|

এক ম্যাচ আগেই সিরিজ হার বাংলাদেশের

Published: Sat, 20 Nov 2021 | Updated: Sat, 20 Nov 2021

পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই টি-টোয়েন্টি হেরে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ হারল বাংলাদেশ। মিরপুরে ঘরের মাঠে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা ব্যাটিং ব্যর্থতার খেসারত দিয়েছে বাবর আজমের দলের কাছে। দেশের বাইরে জিম্বাবুয়ে ও ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর পাকিস্তানের কাছে বধ হলো মাহমুদউল্লাহর দল।

শনিবার (২০ নভেম্বর) টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিল বাংলাদেশ। বিব্রতকর, হতশ্রী ব্যাটিংয়ে ৭ উইকেট হারিয়ে ১০৮ রান করে বাংলাদেশ। রান তাড়া করতে নেমে ১১ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান। অপরাজিত ছিলেন ফখর জামান ৫৭ ও হায়দার আলী ৬ রান করে।

শুরুতে বাংলাদেশ বাবর আজমকে ফেরালেও এরপর বল হাতে কার্যত আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। আসলে স্কোরবোর্ডে এত কম রান নিয়ে বোলারদের জন্যও লড়াই করা দুষ্কর। মোস্তাফিজুর রহমান-তাসকিনরাও পারেননি। বাবর ফেরার পর ফখর-মোহাম্মদ রিজওয়ানের জুটিতে জয়ের ভিত পেয়ে যায় পাকিস্তান। অবশ্য আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের বলে ২৬ রানের সময় সাইফ হাসানের হাতে জীবন পেয়েছিলেন ফখর। 

শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত ছিলেন। দুজনের জুটি থেকে আসে ৮৫ রান। রয়ে-সয়ে খেলে রিজওয়ান থামেন ৪৫ বলে ৩৯ রান করে। ৩৯ রানের সময় রিজওয়ানেরও ক্যাচ মিস হয়েছিল, এবার হাত ফসকেছে তাসকিন আহমেদের। ২৬ রানে জীবন পাওয়া ফখর অপরাজিত ছিলেন ৫১ বলে ৫৭ রান করে। বাংলাদেশের হয়ে একটি করে উইকেট নেন মোস্তাফিজ ও বিপ্লব।

এর আগে আজ প্রথম ম্যাচের পুনরাবৃত্তিই হয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। তবে আজ ১১০ রানও পার করতে পারেনি তারা। প্রথম দুই ওভারে নেই দুই উইকেট। এই সিরিজে অভিষেক হওয়া মোহাম্মদ সাইফ প্রথম ম্যাচে ১ রান করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ০ রানেই ফেরেন। মোহাম্মদ নাঈমও চেনা পরিবেশে অচেনা। এবার আউট হলেন ২ রানে। এরপর আফিফ-নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা। শাহিন আফ্রিদিকে ৬ মেরে ইনিংস শুরু করা আফিফ ২১ রানের বেশি করতে পারেননি। বিলিয়ে আসেন উইকেট। ভেঙে যায় ৪৬ রানের জুটি। পাওয়ার প্লে থেকে আসে ৩৬ রান।

আফিফ ফিরলে শান্তর সঙ্গে হাল ধরেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। রিভিউ নিয়ে জীবন পাওয়ার পরও মাহমুদউল্লাহ কাজে লাগাতে পারেননি। অথচ দুজনের জুটিটা দীর্ঘ করা ভীষণ প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। ১৫ বলে ১২ রান করে মাহমুদউল্লাহ আউট হলে ভাঙে ২৮ রানের জুটি। শান্ত একাই লড়ার চেষ্টা করে গিয়েছিলেন। সঙ্গী কাউকে পাননি। তিনি ৩৪ বলে ৪০ রান করেন। সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলে খেলতে পারেননি হাত খুলে। বাংলাদেশের ইনিংসে এটি সর্বোচ্চ রান হলেও এটি টি-টোয়েন্টি সুলভ ইনিংস ছিল না।

গতকাল সোহান-মেহেদী দারুণ ব্যাটিং করেছিলেন। শেষ দুই জুটি থেকে যোগ হয় ২০ রান। ইনিংসের শেষ ২৭ বলে বাংলাদেশ মাত্র ২০ রান করে। অথচ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই সময়টাতেই বেশি রান ওঠার কথা। সোহান-আমিনুলের জুটি থেকে আসে ১৮ বলে ১৪। আর তাসকিন-আমিনুলের জুটি থেকে আসে ৯ বলে ৬ রান। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ১০৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

-এমজে