|

‘ভাত খাইতে বেশি টাকা লাগে, তাই দুপুরে না খেয়েই থাকি’ 

Published: Sat, 25 Jan 2020 | Updated: Sat, 25 Jan 2020

পলাশ আহমেদ ভৈরব (কিশোরগঞ্জ): শিশুকালের হৈ-হুল্লুর, খেলাধুলা আর স্কুল জীবনের নতুন বন্ধুবান্ধব এইসবের কোনো মানে জানা নেই তার। মাথায় ডালা নিয়ে রাস্থায়, রাস্থায় হাসি মুখে ফেরি করতে দেখা যায় তাদের। কখনো, কখনো  গান ধরে মনের আনন্দে। সারাদিনে যা আয় হয় তাই দিয়ে চলে রাতে দু-মুঠো ভাত আর সকালে পেঁয়াজ, মরিচ আর পান্তা (পানি ভাত)। বড়জোর কোপাল ভালো হলে পান্তার সঙ্গে আলুর ভর্তা থাকে। দুপুরে ভাত খেতে বেশি টাকা লাগে বলে না খেয়েই থাকে সে। বলছিলাম জীবন যুদ্ধে এক ক্ষুদে সৈনিক পরশ(৭) এর কথা।

পরশ কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার, কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আদর্শ পাড়া গ্রামের মো.মাঈন উদ্দিনের ছেলে।পরিবারে অভাবের তাড়না চোকাতে দ্বিতীয়  শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর মাত্র সাত বছর বয়সেই মাথায় নিতে হলো ফেরির-ডালা। বাবা মঈন চালায় রিক্সা, তা ছাড়া পরিবারের অন্য তিন সদস্যরাও পরশের পেশাতেই নিয়োজিত। 

তার সাথে দেখা হয় ভৈরব পৌর লঞ্চ টার্মিনালে, যার কারণে ছাড়লাম আমি জগত ও সংসার তবুও সে পাষান বন্ধু হইলো না আমার। পরশ এর কন্ঠে গানটি যেমন মিষ্টি তেমনি যেনো হৃদয় ক্ষুন্ন করছিলো। পড়াশোনা না করার কারন জানতে চাইলে সে বলে পড়াশোনা করলে খাবো কি। আর বেঁচে না থাকলে পড়াশোনা দিয়ে কি হবে। 

পরশ এর  স্বপ্ন বড় হয়ে সে একজন শিল্পী হবে। তখন আর  সকাল থেকে রাত্র পর্যন্ত  রাস্তায়, রাস্তায় তাকে ফেরির ডালা নিয়ে
ঘুরতে হবেনা। 

পরশ এর মত হাজারো পথ শিশু রয়েছে, যারা শৈশবের মানে বোঝার আগেই জীবন যুদ্ধের সৈনিকের খাতায় নাম লিখিয়েছে। শিক্ষা তাদের কাছে নিছক বিলাশিতা মাত্র। দু বেলা পেট ভরে খেতে পাওয়ায় তাদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। পরশ পথশিশু না হলেও তার দিন কাটছে এখন পথেই।

আইআর /