|

আটোয়ারীতে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

Published: Sat, 29 Aug 2020 | Updated: Sat, 29 Aug 2020

মো. ইউসুফ আলী, আটোয়ারী (পঞ্চগড়) : পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলারয় ৫০ বছর বয়সী ব্যক্তি কর্তৃক ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের চুচুলি গ্রামে। এ ব্যাপারে মামলার বাদী বলেন, ‘একজন চিকিৎসকের এমন লম্পট চরিত্রের বিরুদ্ধে সঠিক বিচার পাওয়ার আশায় আদালতে মামলা করেছি।’ অপরদিকে আসামি হোমিও চিকিৎসক রমেশ চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ওই শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ সঠিক নয়। শিশুটির সাথে ধর্ষণচেষ্টার কোনো ঘটনা ঘটেনি। শিশুটি সম্পর্কে আমার নাতনী হওয়ায় প্রায় সময় তার সাথে রসিকতা করি। সেদিনও রসিকতা করেছি। 

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ধর্ষণচেষ্টার স্বীকার হওয়া ১০ বছর বয়সী কন্যা শিশুটির বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের শাহাপাড়ায়। তার বাবা রংপুরে একটি ইলেকট্রিক কোম্পানিতে কাজ করেন। শিশুটির মা জীবন-জীবিকার তাগিদে জর্ডান দেশে অবস্থান করছেন। কন্যা শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের চুচুলি গ্রামের ব্র্যাক শিশু নিকেতনে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ালেখা করছে। 

গত ১৪ আগস্ট বিকেলে স্থানীয় হোমিও চিকিৎসক মৃত আষাঢ়ু বর্মনের পুত্র রমেশ চন্দ্র বর্মনের কাছে শিশুটি তার মামীর জন্য চোখের ওষুধ আনতে যায়। বাড়ির সাথে চিকিৎসা চেম্বার হওয়ায় লোকজনের অনুপুস্থিতি দেখে ওষুধ দেয়ার কথা বলে লম্পট হোমিও চিকিৎসক রমেশ চন্দ্র বর্মন (৫০) অবুঝ কন্যা শিশুটিকে ফুসলিয়ে চেম্বার সংলগ্ন শয়ন কক্ষে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। ধর্ষণের চেষ্টাকালে শিশুটি নিজেকে রক্ষা করতে লম্পট রমেশের তর্জনী আঙ্গুল কামড় দিয়ে আহত করে। লোকজন উপস্থিত হতে থাকলে ধূর্ত লম্পট হোমিও চিকিৎসক রমেশ ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে গা ঢাকা দেন।  

ভিকটিমের বাবা মো. আব্দুল করিম (জীবন)(৩৪) বাদী হয়ে হোমিও চিকিৎসক রমেশ চন্দ্র বর্মনকে আসামি করে পঞ্চগড়ের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ২০০০ সালের নারী নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী/০৩) এর ৯ (৪)(খ) ধারা মতে মামলা দায়ের করেন। 

সূত্র জানায়, ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মামলাটি সঠিক তদন্তের স্বার্থে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিনুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) উপজেলা ভূমি অফিসে এসি ল্যান্ডের দপ্তরে মামলার উভয় পক্ষের লোকজনদের ডেকে নিয়ে সঠিক তদন্তের স্বার্থে পৃথক পৃথকভাবে জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। 

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আদালত আমাকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করেছি। তদন্তের নিরপেক্ষ রিপোর্ট আদালতে প্রেরণ করা হবে।

ও/ডব্লিউইউ