|

কলমাকান্দায় তিন মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে হত্যা

Published: Thu, 07 Apr 2022 | Updated: Thu, 07 Apr 2022

শেখ শামীম কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) : নেত্রকোণার কলমাকান্দায় তিন মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে হত্যার সন্দেহ তীর উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে! আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃতের মরদেহ  ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। মৃত শিশুটি হলো সোহা আক্তার (৩ মাস) কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের ছিদ্দিক মিয়া ও জুলেখা খাতুন দম্পতির প্রথম সন্তান। 

পুলিশ ও মৃতের পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, আজ থেকে প্রায় দেড় বছর পূর্বে ছিদ্দিক মিয়ার সাথে সামজিক ভাবে বিয়ে হয় কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের আড়ালিয়া গৌরিপুরের জুলেখা খাতুনের। তাদের দাম্পত্যজীবনে অন্তঃসত্ত্বা হন জুলেখা। 

প্রায় ৮ মাস আগে অন্তঃসত্ত্বা জুলেখাকে  তাহার শ্বশুড় বাড়িতে  রেখে যায়। এরপর থেকে আর কোন খোঁজ খবর নেননি ছিদ্দিক। নানার বাড়িতে জম্ম নেয় শিশু সোহা। জম্মের পর থেকে প্রায় সময় অসুস্থ থাকতো সোহা। এ

কপর্যায়ে শিশু সোহাসহ মা জুলেখা ঢাকায় গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকায় তার মায়ের ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। বৃহস্পতিবার ( বুধবার দিনগত রাতে) প্রায় ৩টা ৩০ মিনিটে  ঢাকায় তার মায়ের ভাড়া বাসায় মা জুলেখার কোলে পেট ফাঁপা, লিভার সমস্যা আক্রান্ত হয়ে শিশু কন্যা সোহা আক্তার  মারা যায়। 

শিশু সোহা আক্তারের  মৃত খবরটি জানানো হয় ছিদ্দিকের গ্রামের বাড়ি ভবানীপুরে। পরে লাশ ঢাকা থেকে মৃতের নানা বাড়ি কলমাকান্দা  আড়ালিয়া গৌরিপুর নেওয়ার পথে তার স্ত্রীসহ শ্বশুড় শ্বাশুড়িকে নোয়াখালী থেকে ছিদ্দিক মুঠোফোনে বলে আমার শিশু মেয়েটিকে তোমরা মেরে ফেলেছ আমার সন্দেহ হচ্ছে। এরকম কথা শুনে বাড়িতে না গিয়ে মৃতের মরদেহসহ তার স্ত্রী শ্বশুড় শ্বাশুড়ি কলমাকান্দা থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন।

এতথ্য নিশ্চিত করে কলমাকান্দা থানার  উপ-পরিদর্শক (এস,আই) আশিকুর রহমান বলেন, তাহাদের পারিবারিক সম্পর্ক ভালো না বলে জানা যায়। মৃতের বাবা ছিদ্দিক নোয়াখালি থেকে মুঠোফোনে মৃত্যুর বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করায় পরবর্তী আইনগত জটিলতা এড়ানোর জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে ।

এবিষয়ে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মৃতের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আইআর /