|

খেলতে গিয়ে হঠাৎ ইনজুরির শিকার?

Published: Sat, 07 Nov 2020 | Updated: Sat, 07 Nov 2020

অভিযাত্রা ডেস্ক : খেলতে গেলে ছোটখাটো ইনজুরি হতেই পারে। স্পোর্টস মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ফিজিও এবং প্রশিক্ষকরা তাই খেলোয়াড়দের সার্বক্ষণিক যত্ন নেবেন এবং ইনজুরি এড়াতে পরামর্শ দেবেন। সাধারণ মানের কিছু আঘাত ও তার প্রতিকার সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলা প্রয়োজন। যে কোন খেলায় অংশগ্রহণের আগে খেলোয়াড়কে অবশ্যই ওয়ার্মআপ বা কিঞ্চিৎ উষ্ণ হয়ে নিতে হবে। 

ওয়ার্মআপ বলতে তাকে ১* থেকে ১৫ মিনিট হালকা দৌড়াতে হবে এবং প্রত্যেকটি জয়েন্ট স্ট্রেস করে নিতে হবে। হালকা খাবার খেতে হবে। তবে পর্যাপ্ত পানীয় খেতে হবে। দৌড়াতে গিয়ে পা বেকায়দায় পড়ে গেলে হাঁটু ও গোঁড়ালিতে ইনজুরি হতে পারে। বিশেষ করে অ্যাংকেল স্প্রেন বা একিলিম ইনজুরি হলে তো সে দৌড়াতেই পারবে না। পড়ে গিয়ে হাঁটুতে বিভিন্ন ধরনের ইনজুরি হতে পারে। তাছাড়া জোরে দৌড়াতে গেলে অনেক সময় মাসল পুল হয়।

বোলার বিশেষ করে ফার্স্ট বোলাররা কাঁধ ও কনুইতে আঘাত পেতে পারেন। ক্যাচ ধরতে গিয়ে আঙুল কেটে বা ছিঁড়ে যেতে পারে। প্রতিপক্ষের ছোড়া বলে মাথা বা শরীরের যে কোন স্থানে মারাÍক আঘাত হানতে পারে। যে কোন ধরনের আঘাতের চিকিৎসার প্রথম শর্ত হচ্ছে, খেলোয়াড়কে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে হবে।

একজন ভালো ব্যাটসম্যান যদি দৌড়াতে না পেরে মাঠ ছাড়েন তা হলে টিমের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তাই অনেক সময় একজন অতিরিক্ত রানার নিয়ে ইনিংস শেষ করা হয়। ইনজুরির মাত্রার ওপর নির্ভর করে তিনি পরবর্তী খেলায় অংশ নিতে পারবেন কিনা। চিকিৎসার প্রথম পর্যায়ে খেলোয়াড়ের আঘাতের স্থানে ব্যথা থাকলে প্রথমে বরফ দিতে হবে। সঙ্গে ব্যথার ওষুধও দেয়া যেতে পারে। বরফ ও ব্যথার ওষুধ ফুলা এবং ব্যথা দুটিই কমাবে। ভেতরে মৃদু রক্তক্ষরণ থাকলে সেটাও বন্ধ করবে। 

আক্রান্ত স্থানকে স্প্লিন্ট বা ব্যান্ডেজ দিয়ে ইমমোবিলাইজ বা স্থিতিশীল করতে হয়। ইনজুরির মাত্রা বুঝে আঘাতপ্রাপ্ত প্রত্যঙ্গকে চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত স্থিতিশীল ও বিশ্রামে রাখতে হবে। আক্রান্ত স্থান ব্যথামুক্ত হলে বুঝতে হবে আশানুরূপ হিলিং হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে সুনির্দিষ্ট ব্যায়ামের মাধ্যমে ওই অঙ্গ বা প্রত্যঙ্গকে সচল ও শক্তিশালী করতে হবে। ইনজুরির মাত্রা বেশি হলে আঘাত সেরে যাওয়ার পরও খেলোয়াড় তার আগের মতো শক্তি ও স্বাভাবিকতা ফিরে নাও পেতে পারেন। 

আক্রান্ত স্থানে যদি দ্রুত ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা না নেয়া হয়, তা সেটা যত ছোট আঘাতই হোক না কেন, সেরে যেতে সময় বেশি লাগবে এবং একইভাবে শক্তি ও স্বাভাবিকতা ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। তাই আঘাত ছোট-বড় যাই হোক না কেন, দ্রুত ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা নেয়া অপরিহার্য। তা না হলে একজন ভালো খেলোয়াড় তার দক্ষতা হারাবে। দল ও দেশের জন্য তা শুভ নয়।

ইনজুরির পর পর্যাপ্ত ও যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক ভালো খেলোয়াড়কে অকালেই ঝরে পড়তে দেখা গেছে। কাজেই ইনজুরি এড়াতে প্রথমত পর্যাপ্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং যথাযথ কৌশল অবলম্বন করে খেলতে হবে।

ও/এসএ/