|

গবেষণায় ব্যয় কমাচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

Published: Fri, 14 Jun 2019 | Updated: Fri, 12 Jul 2019

অভিযাত্রা ডেস্ক : দেশে কর্মরত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদ্যমান আইন উপেক্ষা করেই গবেষণায় ব্যয় কমাচ্ছে। 

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক বাজেটের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ গবেষণা খাতে ব্যয় করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ সালে গবেষণা খাতে দেশের ৬৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় হয়েছিল ৯৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আর ২০১৭ সালে ৭৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এ খাতে ব্যয় করেছে ৭৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ইউজিসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০৩টি। প্রতি বছরই ওসব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ব্যয় বাড়ছে। আর ভবন ভাড়া ও বেতন-ভাতার মতো খাতগুলোয় ওই ব্যয়ের বড় একটি অংশই চলে যাচ্ছে। তার বিপরীতে গবেষণা, প্রকাশনা, বই সংগ্রহ ও শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক নিয়োগের মতো শিক্ষার মানোন্নয়নমূলক খাতগুলো থেকে যাচ্ছে অবহেলিত। বিগত ২০১০ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতে ব্যয়ের বাধ্যবাধকতা রাখা হলেও দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশই এখন গবেষণা খাতে ব্যয় কমাচ্ছে। 

সূত্র জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) বিগত ২০১৬ সালে গবেষণা খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৪৯ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। আর ২০১৭ সালে তা নেমে দাঁড়ায় ৪২ লাখ ১১ হাজার টাকায়। কৃষি ও প্রযুক্তিবিষয়ক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ঘটেছে তার উল্টো। আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। 

বিগত ২০১৬ সালে ওই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৫১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। আর ২০১৭ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা ব্যয় নেমে আসে ৪৮ লাখ ১০ হাজার টাকায়। তাছাড়া ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক ২০১৬ সালে গবেষণা খাতে ব্যয় করেছিল ৫০ লাখ ২৪ হাজার টাকা। ২০১৭ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৯ লাখ টাকা।

সূত্র আরো জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শুধু গবেষণা নয়, গ্রন্থাগার ও ল্যাবরেটরি উন্নয়নের মতো বিষয়েও অমনোযোগিতা রয়েছে। বিগত ২০১৭ সালে ৮৭টি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার ও ল্যাবরেটরি খাতে ব্যয় করেছে ৯০ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আর ২০১৬ সালে ৭৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ওই খাতে ব্যয় করেছে ৯০ কোটি ৩২ লাখ টাকা। গ্রন্থাগার ও ল্যাবরেটরি খাতে ব্যয় কমে যাওয়া উচ্চশিক্ষার জন্য ইতিবাচক নয়। কারণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার। 

অথচ দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গ্রন্থাগার উন্নয়নে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখছে না। তাতে গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ চাহিদা অনুযায়ী নতুন বই সংযোজন করতে পারছে না। তাছাড়া যে হারে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বাড়ছে, সে অনুযায়ী গড়ে উঠছে না গ্রন্থাগার অবকাঠামো। সব মিলিয়ে দেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র গ্রন্থাগার খুবই অবহেলিত থেকে যাচ্ছে। আর গবেষণা না হওয়ায় ব্যয় কমবে, এটাই স্বাভাবিক।

এদিকে এ প্রসঙ্গে ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান জানান, অনুৎপাদনশীল খাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক ব্যয়ের অধিকাংশ অর্থ খরচ হচ্ছে। গবেষণা ও বই কেনাসহ শিক্ষার মানোন্নয়নে খরচ হচ্ছে কম। ভাড়া করা ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ফলে আয়ের বড় একটা অংশ ব্যয় হচ্ছে ভাড়া ও মেইনটেন্যান্স বাবদ। তাছাড়া খণ্ড কালীন শিক্ষক বেশি হওয়ার কারণেও ব্যয় বাড়ছে।
 

/এসিএন