মাহফুজুর রহমান খানের চিকিৎসা শুরু    

Published: Sat, 30 Nov 2019 | Updated: Sat, 30 Nov 2019

অভিযাত্রা ডেস্ক : গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীর গ্রীন লাইফ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন দশবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত খ্যাতিমান চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাতে তার ছোট ভাই হাবিবুর রহমান খান বেলজিয়াম থেকে দেশে ফেরার পর শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে তার ও পরিবারের সিদ্ধান্তে মাহফুজুর রহমান খানকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র চিত্রগাহক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মজনু। 

তিনি বিকেলে বলেন, ‌শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে তার ছোট ভাই ও পারিবারিক সিদ্ধান্তে মাহফুজুর রহমান খানকে রাজধানীর গ্রীন লাইফ হাসপাতাল থেকে দুুপরে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তাকে হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে রেখে আবার চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে মেডিসিনও দেয়া হচ্ছে। 

এদিকে, মাহফুজুর রহমান খান দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও ফুসফুসের রোগে ভুগছিলেন। রাজধানীর পুরান ঢাকার বাসায় গত ২৫শে নভেম্বর হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ৯টা নাগাদ তাকে গ্রীন লাইফ হাসপাতালে নেয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাকে। 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২৫শে নভেম্বর রাতে বাসায় খাবার খাওয়ার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার কাশির সঙ্গে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। মুহূর্তেই তিনি জ্ঞান হারান। স্বজনেরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখার পরামর্শ দেন। মাহফুজুর রহমান খানের স্ত্রী মারা যান ২০০১ সালে। তখন থেকেই ধীরে ধীরে তার অসুস্থতা বাড়তে থাকে। 

পেশাদার চিত্রগ্রাহক হিসেবে মাহফুজুর রহমান খান ১৯৭২ সালে প্রথম চলচ্চিত্রে কাজ করেন। তিনি আলমগীর কবির, আলমগীর কুমকুম, হুমায়ূন আহমেদ, শিবলি সাদিকদের মতো খ্যতিমান চলচ্চিত্র পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেন। বিশেষ করে হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত প্রায় সব চলচ্চিত্রের চিত্রগ্রাহক তিনি। ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘হাজার বছর ধরে’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘ঘেটুপুত্র কমলা’, ‘আগুনের পরশমণি’র মতো অসংখ্য জনপ্রিয় ছবির চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান। 

বরেণ্য এ চিত্রগ্রাহক ১৯৪৯ সালের ১৯শে  মে পুরান ঢাকার হেকিম হাবিবুর রহমান রোডের এক বনেদী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক আবদুল লতিফ বাচ্চুর শিষ্য তিনি। তার অধীনে সহকারী চিত্রগ্রাহক হিসেবে ১৯৭০ সালে ‘দর্প চূর্ণ’ ও ১৯৭১ সালে ‘স্মরলিপি’ চলচ্চিত্রে কাজ করেন। 

প্রধান চিত্রগ্রাহক হিসেবে তার প্রথম কাজ ১৯৭২ সালে আবুল বাশার চুন্নু পরিচালিত ‘কাঁচের স্বর্গ’। দশবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের পাশাপাশি তিনি আটবার বাচসাস পুরস্কারও অর্জন করেন।
 

/এসিএন