পরিবারের স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় করণীয়

Published: Tue, 13 Oct 2020 | Updated: Tue, 13 Oct 2020

মোঃ সজিব আহমেদ : মানুষের মৌলিক চাহিদার প্রথমে রয়েছে খাদ্য। মানুষের সবগুলো অঙ্গ সঞ্চালনের জন্য গ্রহণ করতে হয় খাদ্য। সুতরাং কেমন খাদ্য আর খাদ্যের সাথে কি গ্রহণ করছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক মানুষের অমানবিকতা ও লোভের সাথে সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ও মাটির উর্বরতা হ্রাস,পরিবর্তিত জলবায়ু আমাদের বিশাল জনসংখ্যার খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা চ্যালেন্জের মুখে ছুঁড়ে দিয়েছে।  

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অল্প জমিতে অধিক ফসল ফলাতে রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে। কৃষির মাঠ পর্যায়ে যা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যথেচ্ছ কৃষি ব্যবস্থার দরুন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। 

চলমান কৃষি প্রযুক্তি ও ব্যবস্থায় ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক উন্নত কৃষিতে অবশ্যই জরুরি তবে বাস্তবতা হলো এসবের অতিমাত্রার কারণে শরীরে বিরুপ প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। দেশের কৃষিতে নতুন নতুন প্রযুক্তি যোগ হলেও তার সঠিক ব্যবহারকল্পে সচেতনতা, ব্যবহার নিয়ম খুব কমই প্রচার প্রসার করা হয়। 

যে বিষয়টা বর্তমানে বেশি আলোচনা হচ্ছে তা হলো কীটনাশক ব্যবহার, সবার একটা বিষয়ে পরিস্কার ধারণা থাকা উচিত প্রতিটা কীটনাশকই বিষ আর বিষের একটা মেয়াদ আছে। ফসলে প্রয়োগের পর কীটনাশকের কার্যকারিতা শেষ হতেও অন্তত ৭-১৫ দিন সময় লাগে। এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে কৃষক সবচেয়ে কম সচেতন। 

ফসল চকচকে রাখতে কৃষক সকাল বিকাল এমনকি ফসল তোলার পরেও কীটনাশক স্প্রে করছে, ভোক্তার নিঃশর্ত দাগহীন, চকচকে ফসল পছন্দ এ বিষয়কে উস্কে দিচ্ছে। ফলে, অসহনীয় মাত্রার বিষ আমাদের শরীরে প্রবেশ করে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে  মানসিক বিকার,হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা, ডায়াবেটিস, উচ্চ, নিম্ন রক্তচাপ, ক্যানসারসহ নানাবিধ জটিল রোগের সৃষ্টি করছে। 

সাম্প্রতিক কালের বিভিন্ন ইনিস্টিটিউট, সংস্থার পরিসংখ্যান আর হাসপাতালে জটিল রোগীদের হুমড়ি খাওয়া ভীড় দেখলে বিষয়টি পরিস্কার হওয়া যায়। অর্থাৎ আমরা পরিমাণে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেও গুণগতমানে ঠিক উল্টোটা ঘটছে। 

এ সমস্যা সমাধানে মাঠ পর্যায়ে ভোক্তা, কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি যেমন জরুরি তেমনি তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদেরও প্রয়োজন প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দক্ষতার সাথে কাজ করা। তবে কৃষির সাথে জড়িত থাকার সুবাদে বলতে পারি এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করা চরম পর্যায়ের কঠিন কাজ সেক্ষেত্রে কৃষকদের একঘেয়েমি ও দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের অবেহেলা, অযোগ্যতা দায়ী। 

বাজারের উপর অতিনির্ভর না হয়ে যদি নিজেরাই বাড়ির ছাদে, বারান্দায়, উঠোনে, আঙ্গিনায় যেখানে সম্ভব নিজেদের সাধ্যমতো কৃষিকাজ করি, কিছুটা হলেও শরীরে দিনদিন জমতে থাকা রাসায়নিকের গুদাম কিছুটা হলেও লাঘব পাবে।

অনেকেই সেক্ষেত্রে নাক কুচকাবে, কিন্তু আপনার সুস্থ জীবন অসচেতন কৃষক, মধ্যস্বত্বভোগী সমাজের হাতে আর কত ছেঁড়ে দিয়ে রাখবেন? কৃষি অত্যন্ত সহজ কাজ নইলে আদিম মানুষের সভ্যতার যাত্রা কৃষি দিয়ে শুরু হতো না। 

প্রাচীন, অশিক্ষিত, অসভ্য মানুষ যদি টিকে থাকতে কৃষি কাজ করতে পারে আধুনিক, শিক্ষিত, সভ্য মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে সাধ্যমতো কৃষি কাজ করতে পারবে না? আপনার বাড়ির অব্যবহৃত জায়গায় উচ্ছিষ্ট অংশ দিয়েই আপনার কৃষি সম্পন্ন করতে পারেন, ইন্টারনেটের এই যুগে কোনো কাজই আর অসম্ভব নয় যদি আপনার ইচ্ছেশক্তি থাকে। 

ঘরোয়া কৃষিতে বাড়ির পরিবেশটা সুন্দর রাখার পাশাপাশি বিষমুক্ত ফলমূল শাকসবজি খাওয়ার ব্যবস্থা করে আপনার পরিবারকে রাখুন সুস্থ, সবল। 

লেখক : শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

আইআর /