|

‌‌অসহায় তিন শিশু, দুঃখ তাদের নিত্তদিনের সঙ্গী

Published: Thu, 01 Oct 2020 | Updated: Thu, 01 Oct 2020

মোঃ ইউসুফ হোসেন, নাটোর: অসহায় তিন শিশুর নাম গুলো হল সুরাইয়া, রিয়াদ ও রিয়ান। শিশু গুলোর মায়ের নাম রেনুকা বেগম পিতার নাম বাদল মিয়া। অসহায় ছোট্ট তিন শিশুর করুণ দুঃখের গল্প লিখতে গিয়ে ও খোঁজ খবর নিতে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি।

তিন ভাই-বোনের মধ্যে সুরাইয়া বড়। সুরাইয়ার জন্মের বছর খানেক পর রিয়াদ-রিয়ান জমজ ভাই এর জন্ম। সুরাইয়ার জন্মের বছর খানেক পর রিয়াদ-রিয়ান জমজ ভাই যখন মায়ের পেটে ছিলো তখন ওদের বাবা ওদের মা'কে ডিভোর্স দেয়, বর্তমানে তার কোনো খোঁজ নেই। 

অসহায় মা শিশু গুলোকে দু'বেলা দু'মুঠো পেটে ভাত দেওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। ভাগ্য যখন বিরোধিতা করে তখন কি আর বাঁচার উপায় থাকে। মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে শিশু গুলোর মায়ের শেষ সম্বল গার্মেন্টস এর চাকুরিও চলে যায়। 

অভাবের কাছে পরাজিত হয়ে ওদের মা গত সপ্তাহে আত্মহত্যা করে। এই অসহায় শিশু তিনটি এখন ওদের নানী মনোয়ারা বেওয়া এর বাড়িতে অবস্থান করছে। নানীর বাড়ি নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার ধনোকোড়া গ্রামে। 

নানীও চরম অসহায় কারণ ওদের নানা অনেক আগেই মৃত্যুবরণ করেছে। কোন জমিজমা নেই মনোয়ারা বেওয়া অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালায়। নানীরও মরার উপর খাড়ার ঘা, নিজেই চলতে পারে না এর উপর তিন তিনটা ছোট ছোট নাতিপুতি। 

স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংগঠন মানবতার আলো'র সভাপতি এস এম আরিফুল হক বলেন, অসহায় শিশু গুলোর খবর পেয়ে আমাদের স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংগঠন মানবতার আলো'র পক্ষ থেকে অসহায় শিশু গুলোর খোঁজ খবর নেওয়ার পাশাপাশি নগদ ২ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। 

সমাজের বিত্তবানদের এতিম ও অসহায় এ শিশুদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসার অনুরোধ করছি।স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী বলেন, মৃত আমজাদ হোসেন মোল্লার স্ত্রী মনোয়ারা বেওয়া তিনটা ছোট ছোট নাতিপুতি নিয়ে খুবই কষ্টে দিন যাপন করছে। 

যে কষ্ট মুখে বলে শেষ করা যাবে না। নিজের কোন জমিজমা নেই অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালায় মনোয়ারা বেওয়া। করোনাকালীন সময়ে সরকারি ও আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে যতটুকু পারি সাহায্য সহযোগিতা করেছি। সমাজের বিত্তশালী ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে এই অসহায় শিশু তিনটার পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

আরআর#