আড়াই মাস আটকে রেখে ছাত্রীকে ধর্ষণ, শিক্ষক আটক

Published: Fri, 16 Oct 2020 | Updated: Fri, 16 Oct 2020

গাজীপুর সংবাদদাতা: গাজীপুরে কম খরচে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেয়ার কথা বলে হতদরিদ্র পরিবারের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৩) আটকে রেখে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। র‌্যাবের দাবি ওই ছাত্রীকে আড়াই মাস ধরে একটি কক্ষে রেখে ধর্ষণ করে শিক্ষক আসাদুজ্জামান (৩৫)।

র‌্যাব-১ এর গাজীপুরের পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের সদস্যরা বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার এবং কিশোরীকে উদ্ধার করেছে। 

আটক মাদ্রাসা শিক্ষক আসাদুজ্জামান খুলনার কসবা থানার উত্তর বেতকাশি এলাকার মোবারক আলীর ছেলে। তিনি শ্রীপুর উপজেলার ধলাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক।

র‌্যাব জানায়, গত ২ আগস্ট গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ সালনা এলাকার ভাড়াটিয়া অধিবাসী হতদরিদ্র পরিবারের ওই ছাত্রীকে ধলাদিয়া মাদ্রাসার কম খরচে ভর্তি করে দেয়ার কথা বলে ধলাদিয়া এলাকায় নিয়ে যায়। পরে ভিকটিমকে মাদ্রাসায় ভর্তি না করে ওই এলাকার তার (শিক্ষকের) ভাড়া বাসার একটি কক্ষে বন্দি রাখে।  ভিকটিম ও তার পিতার জীবন নাশের হুমকি দিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দিনের পর দিন তাকে ধর্ষণ করে আসছিল এবং ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে।

এদিকে বিভিন্ন সময় ভিকটিমের পিতা ওই মাদ্রাসার শিক্ষকের মোবাইল ফোনে মেয়ের খোঁজখবর জানতে চাইলে মেয়ে ভাল আছে এবং লেখাপড়া নিয়ে অনেক ব্যস্ত আছে বলে জানাত শিক্ষক আসাদুজ্জামান। ভিকটিমের পিতার সন্দেহে হওয়ায় মেয়ের খোঁজখবর নিতে ধলাদিয়া মাদ্রাসায় যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারে তার মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি না করে ওই শিক্ষক ধলাদিয়া এলাকার একটি কক্ষে বন্দি রেখে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে আসছে। পরে ভিকটিমের পিতা মেয়েকে উদ্ধারের জন্য র‌্যাব-১ গাজীপুর কার্যালয়ে গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে আইনগত সাহায্য কামনা করে। 

র‌্যাব আরো জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের কোম্পানী কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সালনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসাদুজ্জামানকে আটক করা হয়। এ সময় তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী ধলাদিয়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ রুম থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।

-এমজে