ঠাকুরগাঁওয়ে আমন ধান বিক্রেতা চাষীদের লটারি!

Published: Mon, 02 Dec 2019 | Updated: Mon, 02 Dec 2019

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা: সরকার প্রকৃত আমন চাষীদের কাছ থেকে সরাসরি আমন ধান কেনার জন্য নির্দেশনা দিলেও ঠাকুরগাঁওয়ে ২০১৪ সালের চাষীদের নামের তালিকা দিয়ে লটারি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২রা ডিসেম্বর) সকাল ১১ টায় সদর ঠাকুরগাঁও উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে লটারির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ড কেএম কামরুজ্জামান সেলিম। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অরুনাংশু দত্ত টিটোর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। লটারী অনুষ্ঠানে জেলা শহরের বেশিরভাগ সংবাদকর্মী উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাবুল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিখিল কুমার রায়, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি সরকার আলাউদ্দীন, জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্জ তরিকুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃঞ্চ রায়  প্রমুখ।

লটারি 

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৬৮ হাজার ৬৪৮ জন ভাগ্যবান কৃষক নির্বাচনের জন্য সরাসরি লটারির আয়োজন করতে চাইলে উপস্থিত সংবাদকর্মীরা জানতে চান “সরকারি খাদ্যগুদামে সরাসরি ধান বিক্রির সুবিধা পাবেন কোন কৃষক। যারা এবার আমন ধান চাষ করেছেন নাকি যাদের অনেকে কৃষি ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছে। 

জবাবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃঞ্চ রায় জানান, সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষিকার্ড ছাড়া সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ নেই। আর সর্বশেষ কৃষি কার্ড দেওয়া হয়েছে ২০১৪ সালে। এতে কৃষির সাথে জড়িত যেসব কৃষক কৃষি কার্ড পায়নি বা পরবর্তী ৫ বছর কৃষিতে জড়িয়েছেন তাদের লটারিতে নাম আসার সুযোগ নেই। এ অবস্থায় সংবাদকর্মী ও উপস্থিত কৃষকদের তোপের মুখে পড়েন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত বেশিরভাগ উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন দায়িত্বে অবহেলাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।সেই সাথে লটারিতে তালিকাভুক্ত কৃষক ছাড়া মধ্যস্বত্তভোগী কোন ব্যবসায়ী যাতে কৃষকদের তালিকা হাতিয়ে নিয়ে খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির সুয়োগ না পায় সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আইআর/