনের প্রত্যাশা। আর তাই বাল্যবিবাহ রোধ করে আলোর পথে ফিরিয়ে নিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন নতুন যোগদান করা নান্দাইল উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ এরশাদ উদ্দিন। 

‘বাল্যবিবাহ আর নয়’ এমন নীতিতে গত ২৩ জুলাই নান্দাইলে যোগদানের পর থেকে উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাল্যবিবাহ বন্ধে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।  

তারই ধারাবাহিকতায় গত ১ মাসে উপজেলার দশালিয়া, পুরহরি, গাঙ্গাইল, জাহাঙ্গীরপুর, সিংরইল, ভাটিসাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় ১৫টির অধিক বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। সেই সাথে বরের বাবা ও কনের বাবাকে জরিমানা ও বরকে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। 

আধুনিক নান্দাইল বিনির্মাণে সকলের সহযোগিতায় বাল্যবিবাহ মুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা কেবল সম্ভব বলে ইউএনও মোঃ এরশাদ উদ্দিন আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘একটি বাল্যবিবাহের কারণে সমাজে বহুমাত্রিক সমস্যা সৃষ্টি হয়। এ থেকে উত্তরণের পথ হলো বাল্যবিবাহ বন্ধ করা। আর তাই আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে সকলের সহযোগিতায় নান্দাইলকে বাল্যবিবাহ ও মাদকমুক্ত করবো।’ 

নান্দাইল উপজেলায় যোগদানের পূর্বে মোঃ এরশাদ উদ্দিন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) থাকা অবস্থায় প্রথম ৬ মাসে ২৩১টি বাল্যবিবাহ বন্ধ ও বিভিন্ন জনকে জেল জরিমানা প্রদান করেন। ত্রিশাল উপজেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা করায় ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোঃ এরশাদ উদ্দিনকে জনপ্রশাসন পদক প্রদান করেন।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম ব্যাক্তিত্ব মো: ফজলুল হক ভূইঁয়া ও মো. শাহ আলম ভুইয়া বলেন, ‘ইউএনও মোঃ  এরশাদ উদ্দিন বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমরা আশা প্রকাশ করি ইউএনও  এরশাদ উদ্দিনের মাধ্যমেই নান্দাইল উপজেলা বাল্যবিবাহ মুক্ত হবে।’

ও/এসএ/