|

শেষ বলের রোমাঞ্চে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ 

Published: Mon, 22 Nov 2021 | Updated: Mon, 22 Nov 2021

আশা জাগিয়েও ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে পারলো না বাংলাদেশ। শেষ বলের রোমাঞ্চে হতাশায় পুড়ল টাইগাররা।

মিরপুরে শেষ টি-টোয়েন্টিতে শেষ বলে জয়ের জন্য পাকিস্তানের দরকার ২ রান। ১ রান হলে খেলা যেত সুপার ওভারে। কিন্তু অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বল বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় মোহাম্মদ নাওয়াজ। পাকিস্তানকে হারানোর খুব কাছে গিয়েও এবার হতাশায় পুড়ল বাংলাদেশ।

বাবর আজমরা জিতল ৫ উইকেটের বড় ব্যবধানে। এতে তিন ম্যাচ সিরিজের সবগুলো হেরে হোয়াইটওয়াশ হলো মাহমুদউল্লাহরা।

ম্যাচে বড় একটা সময় পর্যন্ত তেমন উত্তাপ ছিল না। একসময় অনায়াসে জেতার পথেই ছিল পাকিস্তান। মোহাম্মদ রিজওয়ান আউট হওয়ার পর সরফরাজ এসে কয়েকটি ডট বল খেলে বাড়িয়ে দেন সফরকারীদের চাপ। বাংলাদেশও সুযোগটা লুফে নিয়েছিল দারুণভাবে।

শেষ ওভারে খেলা নিয়ে এসে জেতার দারুণ সুযোগও তৈরি হয়ে যায়। শেষ ৬ বলে ম্যাচ জিততে পাকিস্তানের দরকার ছিল ৮ রান। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ বল হাতে নিয়ে এসেই করেন বাজিমাত। তার প্রথম বল থেকে আসেনি কোনো রান। পরের দুই বলে সরফরাজ ও দারুণ খেলতে থাকা হায়দার আলীকে ক্যাচ বানিয়ে ফিরিয়ে দেন তিনি। ইফতিখার আহমেদ এসেই ছক্কা মেরেছিলেন। পরের বলে তাকেও আউট করেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু শেষ বলের সমীকরণ আর মেলেনি।

রান-তাড়ায় পাকিস্তানের হয়ে ৩৮ বলে সর্বোচ্চ ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন হায়দার। ৪৩ বলে ৪০ করে ভুল সময়ে ফেরেন রিজওয়ান।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল মাহমুদউল্লাহ। শেষ ওভার করতে এসে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

এর আগে ১২৫ রানের সহজ লক্ষ্যে নেমে সতর্কভাবে শুরু করেন বাবর আজম-রিজওয়ান। পাওয়ার প্লে পার করে দেন তারা। প্রথম দুই ম্যাচের মতো গতকালও অবশ্য ব্যর্থ পাকিস্তান অধিনায়ক। আগের দুই ম্যাচে শুরুতে ফিরলেও এবার থিতু হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ইনিংস টানতে পারেননি। ২৫ বলে ১৯ রান করে লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে স্লগ সুইপে ওড়াতে গিয়ে দেন সহজ ক্যাচ।

এরপর বড় জুটিতে খেলা নিজদের করে নেয় তারা। হায়দারকে নিয়ে ৫১ রানের জুটি পান রিজওয়ান। রান-তাড়ায় খুব একটা চাপ না থাকায় তাদের তাড়াহুড়ো করতে হয়নি। পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লক্ষ্যের দিকে এগোতে থাকেন তারা। কিন্তু রিজওয়ান আউট হওয়ার পরই বদলাতে থাকে চিত্র। সরফরাজকে ক্রিজে চেপে ধরে বাংলাদেশের বোলাররা। শেষ তিন ওভারে দরকার ছিল ১৯ রান।

তাসকিন আহমেদ ১৮তম ওভারে দেন ৪ রান। শহিদুলের ১৯তম ওভার থেকে আসে ৭ রান। শেষ ওভারে তাই তৈরি হয় দোদুল্যমান পরিস্থিতি। প্রথম বল ডট দিয়ে সরফরাজ ক্যাচ দেন মিড উইকেটে। স্ট্রাইক পেয়ে হায়দার আলী পরের বলে ধরা দেন লং অনে। ক্রিজে এসে চতুর্থ বলটা বোলারের মাথায় ওপর দিয়ে ছক্কায় উড়ান তিনি। পঞ্চম বলে ইফতেখার ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে সহজ ক্যাচ দিলে ফের জমে উঠে ম্যাচ। কিন্তু শেষ বলে আর কাজ হয়নি। 

প্রথম দুই ম্যাচের মতো এদিনও টস জিতেছিল বাংলাদেশ, যথারীতি নিয়েছিল ব্যাটিং। মিরপুরের উইকেটে দুপুরের দিকেই ব্যাট করার জন্য থাকে সহায়ক পরিস্থিতি। কিন্তু সেটা আর কাজে লাগল কোথায়?

শুরুটা অবশ্য আগের দিনের থেকে কিছুটা ভালো। পাওয়ার প্লেতে একটির বেশি উইকেট না হারিয়ে বাংলাদেশ তুলে ৩২ রান। তবে এর ২০ রানই শামীম পাটোয়ারীর। ওপেনার নাঈম পাওয়ার প্লেতে মারতে পারেননি কোনো বাউন্ডারি। ১২ বলে তখন তার রান ৫।

এর আগে একটি বাউন্ডারিতে শুরু করা নাজমুল হোসেন শান্ত অভিষিক্ত শাহনাওয়াজ দাহানির বলে হয়ে যান বোল্ড। ৭ রানে প্রথম উইকেট।

শামীম অবশ্য শুরুটা ধরে রাখতে পারেননি। লেগ স্পিনার উসমান কাদির আসতেই তার বলে স্লগ সুইপে ক্যাচ উঠিয়ে থামেন ২৩ বলে ২২ রান করে।

নাঈম ছিলেন আঁটার মতো। টি-টোয়েন্টির কোনো চাহিদাই মেটেনি তার ব্যাটে। এক প্রান্ত আলগে রেখে বাড়িয়ে গেছেন রান রেটের চাপ।

আফিফ হোসেন এদিনও চার নম্বরে নেমে থিতু হয়ে টানতে পারেননি। তাকেও আউট করেন উসমান। এই লেগ স্পিনারের বলে ওড়াতে গিয়ে টপ এজ হয়ে সহজ ক্যাচ ফেরেন ২১ বলে ২০ করা আফিফ।

অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর তৃতীয় ম্যাচেও ব্যর্থ। ১৪ বলে করেছেন ১৪। ১৯তম ওভারে এর আগে আউট হয়ে যান নাঈম। ৫০ বল খেলে তার ৪৭ রানের ইনিংস প্রশ্ন তোলে তার টি-টোয়েন্টি দলে অবস্থান। ব্যাট করার জন্য ম্যাচের সবচেয়ে ভালো সময়টায় নাঈম চাহিদামতো দ্রুত রান আনতে না পারায় ডুবিয়েছেন দলকে।

-এমজে/ডব্লিউইউ