|

‘অসাধুরা সরকারের নির্দেশনায় বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেও প্রশাসন নিরব!’

Published: Tue, 07 Dec 2021 | Updated: Tue, 07 Dec 2021

ক্যাব এক বিবৃতিতে জানায়, চট্টগ্রামে গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে সিএনজি ও ডিজেল চালিত বাস চিহ্নিত এবং বিভিন্ন রুটে ভাড়ার চার্ট স্টিকার হিসাবে গণপরিবহনে সাটানো হলেও গণপরিবহন শ্রমিকরা তুলে ফেলেন। ঠিক একই ভাবে সরকার বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম বেঁধে দিলেও ব্যবসায়ীরা সেই দামের তোয়াক্কা না করে তাদের ইচ্ছামতো দামে পণ্য বিক্রি করে জনগনের পকেট কাটলেও ট্রাফিক, বিআরটিএ ও সরকারের মাঠ পর্যায়ের তদারকিতে দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিরব থাকায় জনগনের ভোগান্তি ও ক্ষোভ বাড়ছে। 

তারা জানায়. অধিকন্তু সরকারের মাঠ পর্যায়ের কর্তারা সবকিছু স্বাভাবিক আছে মর্মে সরকারকে জানানোর কারুণে তৃণমূল মানুষের সমস্যাগুলি প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না। সরকার নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছেন। গণপরিবহনের ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে বিআরটিএ ও গণপরিবহন মালিকরা মিলে ভাড়া নির্ধারণ করলেও ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্চামতো নিত্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছে এবং গণপরিবহনগুলি নিজেরা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুন-তিনগুন ভাড়া আদায় করে সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রর্দশন করছেন। ফলে নিত্যপণ্যমূল্যসহনীয় রাখতে ও গণপরিবহণের ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার সুফল ভোক্তা পর্যায়ে আসছে না। 

এ অবস্থায় নিত্যপণ্যের বাজার মূল্য সহনীয় রাখা ও গণপরিবহণে ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও সরকারের নীতি নির্ধারকদের নির্দেশনার মাঠ পর্যায়ে যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত হওয়া দরকার বলে মনে করছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ। ০৪ ডিসেম্বর নগরীর চকবাজার গুলজার মোড়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) চকবাজার থানা কর্তৃক আয়োজিত নিত্যপণ্য মূল্যের ক্রমাগত উর্ধ্বগতি ও গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গণঅবস্থান কর্মসূচিতে বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত দাবি জানান।

ক্যাব চকবাজার থানার আহ্বায়ক কাজী রাজিশ ইমরানের সভাপতিত্বে ক্যাব সংগঠক ও প্রজন্ম চট্টগ্রামের প্রধান নির্বাহী চৌধুরী জসিমুল হকের সঞ্চালনায় গণঅবস্থান কর্মসুচিতে বক্তব্য রাখেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, পরিবেশ গবেষক ড. ইদ্রিস আলী, ন্যাপের কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিথুল দাশ গুপ্ত, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরীু, ক্যাব খুলসীর সভাপতি প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মহলা কাউন্সিলর রুমকি সেন গুপ্ত, ক্যাব চান্দগাঁও থানা সভাপতি মুহাম্মদ জানে আলম, ক্যাব পাচালাইশ থানা সহ-সভাপতি এবিএম হুমায়ুন কবির, সাবেক ব্যাংকার মো. মাবজুলুল বারী খসরু, ক্যাব জামাল খানের সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল চৌধুরী, মহিলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাসিনা আক্তার টুনু, ক্যাব যুব গ্রুপের সভাপতি চৌধুরী কেএনএম রিয়াদ, চকবাজার থানা আওয়ামী লীগ নেতা মো. হাফিজ খান, নারী নেত্রী অনিকা কামাল, চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট শাকিল আজম, চট্টগ্রাম পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজম, কাপাসগোলা ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মুহাম্মদ সেলিম, আলী নেওয়াজ খান পারভেজ, মেহেরুন্নেসা খানম, সাজেদা বেগম, জয়নগর আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির আজম খান, যুবনেতা আরিফ উদ্দীন, বঙ্গবন্ধু মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ফরহাদুল হাসান মোস্তফা, শাহাতদ হসোসেন পিন্টু, যুব নেতা ইশতিয়াক আহমদ, মো. শাখাওয়াত হোসেন রিপণ সিং, ফাহাদ আবদুস সালাম, পারভেজ আলম, ইলিয়াছ নিশান, ছাত্রনেতা শ্রী সুমন সিং, জয়ন্ত চৌধুরী, বাদল মিয়া, এরশাদ মিয়া প্রমুখ।

গণ অবস্থান কর্মসূচিতে বিভিন্ন বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, করোনায় মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান সংকুচিত হলেও নিত্যপন্য মূল্য ও গণপরিবহন সহ সব কিছুতেই ব্যয় বেড়েছে। সরকার নিত্যপণ্যের বাজার মূল্য সহনীয় রাখতে নানা নির্দেশনা দিলেও মাঠ পর্যায়ে যথাযথ তদারকির অভাবে সরকারের সে নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে ধান কাটার ভরা মৌসুমে চাল, শীতকালীন সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখি। আর্ন্তজাতিক বাজারে চাল, সয়াবিন তেল, চিনি, গ্যাসের দাম কমলেও দেশের বাজারে তার প্রতিফলন নেই।

বক্তাগণ আরও অভিযোগ করে বলেন, গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়ার দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন করলেও গণপরিবহন মালিকরা ঢাকার দাবি মানলেও সারা দেশের দাবিটি উপেক্ষিত। সেকারণে ছাত্রদের ৯ দফার দাবিটি আরও জোরদার হচ্ছে। ছাত্র/ছাত্রীরা পরিবারের দেয় নিদিষ্ঠ টাকা ও টিউশনি করে শিক্ষার খরচ চালান। তাই তাদের দাবি অগ্রাধিকারভাবে গণপরিবহন মালিকদের মানা উচিত। করোনায় সাধারণ জনগণের জীবন জীবিকা নির্বাহে কঠিন হয়ে আছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে এই জনদুর্ভোগ আরও উস্কে দিয়েছে। করোনায় জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে না পেরে অনেকেই কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীণ। তাই সরকারের টিসিবি ও খাদ্য বিভাগের ট্রাকসেল, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্ঠনী জোরদারের দাবি জানান। বিজ্ঞপ্তি।

 

ডব্লিউইউ