|

বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও এগিয়ে যাবে দেশ: প্রধানমন্ত্রী 

Published: Thu, 26 May 2022 | Updated: Thu, 26 May 2022

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ কোনো ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকবে না, আমরা সেটা প্রমাণ করেছি। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অপরদিকে করোনাভাইরাসের আঘাত। তারপর এদিকে হলো আবার ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ, যার ফল বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা। এর মধ্যেও আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি আমাদের দেশের মানুষের যেন কোনো রকম কষ্ট না হয়। তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অর্থনীতিকে গতিশীল রাখা এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। 

বৃহস্পতিবার (২৬ মে)  ‘বাংলাদেশ ডেলটা প্ল্যান-২১০০ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স : ইস্যুস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস অব ইমপ্লিমেন্টেশন’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ বক্তব্য দেন। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনৈতিক বিভাগ এবং বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের দূতাবাস যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
 
কৃষিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আবদুুর রাজ্জাক, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এবং বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত এ্যনি গেরাড ভান লিউয়েন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

করোনা সংকট মোকাবিলায় সরকারের দেওয়া বিভিন্ন প্রণোদনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নানা ধরনের প্রণোদনা দিয়েই অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলার হওয়ার পাশাপাশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আমরা চাই, আমাদের দেশ আরো উন্নত হবে। 

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) যেমন সফলভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নেও সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের মানুষের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য পুষ্টির নিশ্চয়তা একান্তভাবে অপরিহার্য। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে কিন্তু আমাদের ভৌগোলিক সীমারেখা বৃদ্ধি পাবে না। সেটা মাথায় রেখে আমরা গবেষণা করছি। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য চাহিদা পূরণ করা, সুপেয় পানি-স্যানিটেশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আমরা গবেষণা করে যাচ্ছি এবং তা বাস্তবায়নও করে যাচ্ছি।  

সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশ একটি ব-দ্বীপ। কাজেই এই ব-দ্বীপটাকে আমাদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। ব-দ্বীপ পরিকল্পনা একটি তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক টেকনো ইকোনোমিক মহাপরিকল্পনা, যা পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়নে ২০২৫ সাল নাগাদ জিডিপির প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থের প্রয়োজন হবে। ফলে অর্থায়ন থেকে শুরু করে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং যারা আমাদের উন্নয়ন সহযোগী, তাদের অংশগ্রহণ একান্তভাবে অপরিহার্য। 

ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে এগিয়ে আসায় নেদারল্যান্ডসকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বন্ধুপ্রতিম অন্য দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।  

দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিনিয়ত আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে মোকাবিলা করে চলতে হয়। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, পাহাড়ধস প্রতিনিয়ত আমাদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোনো মতেই দায়ী নয়, কিন্তু বাংলাদেশকে এ আঘাতটা সহ্য করতে হবে। সে ক্ষেত্রটা চিন্তা করে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। কিছু স্বল্পমেয়াদি, কিছু মধ্যমেয়াদি ও কিছু দীর্ঘমেয়াদি।    

-এমজে