বনবিট কর্মকর্তার প্রশ্রয়ে মিঠাপুকুরে চলছে গাছ কাটার মহোৎসব

Published: Mon, 13 Jan 2020 | Updated: Mon, 13 Jan 2020

মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের মিঠাপুকুরে এক বনবিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বনের গাছ বিক্রিসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগী সদস্য ও ভূক্তভোগীরা বালুয়া মাসিমপুর হেলেঞ্চা বনবিট কর্মকর্তা আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন। 

হেলেঞ্চা বনবিভাগ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০০১-২০০২ অর্থ বছরে হেলেঞ্চা বনবিটের আওতায় ১৩টি মৌজায় নতুনভাবে ইউক্যালিপস্টাস ও আকাশমনির চারা রোপন করে বাগান সৃজন করে। ওই সময় আশপাশের গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদেরকে বনভূমি রক্ষায় উপকারভোগী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অনেককে আবার পাহারাদার নিয়োগ করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ওই বনবিভাগের মামুদেরপাড়া, আন্দরকোটা, গিলাঝুকি ও লোহাকুচি মৌজায় বাগানে নতুন করে গাছের চারা লাগানোর বরাদ্দ হয়। কিন্তু চারা না লগিয়ে পুরাতন বাগানের ভিতর নতুন বাগান দেখানো হয়েছে। এমনকি যে বাগানে চারা লাগানো দেখা হয়েছে, সেই বাগানে এখনও পুরাতন গাছ দৃশ্যমান রয়েছে। বনবিভাগের কর্তনকৃত গাছের মুড়া (গোড়া) বিক্রির নিয়ম না থাকলেও স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ীর কাছে কর্তনকৃত গাছের ১ হাজার ৯শ’টি মুড়া বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়াও নতুন করে সদস্য অন্তর্ভূক্ত করার জন্য ডিডের কপি দেয়ার কথা বলে জনপ্রতি ৫-৬ হাজার টাকা করে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকা নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন উপকারভোগী সদস্যরা।

সরেজমিনে চেংমারি ইউনিয়নের গিলাঝুকি মৌজায় গিয়ে দেখা যায়, সৃজনকৃত বাগানের গাছ কর্তন করার পর নতুন করে চারা লাগানো হলেও যত্নের অভাবে সব চারা মরে গেছে। কর্তনকৃত গাছের মুড়া তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেদারসে।

গিলাঝুকি মৌজার পুরাতন উপকারভোগী সদস্য ভূট্টু মিয়া, আব্দুল কাদের, মেহের আলী ও আনিচ অভিযোগ করে জানান, বিটকর্মকর্তা আব্দুর রহমান নতুন করে উপকারভোগী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে প্রায় ২ লক্ষাধিক নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ডিডের কপি হাতে পাননি তারা।

ছবি : অভিযাত্রা
কেটে ফেলা গাছের স্তূপ। ছবি : অভিযাত্রা

এছাড়াও বনের পুরাতন গাছ বিক্রির পর মুড়া বিক্রির নিয়ম না থাকলেও তিনি মুড়া প্রতি ২১ টাকা করে মোট ১ হাজার ৯ শ’টি মুড়া বিক্রি করেছেন। এর প্রতিবাদ করলে বনবীট কর্মকর্তা উল্টো তাদের বিরুদ্ধে গাছ চুরির মামলা দায়েরের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তারা আরও জানান, এই বিটকর্মকর্তা টাকা ছাড়া কিছুই বোঝেন না। পড়ে থাকা জমিতে উপকারভোগী সদস্যরা কোন শষ্য লাগালে তার ভাগ দিতে হয় এই বিটকর্তাকে। এরআগে অনেক বিট অফিসার এসেছিলেন কিন্তু, এরকম বিট অফিসার তারা জীবনেও দেখেননি।

নাম প্রকাশ না শর্তে এলাকাবাসীরা জানান, আগে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে বন চোরেরা গাছ কাটতে শুরু করতো। তারা রিকশা-ভ্যানযোগে আশপাশের কারাতকলসহ ফাঁকাস্থানে স্তূপ করে রাখতো। কিন্তু এখন দিনদুপুরে বিটকর্মকর্তার যোগসাজসে তাদের গাছ কাটার মহোৎসব চলছে। 

এ ব্যাপারে মোবাইলফোনে কথা হলে হেলেঞ্চা বনবিট কর্মকর্তা আব্দুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘যে গাছগুলো কাটা হচ্ছে সেগুলো ব্যক্তিগতভাবে লাগানো।’

কর্তনকৃত গাছের মুড়া বিক্রি ও সদস্যদের কাছে টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ‘কথা বলার সময় নাই’ বলে ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে শাল্টিগোপালপুর রেঞ্চ কর্মকর্তা মঞ্জুরুল করিম বলেন, ‘আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ অসেনি।’ বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এসএ/