|

কলমাকান্দায় আমন ক্ষেতে পুষ্টি ঘাটতি

Published: Sat, 02 Oct 2021 | Updated: Sat, 02 Oct 2021

কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি : নেত্রকোণার কলমাকান্দায় পুষ্টির ঘাটতি দেখা গেছে আমন ক্ষেতে । এতে করে উপজেলার দুই শতাধিক কৃষি পরিবারের লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এ ঘাটতির কারণে আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঘাটতির শঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে হালকা বৃষ্টি হওয়ায় ও উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে সার প্রয়োগ করায় কিছু আমন ক্ষেতে পুষ্টি ঘাটতি দূর হয়েছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি দল উপজেলার আমন ধান ক্ষেতে পুষ্টি ঘাটতি পরিদর্শন করার কথা ছিল। কিন্ত এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আসেন নাই। এ উপজেলায় প্রায় ৫০ হেক্টর আমন ক্ষেতে লৌহজাত উপাদান (আয়রন) বেশি হওয়ার অন্যান্য পুষ্টি ঘাটতি দেখা দিয়েছে । 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলমাকান্দা উপজেলায় ১৫ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে এবার আমন ধান রোপণ করা হয়েছে। এবার উপজেলায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ২৫৬ মে. টন। এর মধ্যে উপজেলার সীমান্তবর্তী লেংঙরা, খারনই ও রংছাতি ইউনিয়নের আমন ক্ষেতে পুষ্টি ঘাটতির কারণে প্রায় ৫০ হেক্টর আমন ধান উৎপাদনে ঘাটতির শঙ্কা রয়েছে। আর যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে পুষ্টি ঘাটতির কারণে উপজেলায় আমন ধান ফলন ঘাটতি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এসময় জমিতে আমন ধান আসার কথা। সেখানে দেখা গেল আমন ক্ষেতগুলো প্রথমে কালচে রং ধারণ করে জমিতে নুইয়ে পরছে। ওই সময় অনেক কৃষকের সাথে হলে তারা প্রতিবেদককে জানান, একে একে কৃষকদের আমন ধানের ক্ষেতগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই সমস্যা থেকে কীভাবে আমরা চিন্তামুক্ত থাকতে পারি। যদিও ফোন করে উপজেলার কৃষি অফিসে করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ পেয়েছি। সে মোতাবেক আমরা ঔষধ প্রয়োগ করেছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমরা এর সুফল পেলাম না। তবে জনবল সংকটের মধ্যে দিয়ে সরেজমিনে পরামর্শমূলক উঠান বৈঠক করে ইউনিয়নে কৃষকদের পুষ্টি ঘাটতি প্রতিরোধ করার করণীয়সহ কৃষি কাজের সচেতনা বৃদ্ধি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করছেন উপজেলা কৃষি অফিস ।

উপ-সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সৌহার্দ্য দারিং বলেন, খবর পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের নিয়ে উঠান বৈঠক করে পরামর্শ দিয়েছি। আমরা এর সুফল পেয়েছি। যেমন লেংঙরার শিবপুরে কৃষক বিনয় রংদী প্রায় ৩ একর আমনক্ষেতসহ আরো অনেক কৃষক পুষ্টি ঘাটতি দূর হয়েছে বলে জানান তিনি ।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. ফারুক আহম্মেদের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলায় ১৫ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে এবার আমন ধান রোপণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ২৫৬ মে. টন। সীমান্তবর্তী লেংঙরা, খারনই ও রংছাতি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ক্ষেতে পুষ্টি ঘাটতি রয়েছে। প্রাথমিক ধারণা ওই আমন জমিগুলোতে অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার করার কারণে লৌহজাত উপাদান (আয়রন) বেশি হওয়ার অন্যান্য পুষ্টি ঘাটতি দেখা দিয়েছে ।

তিনি বলেন, জনবল সংকটের মধ্যে সরেজমিনে পুষ্টি ঘাটতি প্রতিরোধ করার করণীয়সহ কৃষি কাজের সচেতনা বৃদ্ধির আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমন জমিতে যদি পানি থাকে সেক্ষেত্রে প্রতি ৩৩ শতকে লাল সার (এমওপি) ৫ কেজি ও জিপসাম সার সাড়ে ৩ কেজি হারে একসাথে মিশ্রিত করে সমস্ত জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে। যে জমিতে পানি নেই সেক্ষেত্রে প্রতি ৫ শতকে ১০ লিটার পানিতে লাল সার (এমওপি) ৬০ গ্রাম ও থিয়োভিট সার ৬০ গ্রাম এবং জিংক সার ১০ গ্রাম হারে একত্রে মিশিয়ে সমস্ত জমিতে স্প্রে করতে হবে।যাতে করে কৃষকরা পুষ্টি ঘাটতি দূর করতে পারে। 

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি দল পুষ্টি ঘাটতি এলাকায় পরিদর্শন করবেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, আশা করি আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এর কোন প্রভাব পড়বে না।

 

ডব্লিউইউ