|

টিকা নেওয়া ৯৮ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি: বিএসএমএমইউ

Published: Mon, 02 Aug 2021 | Updated: Mon, 02 Aug 2021

কোভিড-১৯ এর টিকা নেওয়া ৯৮ শতাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে যারা আগে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন তাদের শরীরে তুলনামূলক বেশি অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি কোভিশিল্ড টিকা নেওয়া ২০৯ জন টিকা গ্রহণকারীদের ওপর গবেষণায় চালিয়ে এ ফল পাওয়া গেছে।

এতে জানানো হয়, টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে ৯৮ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে বাকি দুই শতাংশের মধ্যে যাদের অ্যান্টিবডি পাওয়া যায়নি, তারা জটিল রোগে আক্রান্ত, অনেক বয়স্ক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম।

সোমবার (০২ আগস্ট) ‘হিমাটোলজিক্যাল প্যারামিটার্স অ্যান্ড অ্যান্টিবডি টাইটার আফটার ভ্যাকসিনেশন অ্যাগেইনস্ট সার্স কোভ-২’ শীর্ষক গবেষণার এ ফলাফল জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

টিকা নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, অবশ্যই করোনাভাইরাসের টিকা নিতে হবে। টিকা নিলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি একেবারেই কম।

দেশেই টিকা উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, আজকের এই গবেষণা থেকে বাংলাদেশে জনগণের ওপর টিকা প্রয়োগের পর কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্টিবডির উপস্থিতির পরিবর্তন এবং পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচিতে নতুন অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য টিকার অ্যান্টিবডি তৈরির কার্যক্ষমতা পর্যালোচনার জন্য আরও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। 

সেই সঙ্গে প্রথম ডোজ নেওয়ার তিন থেকে চার মাস পরে দ্বিতীয় ডোজ নিলে কী পরিমাণ অ্যান্টিবডি তৈরি হয় সেই বিষয়েও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

তবে টিকা নেওয়ার পাশাপাশি সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলতে হবে জানিয়ে অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, টিকা নেওয়ার উদ্দেশ্য হলো শরীরে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাবে এবং করোনায় আক্রান্ত হলে রোগের জটিলতা কমাবে এবং রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি কমাবে।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তিন-চতুর্থাংশ পুরুষ এবং অর্ধেকের বেশি স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের সঙ্গে জড়িত। আর তাদের মধ্যে ৩১ শতাংশের আগে করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে।

সেই সঙ্গে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানিসহ অন্যান্য রোগে ভুগছিলেন। তবে এ ধরনের রোগের কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টিকা গ্রহণের পর অ্যান্টিবডি তৈরিতে কোনও পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়নি।

-এমজে