বিশ্ব গণতন্ত্র সূচকে দুই ধাপ উন্নতি বাংলাদেশের

১৬৭টি দেশের মধ্যে ৭৩ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ

বিশ্ব গণতন্ত্র সূচকে দুই ধাপ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। তবে স্কোর গতবারের মতই রয়ে গেছে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) ২০২২ সালের করা এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

পাঁচটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে একটি দেশের গণতন্ত্র পরিস্থিতি যাচাই করে ইআইইউ। শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০২২ সালে ১৬৭টি দেশের মধ্যে ৭৩ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ।

২০২১ সালে এই সূচকে ১৬৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭৫ নম্বরে। সেবার ৫ দশমিক ৯৯ স্কোর ছিল বাংলাদেশের। এবারও একই স্কোর নিয়ে ৭৩ নম্বরে উঠে এসেছে ঢাকা। আগের মতো এবারও বাংলাদেশ ‘মিশ্র শাসনের’ শ্রেণিতেই রয়েছে।

২০২০ সালে এই সূচকে ১৬৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭৬ নম্বরে। সেবার বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫ দশমিক ৯৯। আর ২০১৯ সালে স্কোর ছিল ৫ দশমিক ৮৮; অবস্থান ছিল ৮০ নম্বর।

২০০৬ সালে যখন ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট প্রথম এই সূচক প্রকাশ করে, তখন বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬ দশমিক ১১। তবে ২০০৮ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তা এক ধাক্কায় ৫ দশমিক ৫২ পয়েন্টে নেমে যায়।

এরপর থেকে বাংলাদেশের স্কোর বাড়লেও ‘হাইব্রিড রেজিম’ বা মিশ্র শাসনের শ্রেণিতেই রেখেছে ইআইইউ। তবে কোনো দেশের গড় স্কোর ৮ এর বেশি হলে সেই দেশে ‘পূর্ণ গণতন্ত্র’ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বিবেচনা করা হয়েছে।

‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র’ এর স্কোর হলো ৬ থেকে ৮ এর মধ্যে, ‘মিশ্র শাসন’ হলো ৪ থেকে ৬ এর মধ্যে এবং ৪ এর নিচে স্কোর হলে দেশে ‘স্বৈরশাসন’ চলছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

এই সূচকে বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থান এবার যথাক্রমে ৪৬ ও ৬০। এদিকে ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের শ্রেণিতে ভারতের সঙ্গে শ্রীলঙ্কাও রয়েছে। আর নেপাল (১০১) ও পাকিস্তান (১০৭) বাংলাদেশের সঙ্গে একই শ্রেণিতে রয়েছে।

তালিকায় শীর্ষে থাকা পাঁচ দেশ হল- নরওয়ে (স্কোর ৯.৮১), নিউ জিল্যান্ড (৯.৬১), আইসল্যান্ড (৯.৫২), সুইডেন (৯.৩৯) ও ফিনল্যান্ড (৯.২৯)। এসব দেশের নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি গণতান্ত্রিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে।

আর আফগানিস্তান (০.৩২), মিয়ানমার (০.৭৪), উত্তর কোরিয়া (১.০৮), সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক (১.৩৫) এবং সিরিয়া (১.৪৩) তালিকার সবচেয়ে নিচে আবস্থান করছে। এসব দেশের নাগরিকরা গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে প্রায় পুরোপুরি বঞ্চিত।

২০২২ সালে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদনের ভাষায় ‘পূর্ণ গণতন্ত্র’ ছিল ২৪টি দেশে। আগের বছরের চেয়ে তিনটি দেশ এবার যুক্ত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *