|

২৩ বছর পর দুস্থ বন্ধুদের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা

Published: Fri, 03 Sep 2021 | Updated: Fri, 03 Sep 2021

ফুলবাড়ী, দিনাজপুর প্রতিনিধি : বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে পড়ালেখা শেষে বিদায় নেয়ার ২৩ বছর পর অসহায় বন্ধুদের খুঁজে বের করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এক ব্যতিক্রমী আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন রাজশাহী ইউনিভার্সিটি মাস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (রুমা'৯৪ অ্যাসোসিয়েশন )। 

সংগঠনটি ইতোমধ্যে অনেক অসহায় বন্ধু-বান্ধবীদের অসুস্থতা, শীতার্তদের মাঝে ত্রাণ, করোনাকালীন সাহায্য করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বন্ধুদের নিয়ে সভা, পুনর্মিলনী, বনভোজন, হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের সাথে যোগাযোগসহ নানাবিধ কাজ করে চলেছে।

এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টম্বর) রাজশাহী ইউনিভার্সিটি মাস্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (রুমা)-৯৪র ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল ছুটে আসেন দিনাজপুরে ফুলবাড়ী উপজেলার সন্নিকটে নবাবগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে মুহম্মদ আলীর বাড়িতে। মুহাম্মদ আলী ছিলেন অনেকের পরিচিত, চেনা মুখ,ভালো বন্ধু। দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে বাসীন্দা খোদাবক্সের ছেলে। তিনি ১৯৯৪ ব্যাচের, ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় বাংলায় অনার্স-মাস্টার্স রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্পন্ন করে ওই বছরে নবাবগঞ্জ উপজেলার ভালকা জয়পুর আমিনিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় প্রভাষক (বাংলায়) পদে যোগদান করে কর্মজীবন শুরু করেন। 

নিয়তির নির্মমতায় তিনি ২০১৭ সালের ০৩ এপ্রিল এক মরণব্যাধী (এসএলই) চর্মরোগে মারা যান। এরপর থেকে সংসারে স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে সেই থেকে নিম্নবিত্ত পরিবারের খরচ জোগানো হিমশিম খেতে হয় স্ত্রীকে। বড়ছেলে নাহিদ ইকবাল রংপুর কারমাইকেল কলেজে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনার্স ৩য় বর্ষে অধ্যায়নরত আছে, মেজো ছেলে মোবাশ্বের আহমেদ ফুয়াদ উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা প্রস্তুতি নিচ্ছে, সবার ছোট মেয়ে মালিহা তাসমিন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে।

তার অকাল মৃত্যু ও পরিবারের দুরাবস্থার খবর পেয়ে পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসেন মোহাম্মদ আলীর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা ৯৪ মাস্টার্স ব্যাচ। তার স্ত্রী-সন্তানদের সাথে সাক্ষাৎ করে অর্থনৈতিক অবস্থাসহ নানাবিষয়ে খোঁজখবর নেন। মুহম্মদ আলীর স্ত্রীর হাতে আর্থিক ৫০ হাজার টাকা সহযোগিতার অর্থ তুলে দেন এবং মোহাম্মদ আলীর বন্ধু অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম রিপন তার মেজো ছেলে মোবাশ্বের আহমেদ ফুয়াদের বিশ্বদ্যিালয়ে পড়ার জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার করে টাকা দেয়ার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে রুমা'৯৪ এর পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাসও দেয়া হয়। 

এর পূর্বে গত শুক্রবার (২৭ আগস্ট) যশোর কেশবপুরের অকাল প্রয়াত বন্ধু সুশান্ত দাসের পরিবারের সাথে দেখা করে সমবেদনা জানিয়ে তার স্ত্রীর হাতে আর্থিক সহযোগিতার অর্থ তুলে দেন রাজশাহী ইউনিভার্সিটি মাস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (রুমা)'৯৪। এ তথ্য জানিয়েছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যগণ।

রূমা-৯৪ এসোসিয়েশনের সদস্যরা জানায় গত ১৯ মার্চ রাজশাহীর সীমান্তে অবকাশ স্থানে রুমা'৯৪ এর আয়োজনে দিনব্যাপী চলে সাধারণ সভা, পারিবারিক পুনর্মিলনী ও বনভোজন-২০২১। আয়োজনে ছিল "রাজশাহী ইউনিভার্সিটি মাস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (রুমা'৯৪)। অনুষ্ঠানের মূলমন্ত্র ছিল- “ এসো মিলি হৃদয়ের স্পন্দনে, কাটুক সময় ভালোবাসার বন্ধনে।” সে অনুষ্ঠানেই কথা ওঠে অসহায় বন্ধুদের খুঁজে বের করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর। সিদ্ধান্ত হয, এর পর থেকে তারা তাদের হারিয়ে যাওয়া বন্ধদের খুঁজে বের করে এই সহযোগীতা করে যাচ্ছেন।

প্রতিনিধি দলের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডা. মো. কামরুজ্জামান সরকার, অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম রিপন, সহকারী অধ্যাপক মাসুদ কবির সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোহা. আব্দুল্লাহ, অধ্যক্ষ ওমর ফারুক, অধ্যক্ষ শাজাহান আলী, সহকারী অধ্যাপক জাহিদ সরোয়ার, সহকারী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, প্রভাষক-সাংবাদিক আজিজুল হক সরকার, প্রভাষক আবু হানিফা মন্ডল। 

প্রতিক্রিয়ায় তারা বলেন, রুমা'৯৪ উদ্দেশ্যই হলো অসহায় বন্ধুদের পাশে দাঁড়ানো। আমাদের রুমার বন্ধুদের নিজস্ব অর্থায়নে আজ মুহম্মদ আলীরপাশে দাঁড়িয়েছি, কালহয়তো অন্য জনের পাশে দাঁড়াবো। এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

মুহম্মদ আলীর স্ত্রী বলেন, এই দুঃসময়ে তার স্বামীর বন্ধুরা রুমা'৯৪ পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, এই জন্য তিনি সৌভাগ্যবতী মনে করছেন নিজেকে, এতে সন্তানরাও  খুশিতে আবেগাপ্লুত। 

রাজশাহী ইউনিভার্সিটি অ্যাসোসিয়েশন ( রুমা)’র সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ সুমন এবংসভাপতি প্রফেসর ড. ইসমাইল হোসেন বলেন, রুমার বন্ধুদের মানসিকতায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। মানুষ মানুষের জন্য যদি হয়ে থাকে, তাহলে আমরা বন্ধুরা কেনো বন্ধুর পাশে থাকতে পারবো না? গোটাদেশেই আমাদের কাজ চলছে। আশা করছি আগামী দিনে এই সেবার কাজটি আরো সম্প্রসারিত হবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বোস বলেন, এটি একটি মহৎ উদ্যোগ। আপনাদের এই কর্মে অনেকে অনুপ্রণিত হবো। আমিও এই পরিবারকে সাহায্য করতে পারলে আপনাদের কাতারে সামিল হতে পারবো বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করি।

 

ডব্লিউইউ