|

শেষটা রাঙ্গানো হলো না বাংলাদেশের

Published: Fri, 10 Sep 2021 | Updated: Fri, 10 Sep 2021

শেষটা রাঙ্গাতে পারল না বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে মোটামুটি মানের সংগ্রহ তাড়া করতে গিয়ে ২৭ রানের হারল স্বাগতিকরা। তবে এক ম্যাচে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করা বাংলাদেশ ৩-২ ব্যবধানে শেষ করল।

শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় দুদল। যেখানে প্রথমে ব্যাট করে অধিনায়ক টম ল্যাথামের ফিফটিতে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান সংগ্রহ করে সফরকারীরা। 

মিরপুরের গত ৪ ম্যাচের পিচ বিবেচনায় এই সংগ্রহ ছিল অনেকটা পাহাড়সম। জবাবে ব্যাট করতে নেমে পুরো ওভার খেললেও ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের বোলারদের খরুচে বোলিংয়ের দিন ব্যাটিংয়ে নাঈম শেখ, আফিফ হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ ছাড়া কেউই সমর্থন দিতে পারেননি।

গত চার ম্যাচে অপরিবর্তিত একাদশ থাকলেও শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ দলে এসেছে চার পরিবর্তন। আঙ্গুলে পাওয়া চোটের কারণে সাকিব আল হাসান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে বিশ্রামে রাখা হয়। বিশ্রামে রাখা হয় মোস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদি হাসানকেও। দলে ফিরেছেন সৌম্য সরকার, শামিম হোসাইন, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম।

অপরদিকে নিউজিল্যান্ড দলে আসে তিন পরিবর্তন। ব্লেয়ার টিকনার, হামিশ বানেট ও চোট পাওয়া টম ব্লান্ডেলের বদলে দলে ফিরেছেন স্কট কুগেলিন, বেন সিয়ার্স ও জ্যাকব ডাফি।

১৬২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড বোলারদের সামনে হতাশা উপহার দেন বাংলাদেশের টপঅর্ডাররা। দলীয় ২৬ রানে প্রথম উইকেট হারালেও এরপর নিয়মিত বিরতিতে আরও ৩ উইকেট খোয়ায় স্বাগতিকরা। ২১ বলে ৩টি চারে ২৩ রান করা নাঈম শেখ বেন সিয়ার্সের বলে বিদায় নেন। আর ১০ রান করে স্পিনার এজাজ প্যাটেলে বলে স্কট কুগেলিনের কাছে ক্যাচ দেন।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাজে ব্যাট করা সৌম্য সরকার এই সিরিজের প্রথম ৪ ম্যাচে সুযোগ না পেলেও শেষ ম্যাচে মাঠে নামেন। তবে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারেননি এদিনও। কোল ম্যাককোঞ্চির বলে রাচিন রবীন্দ্রকে ক্যাচ দেন তিনি। ৯ বল খেলে মাত্র ৪ রান আসে তার ব্যাট থেকে। পরে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমও ব্যর্থ হয়ে মাঠ ছাড়েন। ৮ বলে ৩ রান করে রবীন্দ্র শিকারে মাঠ ছাড়েন। দলীয় ৪৬ রানে শীর্ষ ৪ ব্যাটসম্যানকে হারায় বাংলাদেশ।

তবে শুরুর বিপদ সামাল দিয়ে পঞ্চম উইকেট জুটিতে বাংলাদেশকে পথ দেখাতে থাকেন আফিফ হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এই জুটি ঝড়ো ব্যাট করে ৪৩ বলে ৬৩ রান তোলেন। যেখানে মাহমুদউল্লাহ ২১ বলে এক চার ও এক ছক্কায় ২৩ রান করেন। কুগেলিনের বলে তুলে মারতে গিয়ে ফিন অ্যালেনকে ক্যাচ দেন অধিনায়ক।  

এরপর নুরুল হাসান সোহান ও শামীম হোসেন পাটোয়ারী এসে অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। এজাজ প্যাটেলের বলে এলবির ফাঁদে পড়েন ব্যক্তিগত ৪ রান করা উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান সোহান। আর জ্যাকব ডাফির বলে বোল্ড হওয়া শামীম করতে পারেন মোটে ২ রান।

শেষদিকে তাসকিন আহমেদ ৪ বল খেলে ২টি চারে ৯ করে কুগেলিনের বলে বোল্ড হন। তবে নিজেকে ফের জানান দেওয়া তরুণ আফিফ ৩৩ বলে ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন।

কিউই বোলারদের মধ্যে এজাজ ও কুগেলিন ২টি করে উইকেট পান। একটি করে উইকেট দখল করেন ডাফি, কোল ম্যাককোঞ্চি, সিয়ার্স ও রবীন্দ্র।

-এমজে