|

দেউলিয়া ঋণ গ্রহিতা ব্যবসায়ীর ঘুরে দাঁড়ানোর আকুতি

Published: Sat, 16 Oct 2021 | Updated: Sat, 16 Oct 2021

বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পৌরসভাধীন ধনতলা গ্রামের বাসিন্দা বিশিষ্ট ধান ও চাউল (হাসকিং মিল) ব্যবসায়ী আল মামুনুর রশিদ দুইটি ব্যাংক থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা সিসি লোন গ্রহণ করার পর তা সময়মত পরিশোধ করতে না পারায় ব্যাংক কর্তৃক মামলা ও বিভিন্ন হয়রানির স্বীকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

শনিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সেতাবগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আল মামুন লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বলেন, ২০১২ সালে প্রথম সিসি ঋণ গ্রহণ করি আইএফআইসি’র সেতাবগঞ্জ  শাখা থেকে ১ কোটি টাকা, যার একাউন্ট নং-৬১৭৯৩৭৫২৫৩১২১, ও ২০১৪ সালে যমুনা ব্যাংকের  সেতাবগঞ্জ শাখা হতে ৯০ লাখ টাকা যার একাউন্ট নং- ০৫৭-০১৩৪০০০৩৯৫, সেটাকা নিয়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালিয়ে আসছি। এরই মধ্যে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে ধান ও চাল ব্যবসায় ধস নামার পাশাপাশি ব্যাংকের সর্বোচ্চ ১৮% সুদ, ইন্সুর‌্যান্স সহ অন্যান্য সার্ভিস চার্জ আমার ব্যবসায় চরম ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যার জন্য আমি ব্যবসায় চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই। এজন্য ব্যাংকে সময় মত টাকা পরিশোধ করতে পারি নাই। 

উক্ত ব্যাংক দুটি হতে লোন গ্রহণের সময় আমার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ৪ কোটি টাকা। অথচ উক্ত ব্যাংক দুটিই আমার সিসি ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় আমার ঐ একই সম্পত্তি মূল্য অর্ধেকেরও কম দেখাচ্ছে। 

আমি ব্যাংক দুইটির কাছে সিসি লোন গ্রহণ করার সময় যে খালি চেক জমা দিয়েছিলাম সেই চেকের উপর ভর করে আমার নামে অর্থ ঋণ মামলার পাশাপাশি চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করা হয়। যা অমানবিক বলে আমি মনে করি। 

সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ঋণ খেলাপি হওয়ার পর যখন ব্যবসায় ঘুড়ে দাঁড়ানোর চেষ্ঠা করি, ঠিক তখনই আঘাত হানে বৈশ্বিক মহামারি করোনা। করোনার কারণে প্রায় দেড় বছর আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরুপে বন্ধ হয়ে যায় এবং আমি পথে বসে যাই। আমি ব্যাংকের লোন পরিশোধ করতে পারছি না, বিধায় ব্যাংক দুইটি আমার স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি নায্য মূল্যে বিক্রি করে তাদের পাওনা বুঝে নিয়ে অতিরিক্ত টাকা আমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। কিন্তুু ব্যাংক দুইটি তা না করে আইনগত বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে হয়রানি করে আসছে। এভাবে চলতে থাকলে বর্তমানে যে আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সন্মুখিন হচ্ছি তা আগামীতে পথে বসা ছাড়া আর কোন উপায় নেই

সরকার লক ডাউন তুলে নেওয়ার পরপরই ব্যাংক দুইটি যেভাবে অর্থ পরিশোধে চাপ সৃষ্টি করছে তাতে আত্মহত্যা ছাড়া আর কোন উপয় থাকবে না। 

তিনি ব্যাংক দুইটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ঋণ পরিশোধের জন্য সেতাবগঞ্জ শাখা ব্যাংক কর্তৃক যে আইনি হয়রানি করা হচ্ছে তা থেকে পরিত্রাণ ও সকল প্রকার আইনি জটিলতা থেকে মক্তি চান। সেই সাথে ব্যাংক ও গ্রহীতার সুপরিকল্পনার মধ্যদিয়ে কীভাবে একটি সুন্দর ও স্বচ্ছ সমাধানে পৌঁছা যায় এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।  

 

ডব্লিউইউ