|

নারী ফুটবলের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হলেন বোদার দুই কন্যা

Published: Fri, 29 Oct 2021 | Updated: Fri, 29 Oct 2021

মাজেদুল ইসলাম আকাশ, বোদা (পঞ্চগড়) : অনূর্ধ্ব ১৫ জাতীয় দলে চান্স পেলেন বোদা উপজেলার নুসরাত জাহান মিতু ও তৃষ্ণা রানী রায়। বুধবার (২৭ অক্টোবর) ফুটবল ফেডারেশন থেকে পাঠানো চিঠির মাধ্যমে জাতীয় দলে চান্স পাওয়া বিষয়টি তাদের নিশ্চিত করা হয়। এ খবর পাওয়ার পর উপজেলার মানুষের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায়। 

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলাটি  শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, ও খেলাধুলায় অন্য উপজেলার চেয়ে অনেক এগিয়ে। 

বাফুফে কর্তৃক ওয়ান স্টার প্রাপ্ত বোদা ফুটবল একাডেমির পরিচালক ও  প্রশিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন বিপুলের হাত ধরে তৃষ্ণা ও মিতুর পথ চলা। প্রমীলা ফুটবলকে এগিয়ে নিতে মোফাজ্জল হোসেন বিপুল  ছুটে চলেন গ্রাম হতে গ্রামাঞ্চলে। 

নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলেন বোদা ফুটবল একাডেমি। এই একাডেমিতে পুরুষ , মহিলা  উভয়ের কোচিং করানো হয়। ইতিমধ্যেই জাতীয় ও স্থানীয় ভাবে পুরুষ  ও মহিলা দল ব্যাপক সুনাম অর্জন করে। 

একাডেমির খেলোয়াড়েরা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য  ক্লাব ও বিকেএসপিতে অবস্থান করছে। তবে পুরুষ  খেলোয়াড় দলের চেয়ে প্রমীলা দল এগিয়ে থেকে চমক সৃষ্টি করে। জেএফএ কাপ সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাডেমির প্রমীলারা খেলায় অংশগ্রহণ করে আসছেন। 

বর্তমানে জেলার প্রমীলা ফুটবলে  বোদা ফুটবল একাডেমির খেলোয়াড় সংখ্যা বেশী বলে জানা যায়।  বিপুলের এই একাডেমিতে বর্তমানে পুরুষ  ও প্রমীলা মিলে প্রায় দুই শতাধিক খেলোয়াড় রয়েছে। সম্প্রতি তাঁদের এই অর্জন উপজেলাকে আরও অনেক সুনাম এনে দিয়েছে। 

বোদা ফুটবল একাডেমির প্রশিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন বিপুল বলেন, অনেক সাধনা ছিল তাঁদের নিয়ে। তারাসহ আরও অনেক ভালো খেলোয়াড় রয়েছে এই একাডেমিতে। আশা করছি মিতু ও তৃষ্ণার মতো এই একাডেমির অনেক খেলোয়াড় জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করবে। 

তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সমাজব্যবস্থায় তাদের বাসা হতে বের করতে নানান কথা সহ্য করতে হয়েছে। নানান রকম কু উক্তি হজম করে তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এ জন্য তাঁদের অভিভাবকদের সহযোগিতা ছিল। তাঁরা সহযোগিতা না করলে আজ আমি তাদের এই জায়গায় পৌঁছাতে পারতাম না। 

বোদা পাইলট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক ও ফুটবল একাডেমির উপদেষ্টা রবিউল আলম সাবুল বলেন, ‘মেয়ে দুটি আমার বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তাদের এই অর্জন আমার প্রতিষ্ঠানের জন্য অনেক সুনামের। আমি চাই মিতু ও তৃষ্ণার মতো আরও অনেক  খেলোয়াড় তৈরি করুক বিপুল। তাঁর এই সব কাজে সার্বক্ষণিক আমি সহযোগিতা করেছি।’ 

বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোলেমান আলী বলেন, ‘তাদের এই অর্জন উপজেলার সুনাম বাড়িয়েছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে এই একাডেমির খোঁজ খবর রাখি। খেলোয়াড় তৈরির ক্ষেত্রে আমার সহযোগিতা অব্যাহত  থাকবে।’ 

আইআর /