মার্কিন নির্বাচন ২০২০ ও বিশ্বরাজনীতির অধিকর্তা

Published: Wed, 04 Nov 2020 | Updated: Wed, 04 Nov 2020

জিসান তাসফিক : সারা বিশ্বের প্রতিটি মানুষ আজ তাকিয়ে আছে একটি ফলাফলের প্রতি আর সেটি হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা United States of America এর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে। ০৩ নভেম্বর ২০২০ তারিখ হবে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৯ তম নির্বাচন। ইলেক্টোরাল ভোটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। মোট ইলেক্টোরাল ভোটের মধ্যে যিনি অধিক ভোট পান তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন । সারা বিশ্বের কাছে মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ হল জাতিসংঘের স্থায়ী পাঁচটি সদস্য দেশ গুলোর মধ্যে একটি দেশ, ন্যাটো ( NATO ) এর প্রধান, বিশ্ব অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বানিজ্য ও শিক্ষা সহ অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বিদ্যমান। এই নির্বাচনের ফলাফলের উপরই নির্ভর করে বিশ্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতি।

একটি দেশের সরকার ব্যবস্থা, ক্ষমতা, নির্বাচন সম্পর্কে ভালো জানতে হলে সবথেকে যে জিনিসটি আগে দেখতে হবে সেটা হল ঐ দেশের সংবিধান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৪ জুলাই ১৭৭৬ সালে পেনসিলভানিয়ায় একটি ঐতিহাসিক ঘোষণার মাধ্যমে ব্রিটিশ কলোনিয়াল থেকে মুক্ত হয়ে নেয়। 

১৭৮৭ সালে মার্কিন সংবিধান রচিত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রজাতন্ত্র বিদ্যমান। অন্যান্য দেশের মত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিভাগ আছে তা হল আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ। মার্কিন রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের এবং শাসন তথা নির্বাহী বিভাগের ও প্রধান। মার্কিন আইন বিভাগের দুই কক্ষ বিশিষ্ট তা হল  হাউজ অব রিপ্রেজেন্টটেটিভ (নিম্নকক্ষ ও সদস্য সংখ্যা ৪৩৫) এবং সিনেট ( উচ্চ কক্ষ ও সদস্য সংখ্যা ১০০)। উভয় কক্ষই গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা প্রতিনিধিত্ব মূলক যার ফলে জনগণের মতের বহিঃপ্রকাশ ঘটে এবং আইন প্রণয়ন সহ সকল ক্ষেত্রে এটা দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয় ইলেক্টোরাল ভোটের মাধ্যমে। তবে রাষ্ট্রপতি অপসারণের  বিষয়ে আইন বিভাগের উভয় কক্ষের সমন্বয়ে গঠিত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে।

জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন যাকে ইলেক্টোরাল সদস্য বা নির্বাচক বলা হয়। প্রতি চার বছর পর পর ইলেক্টোরাল সদস্যগণ নির্বাচিত হন। ইলেক্টোরাল সদস্যদের উদ্দেশ্য হল মার্কিন রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচন করা। ইলেক্টোরাল সদস্যগণ হলেন ৫৩৮ জন। ২৭০ এর বেশি ভোট যিনি পাবেন তাকে মার্কিন রাষ্ট্রপতি করা হবে। মার্কিন রাষ্ট্রপতির প্রার্থীর যোগ্যতা হল : ১) প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ৩৫ হতে হবে। ২) অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে। ৩) কমপক্ষে ১৪ বছর টানা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের রেকর্ড থাকতে হবে।

এছাড়া আরও কিছু যোগ্যতা লাগে যা প্রায় সব দেশেই একইরকম। জন এফ কেনেডি এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রেসিডেন্ট। ৪৩ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন। দুই মেয়াদে নির্বাচিত কোন প্রেসিডেন্ট পরবর্তীতে আর নির্বাচন করতে পারেন না। এই নিয়মটি যুক্তরাষ্ট্রের ১ম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন এর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে করা হয়েছে। জর্জ ওয়াশিংটন দুই মেয়াদে নির্বাচিত হবার পর আর নির্বাচন করেন নি। নির্বাচনে হেরে গেলে কোন প্রার্থী আর পরেরবার পুনরায় প্রার্থী হন না।

বিশ্বে অন্যতম সেরা, সচ্ছ ও জনপ্রিয় নির্বাচন হল মার্কিন নির্বাচন। প্রতিটি জনগণের একটি মূল্যবান অধিকার ও দাবি হল ভোটাধিকার। সেটা প্রকৃত বাস্তবায়ন মার্কিন নির্বাচনগুলোতেও দেখা যায়। যার ফলে মার্কিন সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা থাকে। এছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশের জনগণ ও মার্কিন রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত। জাতিসংঘ বিশ্বের বৃহত্তম সংগঠন। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী পাচঁটি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একটি। এছাড়াও ন্যাটো (NATO) যেটি সম্মিলিত সামরিক সংস্থা মার্কিন নেতৃত্বে আছে। বলতে গেলে বিশ্বের সবকিছুতেই মার্কিন আধিপত্য থাকে। আর এর বেশিরভাগ ফল হয় মুসলিম দেশগুলোতে। মার্কিন নির্বাচনে দুই দল থাকতে দেখা যায় যার একটি ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং অন্যটি রিপাবলিকান পার্টি। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির। 

দেখা যায় যে, মুসলিমদের প্রতি ডেমোক্রেটিক পার্টি সহানুভূতি বেশি থাকে রিপাবলিকান পার্টির থেকে। যেটা এর পূর্বে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবাবামার ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে। যার কারণে মুসলিম দেশগুলো ডেমোক্রেটিক পার্টিকে বেশি পছন্দ করে।

কিন্তু দিন শেষে মার্কিনদের পররাষ্ট্র নীতি হল বিশ্বকে শাসন করা। এর ভালো মন্দ উভয় দিকই আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিশ্ব নেতৃত্বে মার্কিন রাষ্ট্রপতি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাই মার্কিন নির্বাচনে যেদলের প্রার্থীই জিতুক না কেন পৃথিবীর সবথেকে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে মার্কিনদের উচিৎ সব দেশের প্রতি সমান আচরণ করা। তাহলে বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা অনেকাংশে কমে যাবে। আর বর্তমানে করোনা মোকাবেলাতেও মার্কিন অবস্থান খুবই নিম্ন পর্যায়ে। সুতরাং এটি পরিপূর্ণ মোকাবেলা করা মার্কিন রাষ্ট্রপতির প্রথম দায়িত্ব।

লেখক- শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

/এসিএন