|

তালের শাঁস বিক্রি করে লাভবান সিদ্দিক 

Published: Fri, 17 Jun 2022 | Updated: Fri, 17 Jun 2022

আমিনুল হক বুুলবুল, নান্দাইল (ময়মনসিংহ): ময়মনসিংহের নান্দাইলের বীরকামট খালী গ্রামোর মো.সিদ্দিক মিয়া(৩০) প্রতিদিন বিভিন্ন বিদ্যালয়, হাট- বাজার, জনাকীর্ণ স্থান এবং রাস্তার মোড়ে বসে তালের শাঁস বিক্রি করেন। তিনি সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের দেশী ফল গৃহস্থের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিনে আনেন এবং স্থানীয় বাজারগুলোতে বিক্রি করেন। 

বর্তমানে তিনি তালের শাঁস বিক্রি করছেন। ১০ হাজার টাকার তালের শাঁস কিনে এখন পর্যন্ত ২৬ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন তিনি।তালের শাঁসের কদর থাকায় তিনি তা বিক্রি করে  লাভবান হয়েছেন।

গরম থাকায় তালের শাঁসের কদর বেড়েছে। ক্লান্ত মানুষ তালের শাঁসে প্রশান্তি খুঁজছেন। দাম কিছুটা বেশি হলেও সে দিকে তাকাচ্ছেন না ক্লান্ত ও পরিশ্রমী মানুষ গুলো। গ্রাম ও শহরের বেশির ভাগ শ্রমজীবী মানুষের কাছে তালের শাঁসের কদর বেশি। মানুষ শরীরে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে তালের শাঁস কিনে খাচ্ছেন। 

নারী-পুরুষ ও শিশুরা শরীরের ক্লান্তি দূর করতে তালের শাঁস খাচ্ছেন। তবে এ বছর তীব্র তাপদাহে তালের শাঁসের চাহিদা গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের গ্রামাঞ্চল থেকে তাল সংগ্রহ করে সড়কের পাশে ও অলিগলিতে বিক্রি করতে দেখা গেছে।আর লাইন ধরে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর তালের শাঁস কিনে খাচ্ছেন ক্রেতারা।

তালে রয়েছে ভিটামিন এ,বি ও সি,জিংক পটাশিয়াম,আয়রন ও ক্যালসিয়ামসহ  খনিজ উপাদান। এর সঙ্গে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এ ফলে ৯২ দশমিক ৩ শতাংশ জলীয় অংশ, ক্যালরি ২৯,শর্করা ৬ দশমিক ৫ গ্রাম, ক্যালমিয়াম ৪৩ মিলিগ্রাম,খনিজ শূন্য দশমিক ৫ মিলিগ্রাম। 

ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের থেকে এবার তালের শাঁসের দাম অনেকটাই বেশি। এরপরও মৌসুমি ও সুস্বাদু ফল হওয়ায় এর প্রতি আগ্রহের কমতি নেই তাদের। তালের চাহিদা থাকায় বিচি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। বড় তাল প্রতি বিচি শাঁস ৮টাকা করে তিন বিচি তালের শাঁস বিক্রি হচ্ছে ২৪ টাকায়। আবার ছোট তালের বিচির শাঁস ৫ টাকা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।ক্রেতারা মুল্যের দিকে না তাকিয়ে স্বাচ্ছন্দে কিনে নিচ্ছেন। 

ইফতি,দুলাল,গোলাম মোস্তফা নামে কয়েকজন ক্রেতা বলেন,তালের শাসের অনেক দাম। বড় তাল প্রতি বিচি শাঁস ৮ টাকা করে তিন বিচি তালের শাঁস কিনছি ২৪ টাকায়।

বীরকামট খালী দক্ষিণ বাজারের তাল বিক্রেতা মো. সিদ্দিক বলেন,বিভিন্ন গ্রাম থাইকা তাল কিইনা ভ্যানে কইরা হাটে-বাজারে ঘুইরা ঘুইরা বেচি। এতে প্রত্যেকদিন ৮০০ থাইকা ১ হাজার টাকা বেচতারি। এখন পর্যন্ত তালের শাঁস বিক্রি করে ১৬ হাজার টাকা লাভ হইছে। অহন মৌসুম শেষের দিকে।

আইআর /